ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 3889, আহত প্রায় 17 হাজার
বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা 3811 থেকে বেড়ে 3889 জন হয়েছে। 18 হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 800টিরও বেশি বাড়ি ও বহুতল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷

By AFP
Published : July 10, 2026 at 10:08 AM IST
কারাকাস, 10 জুলাই: ভেনেজুয়েলায় দুই সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 3889 জনে দাঁড়িয়েছে এবং 17 হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
গত 24 জুন আঘাত হানা 7.2 এবং 7.5 মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রায় 17 হাজার মানুষ আহত হন এবং প্রায় 18 হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোরহে রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা 3811 থেকে বেড়ে 3889 জন হয়েছে। পরপর হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনগুলির কারণে অনেক বাড়ি, বহুতল ধসে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই জোড়া ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি, 18 হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা বা ভূমিকম্পে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
আইএমএফ-এর মুখপাত্র জুলি কোজাকের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি তাদের অবরুদ্ধ আর্থিক সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে। দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরায় 800টিরও বেশি বাড়ি ও বহুতল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং 190টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। দুর্যোগের দুই সপ্তাহ পর যখন উদ্ধারকারী দলগুলি জীবিতদের সন্ধানের কাজ গুটিয়ে নিচ্ছে, তখনও কিছু পরিবার তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েননি। রাষ্ট্রসংঘের অনুমান অনুযায়ী, প্রায় 50 হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকতে পারেন। এই মানুষদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও সবকিছু হারিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষেরা এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই রাস্তায়, পার্কে বা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন। পানীয় জল, ওষুধের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই মানুষদের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নিরন্তর সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে ৷ কিন্তু, জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

