ডায়াবেটিস বা স্থূলতায় ভুগছেন ? ট্রাম্পের আমেরিকায় খারিজ ভিসা
আমেরিকার ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের দিকটিও যাচাই করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে সাধারণ কিছু অসুখে বাতিল হতে পারে ভিসার আবেদন ৷

By PTI
Published : November 8, 2025 at 5:19 PM IST
নিউইয়র্ক, 8 নভেম্বর: হৃদরোগজনিত সমস্যা, ক্যানসার, স্নায়বিক সমস্যা, ডায়াবেটিস, এমনকী স্থূলতার কারণেও খারিজ হতে পারে আমেরিকায় বসবাসের ভিসার আবেদন ৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই সংক্রান্ত একটি নোটিশ বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ ট্রাম্প প্রশাসনের পরিষ্কার বক্তব্য, যে ব্যক্তি আমেরিকায় বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন, তিনি যেন রাষ্ট্রের উপর কোনওভাবে বোঝা হয়ে না ওঠেন ৷
দেশের অন্যতম শক্তিশালী দেশে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের চিকিৎসার খরচ তাঁকেই বইতে হবে ৷ তাঁর সেই ক্ষমতা যাচাই করে অনুমোদন দেবেন আমেরিকার প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ এমনকী দেখা হবে আবেদনকারী অভিবাসীর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক পরিস্থিতিও ৷ তাঁর পরিবারে কোনও শিশু বা বৃদ্ধ থাকলে, তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন ?
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি করেছেন ৷ দেশ থেকে বহু অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছেন ৷ পাশাপাশি আরও কঠোর হয়েছে আমেরিকার ভিসা নীতি ৷ এর আগে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভিসার আবেদনে স্বাস্থ্যের বিষয়ে কয়েকটি সংক্রামক রোগ ও টিকাকরণের প্রমাণকেই গুরুত্ব দেওয়া হতো ৷
কেএফএফ হেলথ নিউজ-এর প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নয়া নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন জানালে নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার কারণে তা খারিজ হতে পারে ৷ এই শারীরিক কারণগুলি- দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা কোনও রোগ থেকে শুরু করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও হতে পারে ৷
আবার কোনও ব্যক্তি স্থূল হলে তাঁর ভিসার আবেদন খারিজ করতে পারেন ভিসা আধিকারিক ৷ কারণ, স্থূলতার সঙ্গে জড়িয়ে অ্যাস্থমা, ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হওয়া এবং উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা ৷ স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফ আমেরিকান এমব্যাসি ও কনসুলার-এর আধিকারিকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷
আধিকারিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তবেই ভিসায় ছাড়পত্র দিতে হবে ৷ কোনও অভিবাসীর চিকিৎসার খরচ ব্যয়বহুল হলে এবং তাঁর দীর্ঘ দিনের শুশ্রুষা প্রয়োজন থাকলে সেদিকটি খেয়াল করতে হবে ৷ সেই অভিবাসী যেন আমেরিকার নাগরিকের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায় ৷
অভিবাসীরা কী কী কারণে আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবেন না- সেই তালিকায় বেশ কয়েকটি নয়া কারণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৷ ভিসা অফিসারদের আবেদনকারীর বয়স খতিয়ে দেখতে হবে ৷ তাঁরা যেন আমেরিকার সরকারের সাহায্য ছাড়া নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসার খরচ চালাতে সমর্থ হন ৷
শুধু আবেদনকারী অভিবাসী নন, তাঁর পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধ বাবা-মা থাকলে, তাঁদের শারীরিক অবস্থাও পর্যালোচনা করবেন ভিসা অনুমোদনকারী আধিকারিকরা ৷ অভিবাসীর উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের কোনও শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে কি না, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে কোনও অসুস্থতায় ভুগছেন কি না, বা এমন কোনও প্রয়োজন রয়েছে কি না, যার জন্য আবেদনকারী আমেরিকায় চাকরি বজায় রাখতে পারলেন না ৷
সর্বোপরি ভিসা পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের স্বাস্থ্যের দিকটি প্রধান হয়ে উঠেছে ৷ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক-এর প্রবীণ আইনজীবী চার্লস হুইলার জানিয়েছেন, প্রায় সব ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলি প্রযোজ্য ৷ কিন্তু যে অভিবাসীরা আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বেশি হবে ৷
আইনজীবী হুইলার এই নির্দেশিকাকে 'সমস্যাপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছেন ৷ কারণ ভিসা অনুমোদনকারী আধিকারিকরা তো শারীরিক বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন ৷ একজন অভিবাসীর শরীর-স্বাস্থ্য ভবিষ্যতে কীভাবে উন্নত হতে পারে অথবা কোনও অভিবাসী সরকারের উপর বোঝা হয়ে যাবেন কি না, এই বিষয়গুলি তাঁরা বুঝবেন কী করে ?
এদিকে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অভিবাসী আইনজীবী সোফিয়া জেনোভেসি জানান, গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে একজন অভিবাসীকে তাঁর স্বাস্থ্য বিষয়ক যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে ৷ অতীতে অভিবাসীর শারীরিক পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে যেন ভিসা অনুমোদনকারী আধিকারিক এবং চিকিৎসক ভিসার আবেদন মঞ্জুর করেন, কড়া নির্দেশ মার্কিন প্রশাসনের ৷ যে অভিবাসী আমেরিকায় চাকরি খুঁজতে আসছেন, তাঁর যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারবেন কি না- সে বিষয়টি যাচাই করতে হবে ৷ যেমন- কারও ডায়াবেটিস থাকলে বা হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকলে, সেই চিকিৎসার ব্যয়বহুল ৷
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, এই ধরনের বিষয়গুলি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ কিন্তু ডায়াবেটিসের কারণে কেউ ভিসা না পেলে সেটা তাঁর কাছে একটা বড় ধাক্কা ৷ অবিলম্বে এই পরিবর্তন কার্যকর হলে, তাতে বহু অভিবাসী নিশ্চিতভাবে সমস্যায় পড়বেন, বিশেষত যাঁরা দূতাবাসগুলিতে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন ৷

