জাহান্নামে পাঠাব ! নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ইরানের মেজর জেনারেলের
আইআরআইবি-র তথ্যমতে, রেজাই আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের তথ্য ছড়িয়েছেন ।

By ANI
Published : August 28, 2026 at 9:02 AM IST
তেহরান, 28 অগস্ট: অবরোধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কঠোর সংঘাত হতে পারে ৷ এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই ৷ তিনি আরও বলেন, "ইজরায়েলের সঙ্গে যে কোনও নতুন সংঘাত এই বিরোধের একটি ভিন্ন পর্যায় চিহ্নিত করবে ।"
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি-র প্রতিবেদন অনুসারে, আল-মানারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন , "ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে তেহরান ৷ ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ইহুদি শাসনের অস্তিত্বের অবসানকে এগিয়ে আনছে ৷"
রেজাই আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যার জন্য ইরান ষড়যন্ত্র করছে বলে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন নেতানিয়াহু । তিনি দাবি করেন , এই প্রতিবেদন ট্রাম্পকে আতঙ্কিত করেছে এবং তারঁ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে । নেতানিয়াহু মিথ্যা খবর ছড়িয়ে ট্রাম্পকে আতঙ্কিত করেছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন ৷ এই খবরের পর ট্রাম্প একজন ফুড ট্রাক কর্মীর মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ৷"
লেবাননের সঙ্গে ইজরায়েলের সংঘাত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রেজাই বলেন, দাহিয়েহ এবং বেরুট হল আমাদের রেড লাইন ৷ ভবিষ্যতে যে কোনও সংঘাত পূর্ববর্তী যুদ্ধ থেকে আলাদা হবে । আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি । লেবাননের দখল হওয়া অঞ্চলগুলি থেকে ইজরায়েল সরে যেতে বাধ্য হবে । যদি সংঘাত পুনরায় শুরু হয়, আমরা নতুন পর্যায়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি ৷ অর্থনৈতিক অবরোধ প্রমাণ করছে, আমেরিকার সামরিক হামলা নিষ্ফল হচ্ছো ৷ আমরা এর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেব ৷"
ইরানের তেল রফতানি প্রসঙ্গে রেজাইয়ের দাবি, "অবরোধ অব্যাহত রাখার অর্থ, আমেরিকান শত্রুর সঙ্গে গুরুতর সংঘাত । যুদ্ধবিরতি চলাকালীন আমরা 80 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করেছি । যদি অবরোধ অব্যাহত থাকে, আমরা 100 শতাংশ আমেরিকান অর্থনীতিকে লক্ষ্য করব ৷ যুদ্ধবিরতি চলাকালীন আমরা নৌ অবরোধ ভেঙে প্রায় 70 থেকে 80 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করেছি ।"
এর আগে 24 অগস্ট, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক্স পোস্টে লেখেন, "ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্কট বেসেন্টকে অভিনন্দন । আপনারা স্বৈরাচার এবং যারা এর প্রয়োগ করে, তাদের কাছ থেকে ন্যায্যভাবে চড়া মূল্য আদায় করছেন ৷"
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য সামনে এসেছে 24 অগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর অধীনে ইরানের সামরিক কার্যকলাপ, সংগ্রহ নেটওয়ার্ক এবং পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যোগ থাকার জন্য প্রায় 60টি সংস্থা, ব্যক্তি এবং জাহাজের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন বলেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কোনও আলোচনা চলছে না । হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে বলেন, "এখন কোনও আলোচনা হচ্ছে না ৷ এবং এটি ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ না প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরান অর্থপূর্ণভাবে আলোচনায় বসবে । আমরা এখনও তেমন কিছু দেখিনি । হোয়াইট হাউস যাকে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নাম দিয়েছে, তার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে ৷" লেভিট যোগ করেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রেখেছেন । তাদের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য আমরা অপারেশন এপিক ফিউরি চালিয়েছি । এখন তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য আমাদের অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট রয়েছে ৷"
এর আগে বুধবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত কমাতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই । আল জাজিরাকে তিনি বলেন, "আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কোনও তাড়া নেই ।" ইরানকে আলোচনায় ফেরার জন্য তিনি কতটা সময় দিচ্ছেন জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, "আমার কোনও সময়সূচি নেই, একদমই নেই । আমার কোনও তাড়া নেই । "
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "আমরা বড় ব্যবধানে জিতছি । ইরানে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে ৷ তারা জনগণের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করছে, বহু বিক্ষোভকারীকে হত্যা করছে । যা যা করা দরকার, তাই করব ।" সামরিক হামলার চেয়ে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বেশি কার্যকর কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় দুটোই কার্যকর ।"

