'ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্তের দাগ' বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করলেন খামেনি
এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে রয়েছে ৷ নিজের দেশের দিকে মনযোগ দেওয়া উচিত ৷

Published : January 9, 2026 at 8:58 PM IST
তেহরান, 9 জানুয়ারি: দেশের নিরাপত্তরক্ষীরা দ্রুত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে ৷ দেশজুড়ে গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে শুক্রবার এমনই বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ৷ সেই সঙ্গে, আন্দোলনকারীদের সমর্থনের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি ৷ বললেন, "ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত ট্রাম্পের হাত ৷ তাঁর নিজের দেশের দিকে মনযোগ দেওয়া উচিত ৷"
ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত 28 ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু করেছে ইরানের জনগণ ৷ নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে বৃহস্পতিবার থেকে গণবিক্ষোভের আঁচ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে ৷ ইরান সরকার এবং ধর্মীয় প্রধানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে লক্ষ লক্ষ ইরানবাসী ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয় ইরান সরকার ৷
In the 12-Day War, more than a thousand of our country’s citizens were martyred. The US President said he ordered this. So, he confessed that the Iranians’ blood was on his hands. Now he’s saying that he’s on the side of the Iranian nation!
— Khamenei.ir (@khamenei_ir) January 9, 2026
উত্তপ্ত এই আবহে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, "শান্তিপূর্ণভাবে যাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তাঁদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলে আমেরিকার যোগ্য জবাব দেবে ৷" সেই সঙ্গে, ব্যঙ্গ করে খামেনিকে দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ারও পরামর্শ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৷ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে খামেনি বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে দেশের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছেন বিক্ষোভকারীরা ৷ তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প ৷ তবে তাঁর উচিত নিজের দেশের দিকে মনযোগ দেওয়া ৷"

খামেনির এই বক্তব্যের পরই ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত এবং সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ৷ যদিও, ওয়াশিংটনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব দেওয়া হয়নি ৷ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালালে ইরানকে ছেড়ে দেওয়া হবে না ৷

বিগত 12 দিন ধরে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে হাজার হাজার ইরানবাসী ৷ ক্রমেই সেই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৷ দেশের ভগ্নপ্রায় অর্থনীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ক্রমশ দেশের সরকার এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে আন্দোলনের রূপ নিতে থাকে ৷ তেহরানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা ৷ বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে এলাকার সমস্ত দোকান বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয় ৷ সূত্রের খবর, নিরাপত্তরক্ষী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত 41 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ প্রায় 2 হাজার 270 জনকে আটক করেছে ইরান সরকার ৷

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হলেও দমানো যায়নি প্রতিবাদিদের ৷ শুক্রবার সকালেও রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা ৷ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয় ৷ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জঞ্জালে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ৷ দেশের অভ্যন্তরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইজরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান ৷ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের জঙ্গি বলে সম্বোধন করা হয়েছে ৷

