যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রাজি ইরান, দাবি মার্কিন সূত্রের
আমেরিকা-ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় রাজি হয়েছে ইরান৷

Published : May 28, 2026 at 11:05 PM IST
ওয়াশিংটন, 28 মে: হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইরানের আলোচকরা বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এই চুক্তির আওতায় তিন মাস ধরে চলা সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ 60 দিন বাড়ানো হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা হবে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি ইরান এখনও নিশ্চিত করেনি। দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া এই সম্ভাব্য চুক্তিটির বিষয়ে খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে৷ এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল যে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তারাও আক্রমণের শিকার হয়েছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা লড়াইয়ের সর্বশেষ এই খবর তাই নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
আপাতত, উভয় দেশের আলোচকরা একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছেন, যা বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং 60 দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আলোকপাত করবে। এর বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে এবং মানবিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে ইরান। তবে, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবিগুলি নিশ্চিত করেনি।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে। মার্কিন নৌবাহিনী পর্যায়ক্রমে তাদের অবরোধ-সদৃশ কার্যকলাপ কমিয়ে আনবে এবং একইসঙ্গে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা বা হয়রানি করা বন্ধ করতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।

