সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতা নয়, একযোগে কাজ করতে হবে; এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানকে খোঁচা মোদির
কিরগিজস্তানের বিশকেক-এ এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর ভাষণে সন্ত্রাসবাদকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ পাক-প্রধানমন্ত্রীর সামনেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দিলেন ৷

By PTI
Published : September 1, 2026 at 5:04 PM IST
বিশকেক (কিরগিজস্তান), 1 সেপ্টেম্বর: যে সব দেশ সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করেছে, সেই সব দেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দ্বিচারিতা চলবে না ৷ সন্ত্রাসে আর্থিক মদত ও নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে ৷
মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে রাজধানী বিশকেক-এ সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানকে খোঁচা মেরেই এহেত মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তাঁর এই বক্তৃতার সময় সামনের সারিতেই বসেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা ৷
সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের বাস্তুতন্ত্রকে নির্মূল করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ দমনের পাশাপাশি এতে আর্থিক মদত দেওয়া, জঙ্গি নিয়োগ, মৌলবাদ এবং তাদের আশ্রয় দিয়ে জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলছে যেসব দেশ, তাদের বিরুদ্ধে এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ৷
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করুন। একটি যুদ্ধ শেষ করে অন্য যুদ্ধ না-করে, চিরতরে যুদ্ধটাকেই শেষ করুন। বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এমনই পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে এদিন একান্তে বৈঠক সারেন এই দুই নেতা ।
পশ্চিম এশিয়ার হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ আলোচনা ও কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে ৷ যুদ্ধ কোনও সমাধান হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি ৷ এদিন বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে জানান, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী প্রজেক্টগুলি নির্মাণের সময় প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন ৷ কারণ, এটাই এসসিও চার্টারের মৌলিকত্ব ৷ বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, তিনি চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-কে কটাক্ষ করে এই মন্তব্য করেছেন ৷ কারণ, চিনের বিআরআই প্রজেক্টের কিছু অংশ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-র মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ৷
এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা এবং তা যে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷ তিনি বলেন, "সন্ত্রাসবাদ সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ দমনের বিরুদ্ধে আমরা আক্রমণ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারি না ৷ সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত, নিয়োগ, মৌলবাদ এবং তাদের স্বর্গরাজ্য গড়ে দেওয়া- আমাদের এই পুরো বাস্তুতন্ত্রটাই ধ্বংস করে দিতে হবে ৷ আমাদের একটিই স্বর এবং তা পরিষ্কার, এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই ৷"
তিনি আরও বলেন, "দেশগুলির প্রতি আমাদের শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে, সন্ত্রাসবাদকে নীতি হিসাবে ব্যবহার করা চলবে না ৷ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মদত দেওয়া কারও কৌশল হতে পারে না ৷"
পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই সংঘাত একটা বিষয় বুঝিয়ে দিয়েছে ৷ কোনও একটি অঞ্চলে সংঘর্ষ বাধলে তা শুধু সেই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না ৷ সারা বিশ্বে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ৷ তাঁর কথায়, "আজকের বিশ্বে ভিতরে ভিতরে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ৷ নিরাপত্তার সুবিধা আরও প্রসারিত হয়েছে ৷ পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত হলে, তা কেবল ওই অঞ্চলে আটকে থাকে না ৷ সমগ্র বিশ্বে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় ৷ শক্তিসম্পদের নিরাপত্তায় প্রভাব পড়ে, সমুদ্র বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেন-ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৷ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত দেশগুলির উপর এই ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ৷ তাই ভারত বারবার সংঘাত ও অশান্তির সমাধান খুঁজতে যুদ্ধ নয়, আলোচনা ও কূটনৈতিক পথের কথা জানিয়ে এসেছে ৷ "
শান্তিপূর্ণ ইউরেশিয়ার কথা বলতে গিয়ে আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ তিনি বলেন, "একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়া গড়ার বিষয়টির সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিরতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ৷"

