ETV Bharat / international

ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তান 'খোলা যুদ্ধ', 55 পাক সেনার মৃত্যু দাবি তালিবানের

পাকিস্তানের দাবি, 130 জনেরও বেশি তালিবান সেনার মৃত্যু হয়েছে। আফগান বাহিনী পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, অভিযানে 55 পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে ৷

Pakistan and Afghanistan War
ডুরান্ড লাইন নিয়ে যুদ্ধে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (এপি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 27, 2026 at 9:52 AM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 27 ফেব্রুয়ারি: বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে নামল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৷ গত 24 ঘণ্টায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে ৷ যাকে যুদ্ধ বলেই দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ৷ তিনি শুক্রবার তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তখনই পাল্টা কাবুলের তরফে জানানো হয়েছে তাদের হাতে মৃত্যু হয়েছে 55 পাক সেনার ৷

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এদিন এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "আমাদের ধৈর্য্যের সীমা লঙ্ঘন হয়ে গিয়েছে । এখন আমাদের সঙ্গে আপনাদের যুদ্ধ ছাড়া পথ নেই ৷" শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্তে আফগানদের আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান 'গাজাব লিল হক' নামে এক পরিসরে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ৷ পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, 130 জনেরও বেশি তালিবান সেনার মৃত্যু হয়েছে এই অভিযানে । পাল্টা আফগান বাহিনী পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, অভিযানে 55 জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে ৷ এর আগে, তালিবানরা সীমান্তে বেশ কয়েকটি চৌকিতে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ ওঠে ৷ তারই পাল্টা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান শুরু করেছে পাক সেনা ।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাক অভিযানে কমপক্ষে 133 জন তালিবানের সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং 200 জনেরও বেশি আহত হয়েছেন । তিনি বলেন, "কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারে প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে ৷ 27টি তালিবান পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও নয়টি দখল করা হয়েছে ।" প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নিশ্চিত করেছেন, এখনও সেনা অভিযান অব্যাহত রয়েছে ৷ তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী তালিবানদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে ৷

খাজা আসিফ বলেন, "ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর, আফগানিস্তানে শান্তির প্রত্যাশা ছিল ৷ তালিবানরা আফগান জনগণের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল । কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে । তারা সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তানে জড়ো করছে ৷ সন্ত্রাসবাদকে রফতানি করাও শুরু করেছিল ৷" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । তবে, তালিবানরা ভারতের মতো প্রতিশোধের মানসিকতাই দেখিয়েছে বলে দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ৷

অন্যদিকে, আফগানিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ডুরান্ড লাইন বরাবর অভিযানে 55 পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে । দুই দেশের মধ্যে 2611 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনওই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি বলেও জানানো হয়েছে । এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রমজানের মধ্যেই রাত আটটায় এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৷ কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী আফগান ভূখণ্ড দখলের প্রতিক্রিয়ায় শুরু করেছিল তার বিরুদ্ধেই এই অভিযান বলে দাবি তালিবানের । বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কয়েক দিন আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ৷ আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে এসে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ৷"

আফগান বাহিনী এও জানিয়েছে, তারা পাকতিকা, পাকতিয়া, খোস্ত, নাঙ্গারহার, কুনার এবং নুরিস্তান প্রদেশের কাছে সীমান্ত বরাবর পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে পাকিস্তানের সামরিক পোস্টগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে । আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, চার ঘণ্টার অভিযানে 55 জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে ৷ তাদের দুটি সামরিক ঘাঁটি এবং 19টি পোস্ট দখল করা হয়েছে ৷ একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ও পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তালিবান ।

আফগান বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে,"চারটি পোস্ট থেকে পাক সেনা পালিয়ে গিয়েছে । তাদের একটি ট্যাঙ্কও ধ্বংস করা হয়েছে । একটি সামরিক পরিবহণ যানকে আটক করা হয়েছে । কয়েক ডজন ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৷" মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, আটজন আফগান যোদ্ধা নিহত এবং 11 জন আহত হয়েছেন । এছাড়াও, নাঙ্গারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় 13 জন অসামরিক লোক আহত হয়েছেন ৷

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তালিবানদের তীব্র নিন্দা করেছেন । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স-এ লিখেছেন, "পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী আফগানদের প্রকাশ্য আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে । কাপুরুষ শত্রুরা রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করেছে । তালিবান নিরীহ অসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে ৷" নাকভি আরও বলেন, "দেশ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । তালিবানরা আক্রমণ করে খুব বড় ভুল করেছে । তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে । আমরা আমাদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করব না ৷"

অন্যদিকে, পাক রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি বলেন, "পাকিস্তান শান্তি এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে আপোস করবে না ৷ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে । যারা আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে ভুল করে তাদের কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে ৷"

পাশাপাশি পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমাদের বাহিনী যে কোনও আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টাকে চূর্ণ করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম । প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপোস করা হবে না ৷ প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে ৷ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পেশাদার ক্ষমতা, উচ্চ প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা কৌশলে সজ্জিত এবং মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম ৷"