'মোদি আমার উপর খুশি নন', ট্রাম্পের এমন দাবি ঘিরে শুরু জল্পনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার শুল্কের আগ্রাসী ব্যবহারের পক্ষে সাফাই দিয়ে জানান, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য ৷

Published : January 7, 2026 at 3:11 PM IST
ওয়াশিংটন, 7 জানুয়ারি: ফের একবার ট্রাম্পের মুখে মোদির নাম ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর উপর সন্তুষ্ট নন ৷ কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্পের দাবি, বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে বলেই নরেন্দ্র মোদি তাঁর উপর খুশি নন ৷
ট্রাম্প শুল্কের আগ্রাসী ব্যবহারের পক্ষে সাফাই দিয়ে জানান, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য ৷ এটি আমেরিকার জন্য একটি প্রধান রাজস্ব উৎস হিসেবে কাজ করে ৷ একই সঙ্গে মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয় দেশের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা দূর করবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এরপরই তিনি বলেন, "ভারত 68টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছে ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ৷ তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে তিনি আমার উপর খুব একটা খুশি নন ৷ কারণ, তারা এখন অনেক বেশি শুল্ক দিচ্ছে ৷ কিন্তু এখন তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ যথেষ্ট কমিয়ে দিয়েছে ।"
মঙ্গলবার হাউস রিপাবলিকান মেম্বার রিট্রিট কর্মসূচিতে ট্রাম্প বলেন, "স্যর, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ৷ মোদির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ।" তবে ট্রাম্পের দাবি, "তেলের উপর শুল্ক আরোপের কারণে বর্তমানে মোদি আমার উপর অখুশি।"
রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতের উপর অতিরিক্ত 25 শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৷ এর ফলে আমেরিকায় ভারতের পণ্যে মোট শুল্ক হয় 50 শতাংশ ৷
অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে উপহাস করে ট্রাম্প বলেন, "ইমানুয়েল আমাকে বলেছিলেন, ডোনাল্ড আপনার সঙ্গে একটি চুক্তি আছে । আমি ওষুধের দাম 200 শতাংশ বা তারও বেশি বাড়াতে চাই । আপনার যেটা ইচ্ছে করতে পারেন ৷ তবে দয়া করে জনগণকে বলবেন না ৷ আমি আপনাকে অনুরোধ করছি । প্রতিটি দেশ এই একই কথা বলেছে ৷"
বিদেশি রাষ্ট্র নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প শুল্কের আগ্রাসী ব্যবহারের পক্ষে যুক্তিও দেন ৷ তিনি বলেন, "আমি বিনিময়ে যা দাবি করছি, তার চেয়ে 42 গুণ বেশি শুল্ক আপনাদের উপর আরোপ করছি ।" ট্রাম্প তাঁর এই পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিশেষভাবে চিনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আপনাদের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, যেমনটা আমি ফেন্টানিলের ক্ষেত্রে চিনের উপর করেছি । আমি চিনের উপর 20 শতাংশ শাস্তিমূলক কর আরোপ করেছি ৷ এই কর ফেন্টানিলের দামের চেয়ে অনেক বেশি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, শুল্ক ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করছে। তিনি বলেন, "শুল্কের কারণে আমাদের দেশে 650 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ আসবে।" ট্রাম্প আরও বলেন, শুল্ক আরোপের ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল উন্মোচিত হয়েছে । তিনি বলেন, "আমরা 39 বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে ছিলাম। আমরা 650 বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে সেই ঘাটতি পূরণ করেছি ।" তিনি এও দাবি করেন, মার্কিন চাপের কারণে বিদেশি সরকারগুলো ওষুধের দাম পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে ৷

