উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন 'জাভেলিন' মিসাইল সিস্টেম কিনবে ভারত, চুক্তি স্বাক্ষর আমেরিকার সঙ্গে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই মিসাইল সিস্টেমটি কেনার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি 'লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্টেন্স'-এ স্বাক্ষর করেছে ।

Published : August 31, 2026 at 6:00 PM IST
নয়াদিল্লি, 31 অগস্ট: 'জাভেলিন' (Javelin) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম কেনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করল দিল্লি ৷ এই অস্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশের প্রায় 16 বছর পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হল ।
মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, কাঁধে বহনযোগ্য এই মিসাইলগুলো 'জাভেলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার'-এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় ৷ এটি আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)-এর একটি যৌথ উদ্যোগ । বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই চুক্তিটি "পারস্পরিকভাবে লাভজনক যৌথ উৎপাদন এবং উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প-ভিত্তি শক্তিশালী করার অতিরিক্ত সুযোগ" নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই মিসাইল সিস্টেমটি কেনার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি 'লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্টেন্স'-এ স্বাক্ষর করেছে । ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন, "এই চুক্তিটি এমন এক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের প্রতিফলন যা ক্রমশ গভীর, আরও সক্ষম এবং আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে ।" তাঁর কথায়, "জাভেলিন চুক্তিটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের গভীরতা তুলে ধরে এবং আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পগুলোর যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করে । আমরা ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি, যা উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প-ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে ।"
45.7 মিলিয়ন ডলার মূল্যের 100টি কাঁধে বহনযোগ্য জাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ভারতের কাছে বিক্রির বিষয়ে মার্কিন সরকার যখন মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করেছিল, তার নয় মাস পর এই চুক্তিটি সম্পন্ন হল । গত মে মাসে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত 'শাংরি-লা ডায়ালগ'-এ আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছিলেন যে, জাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ।
এই অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গোলাবারুদ সংগ্রহের বিষয়টি বেশ দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী । 2010 সালে ভারত যখন প্রথম এই সিস্টেমটি কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তখন প্রক্রিয়াটি থমকে গিয়েছিল । উচ্চমূল্য এবং এই অস্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধার কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত হয়ে যায় ৷ যদিও সেই মধ্যবর্তী সময়ে ভারত ইজরায়েলি অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল স্বল্প পরিমাণে কিনেছিল এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে মিসাইল তৈরির কাজ শুরু করেছিল ।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এসবি আস্থানা বলেন, "জাভেলিন একটি ভালো মিসাইল, এতে কোনও সন্দেহ নেই । তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল একটি মিসাইল ।" তিনি আরও বলেন, "যদি তারা প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে, তবে এটি একটি ভালো চুক্তি হবে । এক সময় আমরা এর পক্ষে ছিলাম না - মূলত উচ্চমূল্য, পরীক্ষার অনুমতি না পাওয়া এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর না করার বিষয়গুলোর কারণে ।"
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকেই তুলে ধরে । যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে । গত বছরের অক্টোবরে, সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি বিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সমন্বয় সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দেশ দুটি 10 বছর মেয়াদি একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করে । গত এক বছরে এই দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়ার গতি বাড়িয়েছে এবং উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে ।
এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপটি করা হল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য কেনার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন ।

