ETV Bharat / international

হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে থাকা 'অপরাধ', সাকিবের বাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা

ঘটনাটি বুধবার রাত পৌনে 9টার দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় সাকিবের পৈতৃক বাড়িতে ঘটে। ভাঙচুর চালানো হয় প্রাক্তন এই আওয়ামী লীগ এমপির বাড়িতে ।

SHAKIB AL HASAN
সাকিব আল হাসান (সোশাল মিডিয়া স্ক্রিনশট)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 6, 2026 at 7:36 AM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি/ঢাকা, 6 অগস্ট: নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরেই সেদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা ৷

ঘটনাটি বুধবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে 9টার দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় সাকিবের পৈতৃক বাড়িতে ঘটে। ভাঙচুরও চালানো হয় প্রাক্তন এই আওয়ামী লীগ এমপির বাড়িতে । পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির দক্ষিণ দিকের লোহার গেটের উপরের অংশে পেট্রল বোমাটি ছোড়া হয়েছিল।

foreign ministry
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি (সোশাল মিডিয়া স্ক্রিনশট)

খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে 'ঢাকা ট্রিবিউন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারা এই হামলার জন্য দায়ী, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন বলেন, "আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। এটি আদৌ পেট্রল বোমা ছিল কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।"

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই এই ঘটনাটি ঘটে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, "বাসভবনে অগ্নিসংযোগ: আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মাশুল। বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের গ্রাস।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "বিশ্বখ্যাত তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাসভবনে ভয়াবহ পেট্রল বোমা হামলা চালানো হয়। তার আগেই বিএনপি, ইসলামপন্থী জামায়াত এবং এনসিপি প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমগুলিকে হুমকি দিয়েছিল, হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে মামলা করা হবে।"

ভার্চুয়াল বক্তব্যে হাসিনা ঘোষণা করেন , তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বলেন, "গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই চেষ্টায় গ্রেপ্তার, এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হতেও তৈরি। আমার ফিরে আসা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা ৷" 78 বছরের হাসিনা দেশে ফিরলে যে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন, তা তিনি স্বীকার করেন। বলেছেন, "আমি জানি, তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে বা হত্যাও করতে পারে ৷ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফিরব। বাংলাদেশে যাবই।"

দীর্ঘ সময় চলা আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর 2024 সালের 5 অগস্ট ঢাকা থেকে পালিয়ে যান হাসিনা ৷ তখন থেকে তিনি ভারতে ছিলেন ৷ গত নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ৷ 2024 সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সরকারের দমনপীড়নের ঘটনায় 'মানবতাবিরোধী অপরাধে'র অভিযোগে তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। ওই রায়ের পর থেকেই তাঁকে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) জন্য বারবার ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।