ETV Bharat / international

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য খালেদার, ঢাকার রাস্তায় মানুষের ঢল

বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া সারা দেশে ৷ শেষকৃত্যে জড়ো হয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ছিলেন বিশিষ্টরাও ৷

Khaleda Zia Funeral
খালেদা জিয়ার জানাজায় ছেলে তারেক রহমান (ছবি: বিএনপি'র সোশাল মিডিয়া)
author img

By PTI

Published : December 31, 2025 at 6:36 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ঢাকা, 31 ডিসেম্বর: কড়া নিরাপত্তার আবহে সম্পন্ন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য ৷ অস্থির বাংলাদেশে 30 ডিসেম্বর ভোরে প্রয়াত হন বিএনপি প্রধান খালেদা ৷ বুধবার দুপুরে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁকে শেষকৃত্য হয় ৷ তার আগে এদিনই খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা তুলে দেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ৷

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ ৷ এই মর্মে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে আবেদনও জানানো হয় ৷ কিন্তু শেখ হাসিনার দলকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি ৷

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদার জন্য প্রার্থনা করান জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মহম্মদ আবদুল মালেক ৷ বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি)-র স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ৷

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন খালেদা জিয়া ৷ ছেলে তারেক রহমান ছাড়াও এদিন তাঁর জানাজায় হাজির ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রধান বিচারপতি জুবেইয়ের রহমান চৌধুরী এবং দেশের সেনার তরফে প্রতিনিধিরা এবং বিদেশ থেকে আসা প্রতিনিধরা ৷ বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদার জানাজায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ৷

খালেদা জিয়ার ছেলে তথা বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, "আল্লার কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন স্বর্গে যেতে পারেন ৷"

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনে শায়িত ছিল জিয়ার দেহ ৷ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাধিস্থ করা হয় খালেদাকে ৷ সমাধিস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল ৷

Khaleda Zia Last Rites
খালেদা জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ছবি: বিএনপি'র সোশাল মিডিয়া)

দেশের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা একেবারে আকস্মিক ৷ 1981 সালে খুন হন স্বামী তথা দেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৷ সেই সময় খালেদার বয়স মাত্র 35 বছর ৷ এর আগে 1978 সালে বিএনপি'র প্রতিষ্ঠা করেছেন জিয়াউর ৷

জিয়া-হত্যার পর দলকে টিকিয়ে রাখতে খালেদার প্রয়োজন অনুভব করেন বিএনপি'র সদস্যরা ৷ তাঁরা একপ্রকার জোর করে জিয়াউরের স্ত্রীকে দলের হাল ধরতে রাজনীতির ময়দানে নামান ৷ স্বামীর জায়গায় খালেদা দলের নেতৃত্ব দেন ৷ এক গৃহবধূ থেকে পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারে সফল হন ৷ খুব দ্রুত রাজনৈতিক কৌশল শিখে বিএনপি নেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ৷

খালেদার মৃত্যুতে এদিন ঢাকায় গিয়ে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৷ বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকের হাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির তরফে শোকবার্তা তুলে দেন তিনি ৷ ভারতের তরফে গভীর শোকের কথাও জানান তাঁকে ৷ এনিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছবি-সহ একটি পোস্ট করেছেন জয়শঙ্কর ৷ গতকালই খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বার্তা পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ 2015 সালে ঢাকায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিও পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷

2024 সালের 5 অগস্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ৷ গণঅভ্যুত্থানের চাপে দেশ ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ এর তিনদিন পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৷ এই রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চাপানউতোর চলতে থাকে ৷ বিশেষত পড়শি দেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হিংসার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বারবার তিক্ত হয়ে ওঠে ৷

Khaleda Zia Last Rites in Dhaka
খালেদা জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য রাজনৈতিক নেতারা (ছবি: বিএনপি'র সোশাল মিডিয়া)

এই টানাপোড়েনের মধ্যেও স্বয়ং বিদেশমন্ত্রীর ঢাকায় গিয়ে তারেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকবার্তা প্রেরণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ ৷ ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয় দেশগুলি থেকে উচ্চ-স্তরীয় প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন খালেদা জিয়ার জানাজায় ৷

সরকারি সূত্রে খবর, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্যে ছিলেন পাকিস্তানের সংসদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক, নেপালের বিদেশ মন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, ভুটানের বিদেশ মন্ত্রী লায়নপো ডিএন ধুনগিয়েল, শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ, মলদ্বীপের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ ৷