গ্রীষ্মকালে পিঠে ঘামাচি হয়েছে ? এই ঘরোয়া উপায় দ্রুত আরাম দেবে
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম ও ত্বকে আর্দ্রতা জমার কারণে পিঠে ঘামাচি হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা । এর ফলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি হতে পারে ।

Published : June 20, 2026 at 6:36 PM IST
গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম এবং ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে । দীর্ঘ সময় ধরে ঘামে ভেজা কাপড় পরে থাকলে 'হিট র্যাশ' বা ঘামাচি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় । পিঠ, ঘাড় ও বুকের মতো শরীরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট লাল দানার মতো র্যাশ দেখা দেয় এবং এর সঙ প্রায়শই চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় । মূলত, ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ঘাম বের হতে পারে না, যারফলে এই ঘামাচির সৃষ্টি হয় । যদিও এটি কোনও গুরুতর সমস্যা নয়, তবুও সময়মতো যত্ন না নিলে অস্বস্তি ও ত্বকের জ্বালা বেড়ে যেতে পারে ।
ঘামাচি থেকে স্বস্তি পাওয়ার উপায়:
অ্যালোভেরা জেল: ঘামাচি থেকে স্বস্তি পেতে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে । এটি ত্বককে শীতল রাখে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে । আক্রান্ত স্থানে তাজা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে 15-20 মিনিট রেখে দিন এবং এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । দিনে দু'বার এটি ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায় ।
চন্দনের পেস্ট: ত্বকে শীতল অনুভূতি বা আরামদায়ক প্রভাবের জন্য চন্দন পরিচিত । ঘামাচির কারণে সৃষ্ট চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতে চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন । আক্রান্ত স্থানে এই পেস্টটি লাগান এবং শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন । এটি ত্বককে শীতল রাখে এবং ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে ।
ঠান্ডা জলের সেঁক: ঘামাচির কারণে যদি তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হয়, তবে ঠান্ডা জলের সেঁক আরাম দিতে পারে । একটি পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে কয়েক মিনিটের জন্য চেপে ধরুন । এটি ত্বককে শীতল করে এবং জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে । খেয়াল রাখবেন যেন সরাসরি ত্বকে বরফ লাগানো না হয়, কারণ এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে ।
নিম জল: ত্বকের জন্য নিম অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয় । ঘামাচির সমস্যা থেকে আরাম পেতে জলে কিছু নিম পাতা ফুটিয়ে নিন । জল ঠান্ডা হয়ে গেলে তা দিয়ে আক্রান্ত স্থানটি পরিষ্কার করুন । এটি ত্বককে আরাম দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় ।
ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন: ঘামাচি প্রতিরোধ এবং দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য সঠিক পোশাক নির্বাচন করা জরুরি । গ্রীষ্মকালে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার চেষ্টা করুন ৷ এতে ত্বকে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায় । খুব আঁটসাঁট বা সিন্থেটিক পোশাক পরলে ঘামাচির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে । এছাড়া, ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন ।
ঘামাচি হলে যেসব বিষয় এড়িয়ে চলবেন: আক্রান্ত স্থানে বারবার চুলকাবেন না, কারণ এতে জ্বালা বাড়তে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে । খুব আঁটসাঁট বা সিন্থেটিক পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো ঘাম বাড়ায় এবং সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে । দীর্ঘ সময় ধরে রোদ বা গরমে থাকবেন না । ঘামাচির ওপর সরাসরি বরফ লাগানো এড়িয়ে চলুন । এছাড়া, ঘামে ভেজা পোশাক বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না; ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা অত্যন্ত জরুরি ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

