উত্তর ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, বাহরিন-কুয়েতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র দাগল তেহরান
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অব্যাহত প্রতিশোধমূলক হামলা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধ এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

Published : July 16, 2026 at 12:41 PM IST
দুবাই, 16 জুলাই: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে ৷ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার হামলা জোরদার করেছে এবং উত্তরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে ৷ একই সময়ে মার্কিন বাহিনী এমন একটি জাহাজের উপর হামলা চালায় যা ইরানের উপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে তেহরান ভোর হওয়ার আগেই বাহরিন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় বিমান হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে নিশ্চিত করেছে যে, উত্তর ইরান-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রাতভর বিমান হামলা হয়েছে। এর জবাবে ইরান বাহরিন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত প্রতিশোধমূলক হামলা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধ এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় বেশ কয়েকদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-জবাবি হামলা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যুদ্ধ বন্ধের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন সমগ্র অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধের হুমকি আবারও বেড়ে গিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় এ পর্যন্ত 35 জনেরও বেশি নিহত এবং 300 জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর বলেছেন, বর্তমানে চলা সংঘাতে এটিই প্রথম সরকারিভাবে প্রকাশিত মোট সংখ্যা। তবে, নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন সৈন্য অন্তর্ভুক্ত, তা তিনি বলেননি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে 388তম যান্ত্রিক পদাতিক ব্রিগেডের ব্যারাকে একটি মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় প্রশিক্ষণার্থী ও নিয়মিত সৈন্য-সহ অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা রাতভর কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দিনের বেলাতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গভীর রাতে তৃতীয় দফা হামলা চালানো হয়, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের গতি বাড়িয়েছে।
সেন্টকমের তথ্যমতে, কুরাকাও-পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘বেলমা’ খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটিকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হলেও সেটি আদেশ মানেনি। এরপরে, মার্কিন বিমান একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজটির চিমনিতে হামলা চালিয়ে সেটিকে অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও সতর্ক করা হয়েছিল, যারা নির্দেশ মেনে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত এলাকা হিসেবে বিবেচিত বৃহত্তর তুনব দ্বীপেও হামলা চালায়। সেন্টকমের তথ্যমতে, এই অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে, 28 ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল, সার এবং আরও অনেক পণ্যের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায় এবং ইরান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য চাপ প্রয়োগের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে ৷
ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্তগুলি মেনে না চললে ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত ‘ইরানি ব্যবস্থা’ অন্তর্ভুক্ত ছিল৷ কিন্তু, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনি ও কূটনৈতিক সব পথ শেষ করে সেগুলি জোর করে বাতিল করার চেষ্টা করছে। গালিবফ আরও জানান, আলোচনার অর্থ আত্মসমর্পণ নয়, বরং এটি প্রতিরোধের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তার এই বক্তব্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধী সমালোচকদের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

