পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা-ভাঙচুর, গুলিতে মৃত 22
মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

By PTI
Published : March 1, 2026 at 5:33 PM IST
|Updated : March 2, 2026 at 1:42 PM IST
করাচি, 2 মার্চ: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ৷ এই ঘটনায় পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে 22 জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ৷ 120 জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে । দেশের উত্তরাঞ্চলে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রসংঘ এবং সরকারি অফিসেও হামলা চালায় বলে খবর । শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভ শুরু হয় ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, 50 জনকে সিভিল হাসপাতালে আনা হয়েছিল ৷ তাদের মধ্যে 10 জন মৃত ছিল ৷ বাকি কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল ৷ কিছু দেহের শরীরে গুলি লেগেছে বলে দাবি করছেন চিকিৎসকরা ৷ ইরানে ইজরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বিক্ষোভকারীরা আমেরিকার কনস্যুলেট ভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তায় জড়ো হতে শুরু করে ।
সুমাইয়া সৈয়দ বলেন, "হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে প্রায় 30 জন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে । আহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন ৷" শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক এসএসপি আসাদ রেজা বলেন, জনতা পুলিশের উপর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের শেল এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে ।
পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করছে লাঠিচার্জও করে ৷ বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায়। এদিন সকালে কনস্যুলেটের চারপাশে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিল ৷ তারা যখন মার্কিন কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করছিল তখনই পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খামেনেইর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ৷ ইরানের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। পাক প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই শোকের মুহূর্তে পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে ৷ তাদের ক্ষতির অংশীদার আমরাও।"
সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লঙ্গার করাচির অতিরিক্ত আইজির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন, "কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।" তিনি সংবেদনশীল স্থানগুলিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভের সময় যান চলাচল বজায় রাখার জন্য বিকল্প রুট নির্ধারণ করা উচিত।
মন্ত্রী আরও বলেন, "আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ সতর্ক এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ৷" মন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, পুরো ঘটনাটি নিশ্চিত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ৷ তবে কনস্যুলেটের পাহারায় থাকা মার্কিন মেরিনদের দ্বারা নিহতদের আঘাতের অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছেন।
তিনি বলেন, "বিক্ষোভকারীরা হিংস্র হয়ে উঠেছিল ৷ কনস্যুলেটের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হয় ৷ তাদের কাজই ছিল হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো ৷ এর জেরে পুলিশকে সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে ৷"
মার্কিন কনস্যুলেট যথেষ্ট সুরক্ষিত এলাকা ৷ বিক্ষোভকারীরা আচমকাই খুব হিংস্র হয়ে ওঠে ৷ এমনকী কনস্যুলেটের অ্যাম্বুলেন্সগুলিতেও হামলা চালানো হয় ৷ কনস্যুলেটে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন ৷ ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা করাচি এবং লাহোরে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের সামনে বিক্ষোভের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করছি ৷ পাশাপাশি ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং পেশোয়ারে কনস্যুলেট জেনারেলের সামনেও বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করছি।"
খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে সিয়া সংগঠনগুলি করাচির মার্কিন কনস্যুলেট অভিযানের ঘোষণা করেছিল ৷ ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, নুমাইশ চৌরঙ্গীর দিকে যাওয়ার পথগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৷ গাড়ির জন্য বিকল্প রাস্তা খোলা হচ্ছে। এদিকে, খামেনেইর হত্যার পর রবিবার ইসলামাবাদ এবং লাহোরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গিয়েছে।

