ETV Bharat / international

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক চিরস্থায়ী, ঢাকার উদ্বেগের জবাবে স্পষ্ট বার্তা নয়াদিল্লির

বাংলাদেশে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ভারতে বসে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন শেখ হাসিনা ৷ ঢাকার অভিযোগের এবার জবাব দিল নয়াদিল্লি ৷

INDIA BANGLADESH TIES
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক (প্রতীকী ছবি)
author img

By PTI

Published : December 15, 2025 at 10:40 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ঢাকা, 15 ডিসেম্বর: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী নয় ৷ রবিবার ঢাকার তলবের কয়েকঘণ্টার মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা ৷ এদিন ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং চিরস্থায়ী ৷ রক্তক্ষয় ও ত্যাগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে দুর্বল করা যায় না ৷"

নির্বাচনের আগে ভারতে বসে উস্কানিমূলক মন্তব্য় করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এমনই অভিযোগ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ৷ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারতীয় কূটনীতিকদের ডেকে পাঠানো হয় ঢাকার তরফে ৷ সেই প্রসঙ্গে এদিন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা জানান, 1971 সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারত ৷ এখনও আছে আর আগামী দিনেও থাকবে ৷ প্রতিবেশী দেশটিতে গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নতির লক্ষ্যে নয়াদিল্লি সর্বদা তার সমর্থন বজায় রেখে চলবে ৷

এদিন, 16 ডিসেম্বর বিজয় দিবসের 54তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ৷ 1971 সালের বিশেষ এই দিনে পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশের ৷ সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রণয় ভার্মা বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের সময় অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত ৷ বাংলাদেশে সত্য, ন্যয়বিচার, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে সমর্থন করা হয়েছে ৷ 1971 সালের পর দুই দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে ৷ বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল ৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার 54 বছর পর দুই দেশের যুব সমাজকে বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না ৷"

গত বছর অগস্টে ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামী লীগের নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী 78 বছর বয়সি শেখ হাসিনা ৷ 5 অগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নেন মুজিব কন্যা ৷ এরপর চলতি বছরের 17 নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD) শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করে ৷ বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফাঁসির সাজা দেয় আদালত ৷ সাজা ঘোষণার পর থেকে তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য় নয়াদিল্লির কাছে বেশ কয়েক আর্জি জানায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার ৷ এরপর কেটে গিয়েছে অনেকটা সময় ৷ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনও ঘোষণা করা হয়েছে ৷

এদিকে ভারতে বসে নিজের বক্তব্য় স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ তাঁর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রবিবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তলব করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের তরফে ৷ বিবৃতিতে বলা হয়, "আগামী সংসদ নির্বাচন পণ্ড করার অসাধু উদ্দেশ্যে এবং বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে ভারতে বসে ক্রমাগত উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন পলাতক শেখ হাসিনা ৷ আসন্ন নির্বাচনে তাঁর দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন । এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে ৷"

বিবৃতি আরও বলা হয়, "ফ্যাসিবাদী এই সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং দ্রুত তাঁদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে ভারত সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ।" উল্লেখ্য, আগামী 12 ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ৷ অবশ্য়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রত্যাখ্যান করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছে ।

পড়ুন: নির্দল প্রার্থীকে গুলি, ভোট ঘোষণার পর লাগাতার হিংসা বাংলাদেশে