ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালে মৃত বেড়ে 470, নিখোঁজ প্রায় 1500

Published : August 26, 2026 at 7:28 PM IST
|Updated : August 28, 2026 at 2:37 PM IST
নেপালের কোশি নদীতে হড়পা বানে মৃতের সংখ্য়া ক্রমশ বাড়ছে । ইতিমধ্য়ে প্রায় 470 জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন । নিখোঁজের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে । নিখোঁজ কমপক্ষে 1500 জন পর্যটক । তার মধ্যে কমপক্ষে 200 জন ভারতীয় এবং 93 জন নেপালের নাগরিক। বাকিরা ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস-সহ বিভিন্ন দেশের। তবে, পর্যটন বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছিল, এই সংখ্যাগুলি প্রাথমিক ৷ ট্রাভেল এজেন্সি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তা যাচাই করে নিশ্চিত করা হচ্ছে। পর্যটন বোর্ড আরও জানিয়েছে, নিখোঁজ কয়েকজন পর্যটকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে ফোন করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ৷ পরে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, "নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেছি ৷ নেপালে হড়পা বানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে। নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদানে ভারত সরকার প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণের বিষয়ে আমাদের দলগুলি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে চলেছে।"
LIVE FEED
নেপাল-চিন সীমান্তে হিমবাহ ও তার নীচের শিলাস্তর ধসে পড়ায় বন্যা, ধরা পড়ল স্যাটেলাইট চিত্রে
নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে যখন উদ্ধারকারী দলগুলি কাজ করছিল, তখন ভূ-বিজ্ঞানীরা ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বোঝার জন্য স্যাটেলাইট চিত্রগুলি পর্যালোচনা করেন। বুধবারের এই বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিদেশি ও তীর্থযাত্রীসহ আরও অনেকে নিখোঁজ। ভূতাত্ত্বিক ক্রিস্টেন কুক ও ড্যান শুগার জানান, নেপাল থেকে পাওয়া প্রাথমিক ছবিগুলি মেঘ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে ওঠা ধুলোর কারণে অস্পষ্ট ছিল ৷ তাঁরা কেবল এটুকু বুঝতে পেরেছিলেন, তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গ থেকে হিমবাহের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে, বৃহস্পতিবারের অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার ছবিগুলি দেখে তাঁরা জানতে পারেন, হিমবাহটির নীচের শিলাস্তর ধসে পড়েছিল। এর ফলে বিশাল আকারের বরফের খণ্ডটি নীচে নেমে আসে এবং উপত্যকার দিকে বড় বড় পাথর ও বরফ ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালে বন্যার পর ভোপালের একই পরিবারের 29 জন নিখোঁজ
নেপাল ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার আকস্মিক বন্যার পর থেকে নিখোঁজ ভোপালের একটি পরিবারের 29 জন ৷ পরিবারের সদস্য দেবকী অধিকারী বলেন, "আমার দেওর-জা, বোন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিখোঁজ ৷ তাঁরা যখন যাত্রাপথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বিপদের সতর্কবার্তা ছিল না। যাত্রাপথের মাঝামাঝি সময়ে তাঁরা জানতে পারেন, হড়পা বান শুরু হয়েছে ৷ প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা দ্রুত পাহাড় বেয়ে উপরে ওঠেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে একজনের বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাঁরা ফোন করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান। জীবন বিপন্ন এবং তাঁরা হয়তো আর বাঁচবেন না বলেছিলেন সেই সময় ৷ তাঁরা আমাদের সন্তানদের দেখাশোনা করার অনুরোধ জানান। এটুকুই তাঁরা বলেছিলেন। ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই সব নিস্তব্ধ হয়ে যায়..."
