রাতভর ইরানের 80টি জায়গায় মার্কিন হামলা, 'চুক্তি শেষ'; ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই শেষ হল ৷ আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড হামলা চালাল ইরানের 80টি জায়গায় ৷ জবাবে ইরান আক্রমণ শানায় বাহরিন ও কুয়েতে ৷

Published : July 8, 2026 at 3:13 PM IST
তেহরান, 8 জুলাই: ফের ইরান-আমেরিকা সংঘাতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ! বুধবার ভোরে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের 80টি জায়গাকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ৷ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে ৷ তার জবাবে এই ব্যাপক হামলা ৷
এদিকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, "ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি শেষ হয়েছে ৷" এদিকে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি ৷ গত 28 ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় প্রয়াত ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার জন্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা বন্ধ ছিল ৷

আমেরিকার হামলার জবাবে বাহারিন ও কুয়েতে আমেরিকার সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ৷ রাতভর হামলা, পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের লোকজনকে 'মিথ্যাবাদী, প্রতারক এবং অসুস্থ' বলে আক্রমণ করেছেন ৷ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের পাশ বসে ট্রাম্প বলেন, "আমি মনে করি, এটা শেষ হয়ে গিয়েছে ৷"
এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, "ওরা আলোচনায় বসতে পারে, কিন্তু সেটাও শুধু সময় নষ্ট করা হবে ৷" ইরানে হামলার পাশাপাশি তেল বিক্রিতেও ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন ৷
আমেরিকার এই হামলাকে গুরুতর মউ চুক্তি লঙ্ঘন বলে দাগিয়েছেন ইরানের স্পিকার এমবি ঘালিবাফ ৷ সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, "প্রণালীতে অনবরত ইরানের সঙ্গে সমঝোতা লঙ্ঘন থেকে ক্রমাগত হামলার হুমকি, তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং দক্ষিণ ইরানে হামলা ৷ ইহুদিদের আগ্রাসন অবিরাম চলছে ৷ ভয় দেখিয়ে জবরদস্তি আধিপত্য বিস্তারের যুগ শেষ হয়েছে ৷ আমরা মাথা নত করব না ৷"

বৃহস্পতিবার ইরানের সুপ্রিম নেতা খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শেষ হওয়ার কথা ৷ আশা করা হয়েছিল, এরপর দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হবে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার সমাধান হবে ৷ কিন্তু তার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৷ এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে ৷
এই সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি হয়তো আমেরিকার তরফে মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলবেন ৷ এই দু'জন ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়টি সামলাচ্ছেন ৷ কিন্তু একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জোর দেন, তেহরানকেই আলোচনার টেবিলে আসতে হবে ৷
তিনি বলেন, "আমার যতদূর মনে হয়, ওদের সঙ্গে কথা বলা মানে সময় নষ্ট করা ৷ ওরা মিথ্যাবাদী ৷" গত 17 জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বিষয়ে যে শর্তাবলী গৃহীত হয়েছিল, সেই সব শর্ত বারবার ভেঙেছে ইরান, অভিযোগ ট্রাম্পের ৷ তিনি ফের বলেন, "সবাই বলেছিল, ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না ৷ আমরা একটা চুক্তি করলাম ৷ ওরা বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মজা করল ৷ ওরা বলল, আমরা নাকি কখনও এইসব বলিইনি ৷ ওদের কিছু একটা গোলমাল আছে ৷ ওরা অপদার্থ ৷"

