ETV Bharat / international

71 এখন অতীত ! অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত পাক যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ

2024 সালের 5 অগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কাছাকাছি আসতে থাকে ৷ এবার পাকিস্তানের থেকে যুদ্ধ বিমান কিনছে ঢাকা ৷

Pakistan and Bangladesh Relation
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক (ফাইল ছবি)
author img

By PTI

Published : January 7, 2026 at 8:22 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

লাহোর, 7 জানুয়ারি: দূরত্ব ঘুচিয়ে আরও কাছাকাছি করাচি ও ঢাকা ৷ একদিকে বিমান পরিষেবা শুরু হবে দুই দেশের মধ্যে ৷ আরেকদিকে পাকিস্তানের থেকে জেএফ-17 থান্ডার যুদ্ধ বিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন ৷ একটি বিবৃতিতে এই খবর দিয়েছে পাক বায়ুসেনা সেনা ৷

একাত্তরের যুদ্ধের পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চাপানউতোর ছিল ৷ কিন্তু 2024 সালের 5 অগস্ট ঢাকায় রাজনৈতিক পালা বদলের পর এখন উলটপুরাণ ৷ গত দেড় বছরে বাংলাদেশের বন্দরে ভিড়েছে পাক পণ্যবাহী জাহাজ ৷ এবার সেদেশের যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ৷

পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই জেএফ-17 থান্ডার যুদ্ধ বিমানের বহুবিধ ভূমিকা আছে ৷ গত বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরে ভারত পাকিস্তানের উপর যে হামলা চালিয়েছিল, তাতে এই যুদ্ধ বিমান তার দক্ষতা প্রমাণ করেছে বলে দাবি ইসলামাবাদের ৷

গতকাল ইসলামাবাদে বাংলাদেশের বায়ুসেনার এয়ার চিফ মার্শিল হাসান মাহমুদ খান এবং পাকিস্তানের বায়ুসেনার (পিএএফ) এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর মধ্যে একটি বৈঠক হয় ৷ তারপরই পাক যুদ্ধ বিমান কেনার বিষয়টি সামনে আসে ৷

পাকিস্তানের সেনার মিডিয়া উইং ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) একটি বিবৃতিতে জানায়, "এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে দু'দেশের মধ্যে কাজ সংক্রান্ত সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা সম্ভব তা নির্ধারণ করা ৷ এর মধ্যে প্রশিক্ষণে সাহায্য করা এবং অত্যাধুনিক এরোস্পেসে সহযোগিতার বিষয়টিও রয়েছে ৷ জেএফ-17 থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ৷"

বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের নেতৃত্বে একটি উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেয় ৷ বৈঠকে পাক এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু তাঁদের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্রটি তুলে ধরেন ৷ পাকিস্তান বাংলাদেশের বায়ুসেনাকে একটি সার্বিক প্রশিক্ষণের ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় ৷ এই প্রশিক্ষণের মধ্যে অত্যাধুনিক উড়ান এবং পিএএফ প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে সব বিশেষ কোর্স হয়, সেগুলিও থাকছে ৷ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল পাক বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলিও পরিদর্শন করে ৷

পাকিস্তানের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এর সঙ্গে পাক বায়ুসেনার শীর্ষ কর্তা সিধু বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন, খুব দ্রুত সুপার মুশাক শিক্ষানবিশ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে ৷ এর সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ৷ বিমান সংক্রান্ত দীর্ঘ-মেয়াদি সহযোগিতাও করবে পাকিস্তান ৷

এদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু হচ্ছে চলতি মাসেই ৷ সরকারি সূত্রে খবর, 29 জানুয়ারি করাচি ও ঢাকার মধ্যে বিমান চলাচল আরম্ভ হবে ৷ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো দেশের সরকারি বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে, সপ্তাহে দু'দিন বৃহস্পতি ও শনিবার দু'দেশের মধ্যে এই বিমান চলাচল করবে ৷ স্থানীয় সময় রাত 8টার সময় ঢাকা থেকে পাকিস্তানগামী বিমান ছাড়বে এবে করাচি পৌঁছবে রাত 11টায় ৷ ফিরতি বিমান ছাড়বে মধ্যরাত 12টায় এবং ভোর 4.20 মিনিটে ঢাকায় ফিরবে ৷