নেপাল ও চিনে আকস্মিক বন্যার পর 30টির বেশি দেশের মানুষ নিখোঁজ, পাশে অস্ট্রেলিয়া
চিন ও নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বানে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত 469 জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং 1400 জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিদেশি পর্যটক, যাঁরা ট্রেকিং, গাইডের সহায়তায় ভ্রমণ কিংবা তীর্থস্থান দর্শনের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন।
বুধবারের এই দুর্যোগে নিখোঁজদের সংখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে তারতম্য রয়েছে ৷ তবে, কমবেশি 30টি দেশের বাসিন্দা নিখোঁজ বলে জানিয়েছে নেপাল। সংখ্য়ায় পার্থক্যের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, প্রতিবেদন প্রকাশের সময়, যাচাই প্রক্রিয়ায় তারতম্য, তথ্য সংগ্রহকারী ও উদ্ধারকাজে যুক্ত দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। এদিকে, অস্ট্রেলিয়াও শুক্রবার ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য নেপাল সরকারের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ৷ খাবার, আপৎকালীন থাকার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রী পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ৷
নেপালে বন্যাত্রাণে সাহায্যের হাত বাড়াল APPLE
নেপালে বন্যার পর ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল অ্যাপল ৷ আকস্মিক বন্যায় প্রায় 500 প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। তিনি বলেন, "নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতি । সেখানকার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তা করতে অ্যাপল অনুদান দেবে।"
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে 469 হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 469 ৷ জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ ৷
বিদেশমন্ত্রকের কাছে সাহায্যের আর্জি নিখোঁজদের পরিবারের
ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, 84 জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ তাঁদের মধ্যে ‘ত্রিশূলী-1’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত 63 জন শ্রমিক এবং তামিলনাড়ুর 21 জন বাসিন্দা রয়েছেন। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, তিব্বত অংশে প্রায় 200 জন ভারতীয় নাগরিক সেখান থেকে সরে আসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন ।290 ভারতীয়ের কোনও খোঁজ মিলছে না ৷ তাঁদের পরিবার বিদেশমন্ত্রকের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছে ৷
কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে নিযুক্ত ভারতের দূতদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকে থাকা ভারতীয়দের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের নামের তালিকা প্রকাশ বিদেশ মন্ত্রকের
তিনশোর বেশি ভারতীয় নিখোঁজ ছিলেন ৷ তাঁদের মধ্যে একশো জনকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ সেই তালিকা প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক ৷ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে ৷
ভেসে আসা মৃতদেহ থেকে কানের দুল চুরির ভিডিও ভাইরাল: অভিযুক্তরা গ্রেফতার
ভয়াবহ বন্যার ঘটনায় যখন সর্বত্র শোকের ছায়া, নেপালের ভরতপুরে কোশি নদীতে ভেসে আসা একটি মৃতদেহ থেকে কানের দুল চুরির ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাপি টুপি পরা এক ব্যক্তি একটি বড় কাঠের লাঠি দিয়ে মৃতদেহটিকে ঠেলে কান উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছে। এরপর পনিটেল বা ঝুঁটি বাঁধা অন্য ব্যক্তিকে মৃতদেহের কান থেকে দুল খুলে নিতে দেখা যায়।
'এক্স' (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ থেকে কানের দুল চুরির অভিযোগে ওই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম মদন গুরুং (25); তাঁর বাড়ি নাওয়ালপরাসি জেলার বিনায়ি ত্রিবেণী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে ৷ বর্তমানে তিনি চিতওয়ান জেলার ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঘার এলাকার লিলাচকে বসবাস করছেন।
দ্বিতীয় অভিযুক্ত হলেন উমেশ চৌধুরী (38); তাঁর বাড়ি সুরখেত জেলার চান্দবেলা পুরসভার 5 নম্বর ওয়ার্ডে ৷ বর্তমানে তিনি চিতওয়ান জেলার ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডের পোখারা বাস পার্ক সংলগ্ন সুপারি টোল এলাকায় বসবাস করছেন।
ভিসা না পাওয়ায় রক্ষা বাংলার তপতীর
কৈলাস-মানসরোবর তীর্থযাত্রার ভিসা না পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের 61 বছরের তপতী সিংহ নেপালের ভয়াবহ বন্যা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ৷ তীর্থযাত্রায় যেতে ইচ্ছুক 33 জনের দলের মধ্যে তিনিও ছিলেন ৷ কিন্তু যাত্রার ঠিক কয়েক দিন আগে তাঁর চীনের ভিসা নামঞ্জুর হয় ৷ হতাশ হয়ে তিনি পরিবর্তে লাদাখ ভ্রমণে যান ৷ তিনি জানিয়েছেন, ভিসা না পাওয়াই তাঁকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিল ৷
নেপালের বন্যা পরিস্থিতিতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু বিদেশ মন্ত্রকের
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) একটি 24 ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে ৷ ভারত ও নেপাল-উভয় দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাাযোগের জন্য ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইল-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলির জন্য জরুরি যোগাযোগের নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
