ETV Bharat / international

ইরানে শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 116, খামেনিকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন এজেন্সির মতে, ইরানে বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা অন্তত 116 জন হয়েছে ৷ 2,600 জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

Iran Violence
ইরানে শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 116 (এপি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 11, 2026 at 11:24 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

তেহরান, 11 জানুয়ারি: টানা দু'সপ্তাহ ধরে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ৷ রবিবার এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত 116 জন হয়েছে ৷ এরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷

ইরানে ইন্টারনেট এবং ফোন লাইন বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে বিক্ষোভের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে । তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির মতে, বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা অন্তত 116 জন হয়েছে ৷ 2,600 জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে । ইরানের পূর্ববর্তী একাধিক অস্থিরতার ঘটনায় এই সংস্থাটির তথ্য সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অবশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবর সামনে এনেছে ৷ দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা ৷ তবে নিহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি ৷ উল্টে বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসবাদী বলে উল্লেখ করছে সরকারি সংবাদমাধ্যম । তবে, তারা এও স্বীকার করেছে যে, বিক্ষোভ রবিবার সকাল পর্যন্ত চলেছে ৷ তেহরান এবং উত্তর-পূর্বের পবিত্র শহর মাশহাদেও বিক্ষোভ হয়েছে ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা সত্ত্বেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই দমন-পীড়ন অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন । শনিবার তেহরান তাদের হুমকি আরও বাড়িয়েছে ৷ ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী যে কাউকে আল্লার শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে ৷ একই সঙ্গে, এটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ বলেও দাবি করেছেন তিনি । ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকী যারা দাঙ্গাকারীদের সাহায্য করেছে তারাও এই একই অভিযোগের মুখোমুখি হবে ।

Iran Violence
ইরানে শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ (আইএএনএস)

পাল্টা, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী আমেরিকা যদি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের উপর হামলা চালায়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইজরায়েলও পাল্টা লক্ষ্যবস্তু হবে ।" পার্লামেন্টে সাংসদরা এদিন 'আমেরিকার মৃত্যু হোক' স্লোগান দিতে তাকেন ৷ সেই সময় স্পিকার কালিবাফ আমেরিকাকে হুমকি দেন ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অবশ্যই দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বা যারা দেশে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বিচার এবং মোকাবিলার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে । কোনওরকম নমনীয়তা, সহানুভূতি বা প্রশ্রয় ছাড়াই বিচার করতে হবে ।"

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৷ সোশাল মিডিয়ায় তিনি বলেছেন, "ইরান সম্ভবত আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে । যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷" নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার রাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানের উপর হামলার জন্য সামরিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল ৷ তবে এখনও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ।

মার্কিন বিদেশ দফতর ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা করবেন না । যখন তিনি কিছু করার কথা বলেন, তখন তিনি তা সত্যিই করেন ।" শনিবার ইরানে কাজের দিনের শুরু হলেও অনেক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনেই ক্লাস চালাচ্ছে ৷ অন্যদিকে, এক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, শুক্রবার উত্তর তেহরানের সাদাত আবাদ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা তীব্র প্রতিবাদ করছে ৷ রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ নেমে প্রতিবাদ করছে ৷ একই সঙ্গে তারা স্লোগান দিচ্ছে, "খামেনেই নিপাত যাক ৷" একই সঙ্গে এও দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি অফিসে পেট্রল বোমা ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেয় ৷

ইরান সরকার বৃহস্পতিবার দেশের ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ৷ যদিও কিছু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং আধা-সরকারি গণমাধ্যমকে খবর প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল । ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি, যিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন ৷ তাঁর সর্বশেষ বার্তায় বিক্ষোভকারীদের শনিবার ও রবিবার রাস্তায় নামার আহ্বানও জানিয়েছেন । তিনি বিক্ষোভকারীদের ইরানের পুরোনো সিংহ ও সূর্যখচিত পতাকা এবং শাহের শাসনকালে ব্যবহৃত অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার জন্যও অনুরোধ করেছেন ।