LIVE UPDATES: নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 1252, নিখোঁজ সাড়ে চার হাজারের বেশি

Published : September 1, 2026 at 9:38 AM IST
|Updated : September 2, 2026 at 2:35 PM IST
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে উদ্ধারকাজ সপ্তম দিনে পড়ল ৷ বুধবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে 1252 ছাড়িয়েছে ৷ ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে করা হয়েছে আরও বহু মৃতদেহ উদ্ধার দুর্যোগের পর 8 দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। গত 26 অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নিচে নেমে আসে। এর ফলে সৃষ্ট জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় শহর ও গ্রামগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয় ৷ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত 10 হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ তবে থেমে থেমে বৃষ্টি, নদীর জল বাড়ছে এবং রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
LIVE FEED
নেপালে আরও এক দফা ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালকে মানবিক সহায়তা করা অব্যাহত রেখেছে ভারত। তিনি বলেন, "বুধবার সকালে ভারতের পঞ্চম বিমানটি নেপালে অবতরণ করে ৷ এতে বিশেষ সরঞ্জামসহ 11 সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল এবং 5.5 টন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ছিল। রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব নেপাল সরকারকে এই ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন।"
সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজের বিশেষ সরঞ্জাম পাঠাল ভারত
সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজের বিশেষ সরঞ্জাম ও ওষুধ নিয়ে ভারতের পঞ্চম বিমানটি কাঠমান্ডুতে অবতরণ করেছে। নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজের বিশেষ সরঞ্জাম ও ওষুধসহ 11 সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারত থেকে আসা পঞ্চম বিমানটি সকাল সাড়ে দশটার দিকে কাঠমান্ডুতে অবতরণ করে।
এদিকে, নেপালের রাসুওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে ৷ সেনাবাহিনী আকাশপথে দুর্গতদের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক লেপেন শাহ বলেন, "আমরা মঙ্গলবার কাঠমান্ডু থেকে এখানে এসেছি। সরকার উদ্ধার ও ত্রাণ বিলি চালাচ্ছে ৷ আমরা সাধ্যমতো সহায়তা করছি।"
বিপদসীমা পার করেছে তিনটি প্রধান নদীর জলের স্তর, জারি সতর্কতা
দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের ফলে বিপদসীমা পার করেছে তিনটি প্রধান নদীর জলের স্তর ৷ সেজন্য জারি করা হয়েছে সতর্কতা ৷ নেপালের কর্তৃপক্ষ বুধবার মধ্যাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ৷
জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস শাখার তথ্য অনুযায়ী, 2 সেপ্টেম্বর সকাল 6টা পর্যন্ত সিন্ধুলি জেলার সুন কোশি, গোর্খার বুধি গণ্ডকী এবং দাদেলধুরার মহাকালী নদীর জলের স্তর বিপদসীমার উপরে ছিল ৷
ওই বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে , লামজুং জেলার মার্সিয়াংদি নদীর জলের স্তর মঙ্গলবার 11টা 15 মিনিটে বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল ৷
ত্রাণ নিয়ে নেপালে সোনু সুদ
নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সেদেশে পৌঁছন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। কাঠমান্ডুতে পা রেখে তিনি বলেন, "আমরা এখানে এসেছি বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে। আমরা তাঁদের জীবন নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। প্রচুর কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। চেষ্টা করব যাতে আরও কিছুদিন নেপালে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকে।"
জরুরি সহায়তা নিয়ে ভারতের পঞ্চম বিমানটি নেপাল রওনা হয়েছে ৷ বুধবার এক্স (X)-এ পোস্টে জয়শঙ্কর লিখেছেন, "নেপালের উদ্দেশ্যে ভারতের পঞ্চম বিমানটি রওনা হয়েছে। এতে বিশেষ সরঞ্জামসহ 11 সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল এবং 5.5 টন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ রয়েছে।"
163 জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে, জানাল বিদেশমন্ত্রক
বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, গত 26 অগস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখনও পর্যন্ত 163 জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। চিন থেকে নিরাপদে ফিরেছেন আরও 151 জন ৷
শিলা-হিমবাহের এক বর্গ কিলোমিটার অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েই 5 মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যয় : NDRRMA
নেপালে বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 1003 ৷ এক বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি শিলা-হিমবাহের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে 5 মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে এনডিআরআরএমএ (NDRRMA)।
এদিকে, গত 26 অগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একটি বিদ্যালয় ভেসে যাওয়ার আগে 1600-এর বেশি শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচানোর জন্য নুয়াকোটের বিদুরে ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করেন নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব ।
একাধিক জেলায় বেড়েছে নদীর জলস্তর, নেপালে ফের জারি বন্যা সতর্কতা
মঙ্গলবার নেপাল নতুন করে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে ৷ কারণ, সে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বেড়েছে নদীর জলস্তর। ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ত্রিশূলি ও রাসুয়ার সংযোগকারী রাস্তাটি ভেসে গিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রিশূলির দিকে প্রবল বেগে জল প্রবাহিত হচ্ছে, যা এই পথটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। এছাড়া, বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ত্রিশূলি থেকে রাসুয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা 1000 ছাড়িয়েছে
মঙ্গলবার সকালে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) জানিয়েছে যে, 26 অগস্টের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে 987 জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তিব্বতে 16 জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ৷ এই দুর্যোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 1,003 জনে।
নুয়াকোটের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার 24টি দেহ
জেলা পুলিশ কার্যালয়ের এসপি বিপিন রেগমি জানিয়েছেন, সোমবার বন্যাদুর্গত নুয়াকোট জেলার বেত্রবতীর একটি বাড়ি থেকে উদ্ধারকর্মীরা 24টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। রেগমি জানান, বাড়িটির ভেতরে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। তল্লাশি শেষ হলে মৃতদেহের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা যাবে। মনে করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে 500 জনের আটকে থাকার আশঙ্কা
ধারণা করা হচ্ছে, ওই কর্মীদের মধ্যে প্রায় 500 জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার সময় কাদাভর্তি তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
বন্যাদুর্গত নেপাল থেকে 158 জন ভারতীয়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সোমবার জানিয়েছে যে, গত সপ্তাহে হিমালয়-ঘেরা দেশটিতে ভয়াবহ বন্যার পর 158 জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার রাত 9টা পর্যন্ত বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পাঠানো বিশেষ ফরেনসিক ও সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দলগুলির নেতৃত্বে অনুসন্ধান, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা 950 ছাড়িয়েছে
নেপাল ও চিনে মৃতের সংখ্যা 950 ছাড়িয়েছে এবং 4 হাজার 400-এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলির প্রতিনিধিত্বকারী একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত 12টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত 900 কর্মীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা 950 ছাড়ানোর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত মানুষের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