-
Special Control Room in MEA for Nepal Floods Situation
— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) August 27, 2026
Details below ⬇️
🔗 https://t.co/hKxz6iIJTP pic.twitter.com/3dr6sT7tt0
নিখোঁজ 100 ভারতীয় পর্যটক ও 25 জন চীনা কর্মীর সন্ধান পেলেন উদ্ধারকারীরা
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে যে 270 টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত 66 জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অথবা ছাড়া পেয়েছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাসুয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় 8 হাজার 90 জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। চীন আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করায় সরকারি হিসেবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 273 ৷
হড়পা বানে নেপাল মৃতের সংখ্যা বেড়ে 177
সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 177-এ দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকার 300 জন ভারতীয় পর্যটক-সহ নিখোঁজ শতাধিক মানুষকে উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ভোটেকোশি নদীর হড়পা বানে আরও 12টি মৃতদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে 177 হয়েছে।
37.5 টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভারতের দ্বিতীয় বিমান গেল নেপালে
হঠাৎ সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জন্য 37.5 টন ত্রাণসামগ্রী (HADR), ওষুধ ও খাবারের প্যাকেট নিয়ে ভারত থেকে দ্বিতীয় একটি বিমান রওনা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, "নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারত নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমরা এই ত্রাণ কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখব।"
নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ 1300 জনেরও বেশি মানুষ
সংবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে 1300 জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বন্যা ও কাদার বিধ্বংসী স্রোত বেশ কয়েকটি জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর নেপাল-চিন সীমান্তে নিখোঁজ শতাধিক মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপাল-চিন সীমান্তের ফুটেজে হড়পা বানে ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য
বুধবার নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে গিরং বন্দরে ভয়াবহ আকস্মিক হড়পা বানের পর সিসিটিভি ফুটেজে উত্তাল জলের তোড়ে ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় ছবিয়ে পড়েছে ৷ ওই দৃশ্য রীতিমতো আতঙ্ক ধরিয়েছে মানুষের মনে ।
নেপালের হড়পা বানে বন্যায় তিনশোর বেশি ভারতীয় নিখোঁজ
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, আকস্মিক বন্যায় 300 জনেরও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানান গিয়েছে, রাসুয়া অঞ্চলে এই বিপর্যয়ের পর এখনও হাজার হাজার মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বন্যাদুর্গত নেপালে ত্রাণসামগ্রী-সহ C-130J বিমান পাঠাল ভারতীয় বায়ুসেনা
ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে যে, বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে 10 টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে তারা একটি C-130J বিমান পাঠিয়েছে। বায়ুসেনা আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী পরিবহণের জন্য আরও C-17 ও C-130 বিমান ব্যবহার করা হবে এবং উদ্ধার ও স্থানান্তরের কাজের জন্য হেলিকপ্টারগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নেপালের বন্যায় 160 জনেরও বেশি মৃত, 750 জনেরও বেশি নিখোঁজ
তিব্বত থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার ফলে 160 জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং 133 জন ভারতীয় নাগরিকসহ 750 জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন; এই বন্যায় বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে গিয়েছে এবং এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অচল হয়ে পড়েছে।
নেপালে নিখোঁজের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের 32 জন
ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালে 140 জনেরও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ সেখানে আটকা পড়েছেন ৷ নেপালের সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার নেপালে আকস্মিক হড়পা বানের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া যেসব ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কলকাতা থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া 32 সদস্যের একটি দলও রয়েছে। জানা গিয়েছে, 30 জন পর্যটক ও দুজন ট্যুর ম্যানেজারের এই দলটি 21 অগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়ে পরদিন নেপালে পৌঁছায়। বুধবার সকাল সাড়ে 8টার পর তাঁদের আর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না ৷
95 জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাঠমান্ডু প্রশাসন
ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ৷ ইতিমধ্যেই 95 জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাঠমান্ডু প্রশাসন। প্রায় 400 জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে প্রায় দেড়শো জন ভারতীয় রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । চলছে উদ্ধার অভিযান।
শতাধিক মৃত্যু
ভয়াবহ হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা 100 ছাড়িয়ে গেল বলে জানা গিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে । এখনও খোঁজ মিলছে না প্রায় 750 জন পর্যটকের । তার মধ্যে ভারতীয়র সংখ্যা 133 ।
অমিত-বার্তা
নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন, "শোক প্রকাশের ভাষা নেই । যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। এই বিপর্যয়ের দিনে ভারত সরকার নেপালের পাশে আছে । এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে । যে কোনও ধরনের বিপর্যয় আটকাতে এনডিআরএফ-কে মোতায়েন করা হয়েছে ।"
বাংলার 65 জনের দল নিয়ে উৎকণ্ঠা
আরামবাগ থেকে গত 24 আগস্ট বাসে করে নেপাল যায় 65 জনের একটি দল। নেপালের ইন্টার ন্যাশনাল চেতন পার্ক, মনসকামনা মন্দির, জনকপুর হয়ে দেওঘর হয়ে ফেরার কথা। কিন্তু দুপুরে খবর আসে নেপালে ভয়াবহ হরকা বানে একাধিক মানুষের মৃত্যু ও বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পর্যটকদের পরিবার । তাদের সঙ্গে কেউই ফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ট্যাভেলস কোম্পানির তরফে নেপালের এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে । সকলেই চায় নেপাল থেকে ভালো ভাবে ফিরে আসুক পরিবার পরিজনরা।
বাংলার কেউ আটকে ?
নেপােলের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানালেন বাংলার পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। রাজ্য়ের কোনও বাসিন্দা নেপালে আটকে আছেন কিনা তা জাানার চেষ্টা করছে প্রশাসন । তবে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও তথ্য় পাওয়া যায়নি।
24 ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম
নেপালের সাম্প্রতিকতম পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে 24 ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলল উত্তরপ্রদেশ সরকার। উত্তরপ্রদেশ থেকে নেপালে যাওয়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতেই এমন উদ্যোগ ।
নিখোঁজ 133 ভারতীয়
নেপালের ঘটনায় মৃতের সংখ্য়া বেড়ে হল 72 । ভারতীয় সময় বুধবার রাত আটটা নাগাদ এমনই তথ্য় দিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই । 500 জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না । তার মধ্যে 133 জন ভারতীয় ।
দেশবাসীকে আহ্বান বলেন্দ্রর
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দেশবাসীর সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। লিখিত বার্তায় তিনি দেশের সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী-যুবক-স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহায্যের কাজে এগিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে দ্রুত নেপালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ।
বলেন্দ্রর বার্তা
সঙ্কটের মুহূর্তে নেপালের নাগরিকদের পাশে থাকার বার্তা দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। লিখিত বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, যে সমস্ত এলাকা বন্যা কবলিত সেখানকার মানুষদের তিনি বুঝতে পারছেন। কী অসম্ভব যন্ত্রণা তাঁদের সহ্য করতে হচ্ছে তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন নেপাল সরকার। তবে তবে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকার তাঁদের পাশে আছে।
চালু হেল্পলাইন নম্বর
নেপালের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ বহু ভারতীয় পর্যটক । তাঁদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর দিতে জরুরি ভিত্তিতে হেল্পলাইন নম্বর চালু করল কাঠমুণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাস । +977 985 131 6807 এবং +977 970 910 7500- এই দুটি নম্বরে ফোন করলেই মিলবে জরুরি তথ্য ।
বিহার-উত্তরপ্রদেশে সতর্কতা
নেপালের ঘটনার পর বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি জায়গায় হিমাবহ থেকে হওয়া আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাওয়া অফিল । আর সেই মতো পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তার জন্য আগাম সতর্কতা নিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী । বাহিনীর 9টি দল বিহারে মোতায়েন করা হয়েছে । 11টি কাজ করছে উত্তরপ্রদেশে ।
ঘটনাস্থলের ছবি
হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল । ঘটনাস্থলের সাম্প্রতিকতম ছবি তুলে ধরেছে সংবাদসংস্থা আইএএনএস ।
নেপালের পাশে ভারত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে ফোন করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ৷ পরে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, "নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেছি ৷ নেপালে হড়পা বানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে। নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদানে ভারত সরকার প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণের বিষয়ে আমাদের দলগুলি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে চলেছে।"

