দীপাবলির আবহে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের তীব্র নিন্দা ব্রিটেনের সংসদে
ব্রিটেনের সংসদের নিম্নকক্ষে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন বিরোধী দলের সাংসদ ৷ এই অত্যাচারের নিন্দায় সরব সরকার ৷

By PTI
Published : October 18, 2025 at 7:41 PM IST
লন্ডন, 18 অক্টোবর: পড়শি দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করল ব্রিটিশ সরকার ৷ আলোর উৎসব দীপাবলিতে সারা পৃথিবীতে হিন্দু-সহ অন্যান্য সম্প্রদায় আনন্দে মেতে উঠবেন ৷ কিন্তু বাংলাদেশের ছবিটা এরকম নয় ৷ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে হিন্দু-সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সাংসদ ৷ এরপর হাউজ অফ কমনস-এ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার নিন্দায় একটি বিবৃতি পেশ হয় ৷
সারা বিশ্বে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ দীপাবলি উদযাপন করবেন ৷ কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয় ৷ ব্রিটেনের সংসদের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ কমনস-এ এই বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান ৷ তিনি ব্রিটিশ-হিন্দুদের 'অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ' (এপিপিজি)-র প্রধান ৷
সাংসদ বাংলাদেশে হিন্দু-সহ অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট তুলে ধরেন ৷ 'ইনসাইট ইউকে' নামের একটি ব্রিটিশ সংস্থার এই সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর কীভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়, তা প্রকাশ করা হয়েছে ৷
Diwali is a time of celebration, where light triumphs over darkness.
— Bob Blackman (@BobBlackman) October 16, 2025
However, Hindu's in Bangladesh will not be celebrating. They face persecution, violence, and the destruction of their temples and homes.
I’ve called on the Govt to take action on this. pic.twitter.com/SwAKYjKcS0
সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, "দীপাবলি উদযাপনের সময় ৷ যেখানে অন্ধকারকে ছাপিয়ে আলোর জয় ৷ যদিও বাংলাদেশে হিন্দুরা এই উদযাপন করতে পারবেন না ৷ তাদের উপর নিপীড়ন চলছে ৷ তাদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা ঘটছে ৷ তাদের মন্দির থেকে বাড়িঘর সবকিছু ধ্বংস করা হচ্ছে ৷ আমি এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় ৷"
এর পরিপ্রেক্ষিতে লেবার পার্টি সরকারের তরফে হাউজ অফ কমনস-এর নেতা স্যর অ্যালান ক্যাম্পবেল বলেন, "আমরা সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি এই ধরনের ঘৃণা বা হিংসার ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি ৷ বাংলাদেশের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছি এবং করছিও ৷ একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সরকার গড়ার জন্য আমরা অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সমর্থন জানাচ্ছি ৷ বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার্থে আমরা গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷"
যদি স্যর অ্যালান ক্যাম্পবেল পরিষ্কার করেননি যে, ব্রিটিশ সরকার বা তার কোনও মন্ত্রী বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে কী পদক্ষেপ করবে ৷ হাউজের নিয়মিত 'বিজনেস অফ দ্য হাউজ' সময়ে সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, "আগামী সপ্তাহে, হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধরা দীপাবলি উদযাপন করবেন ৷ হিন্দুদের নতুন বছরের সূচনা হবে ৷ এটা একটা উৎসবের সময় ৷ সবাই আনন্দ করবে ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে তা হবে না ৷"
তিনি আরও বলেন, "মঙ্গলবার অল 'অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর ব্রিটিশ হিন্দুজ'-এ আমরা ইনসাইট ইউকে-র একটি রিপোর্ট পাই ৷ সেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হিংসার ঘটনার কথা বলা হয়েছে ৷ তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে ৷ মন্দিরগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সম্পত্তি জ্বালিয়ে দিচ্ছে ৷"
হাউজ অফ কমনস-এ বব প্রশ্ন তোলেন, "বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা চরম নিষ্পেষণের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ৷ তাদের সুরক্ষা দিতে আমরা কী পদক্ষেপ করব ৷ এই বিষয়ে সরকারের মন্ত্রী কোনও বিবৃতি দেবেন কি ?" বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ লন্ডনের হ্যারো ইস্ট কেন্দ্রের সাংসদ ৷ এই এলাকায় হিন্দুদের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য ৷ এর আগে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই বিষয়টিও তিনি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন ৷

