'শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে' ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহে রাজি অস্ট্রেলিয়া
2015 সালে স্বাক্ষরিত 'অস্ট্রেলিয়া-ভারত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি'র আওতায়—শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম রফতানি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ৷

By PTI
Published : July 9, 2026 at 3:10 PM IST
মেলবোর্ন, 9 জুলাই: ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম চুক্তিতে সম্মত অস্ট্রেলিয়া ৷ শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য ভারতকে ইউরেনিয়াম রফতানিতে সম্মত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ৷ মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের মধ্যে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এমনটাই জানানো হয়েছে ৷
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 2015 সালে স্বাক্ষরিত 'অস্ট্রেলিয়া-ভারত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি'র আওতায়—আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র সুরক্ষা-ব্যবস্থা বা সেফগার্ড মেনে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতের কাছে ইউরেনিয়াম রফতানি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের তিনটি দেশে সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ এরই অংশ হিসাবে 8 থেকে 10 জুলাই অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন তিনি ৷
অস্ট্রেলিয়ায় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের অজি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, "এই ব্যবস্থার ফলে ভারতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম রফতানি আরও সহজ হবে ৷ যা জীবাশ্ম-জ্বালানি ছাড়াও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।" বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশই গভীর আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে, জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷ এতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আমাদের অঞ্চলে এর প্রভাব—যার মধ্যে জ্বালানি, সম্পদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ৷ তা নিয়ে উভয় দেশই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৷
চলমান এই অস্থিরতার মধ্যেও, উভয় পক্ষই উন্মুক্ত বাজার এবং নিয়ম-ভিত্তিক বাণিজ্যের প্রতি তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিতে ফের একবার সামনে এনেছে ৷ যে নীতিগুলি দু'পক্ষেরই সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে চলবে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারত বিদ্যুতায়নের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে ৷ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "নিজেদের জ্বালানি ব্যবস্থায় বিদ্যুতায়নের প্রসার ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মূল্যবান হয়ে উঠবে।"
দুই দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলির জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলির কথাও স্বীকার করেছে ৷ ওই অঞ্চলের স্থিতাবস্থা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে তারা। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া কয়লা, ডিজেল, অন্যান্য তরল জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্যের স্থিতিশীল, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতিকে ফের তুলে ধরেছে ৷ বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "অস্ট্রেলিয়া ও ভারত আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ৷ যেন তারা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সম্পদের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার ক্ষেত্রে শামিল হয়; কারণ এটি আমাদের জনগণের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

