ETV Bharat / international

ফের বাংলাদেশ হিন্দু খুন, ব্যবসায়ী-সাংবাদিককে ডেকে মাথায় গুলি দুষ্কৃতীদের

এই নিয়ে হিন্দু ব্যক্তি খুনের চার নম্বর ঘটনা বাংলাদেশে ৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনকে বাংলাদেশের সংকট পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেছেন ৷

Hindu Murder in Bangladesh
বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে হিন্দু সংগঠন (ফাইল ছবি : এএনআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 6, 2026 at 9:53 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 6 জানুয়ারি: ফের হিন্দু হত্যা বাংলাদেশে ৷ সোমবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যশোর জেলায় অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীদের গুলিতে মৃত্যু হয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ৷ যিনি একটি সংবাদপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে ৷ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার জেরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশে ৷

বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র প্রথম আলোর খবর থেকে জানা গিয়েছে, নিহত হিন্দু ব্যবসায়ীর নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী (38)৷ তিনি খুলনা বিভাগের যশোরের কেশবপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ৷ মণিরামপুরের কোপালিয়া বাজারে একটি বরফ তৈরির কারখানার মালিক ছিলেন রানা প্রতাপ ৷ এছাড়াও নড়াইল থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক বিডি খবর' নামে একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন তিনি ।

বাংলাদেশ পুজো উদযাপন কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যশোরের কেশবপুর এলাকায় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ।"

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের বক্তব্য দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, সোমবার বিকেল 5টা 45 মিনিটের দিকে কোপালিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে । স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে যে, মোটর বাইকে করে আসা তিনজন দুষ্কৃতী তাঁকে বরফ কারখানা থেকে ডেকে নিয়ে কোপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কাপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায় ৷ তারপর খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় । ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ব্যবসায়ীর ।

মণিরামপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মহম্মদ রাজিউল্লাহ খানকে উদ্ধৃত করে প্রথম আলো জানিয়েছে, ব্যবসায়ীর মাথায় তিনবার গুলি করার পাশাপাশি তার গলা কেটে ফেলা হয়েছিল ৷

পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যার কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে ।পুলিশ জানিয়েছে যে, নিহত ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধের শিকার বলে মনে হচ্ছে ৷ তাঁকে এই দলের সক্রিয় সদস্য হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে ।তারা জানিয়েছে যে, নিহতের বিরুদ্ধে দু'টি থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । তবে এই মামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি । সোমবারের গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার সর্বশেষ ঘটনা এটি ।

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হিন্দু হত্যার ঘটনা

3 জানুয়ারি, খোকন চন্দ্র দাসকে (50) নৃশংসভাবে আক্রমণ করে কুপিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় । 24 ডিসেম্বর, রাজবাড়ি শহরের পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় । 18 ডিসেম্বর, ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে (25) জনতা পিটিয়ে হত্যা করে এবং তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেয় । 23 ডিসেম্বর, চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে রাউজান এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কাতারি প্রবাসী শ্রমিক শুখ শীল এবং অনিল শীলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ৷ যদিও বাসিন্দারা অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হিংসার ঘটনা ঘটেছে ৷ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণপিটুনি বা গোপনে আক্রমণ একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে । 2022 সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাংলাদেশে প্রায় 1 কোটি 31 লক্ষ হিন্দু বাস করেন ৷ যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় 7.95 শতাংশ ।