আদানিদের সঙ্গে থাকা বিদ্যুৎ-চুক্তি বাতিল করতে পারে ইউনূস প্রশাসন
2017 সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয় আদানিরা ৷ সেই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে ৷

By PTI
Published : November 3, 2025 at 8:24 PM IST
ঢাকা, 3 নভেম্বর: কোনওরকম গড়মিল ধরা পড়লে আদানিদের সঙ্গে থাকা বিদ্যুৎ-চুক্তি বাতিল করবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন ৷ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় 2017 সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয় আদানিরা ৷ সেই চুক্তির ব্যাপারে কোনও অস্বচ্ছতা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার ৷
তৈরি হয়েছে তদন্ত কমিটিও ৷ সেই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফজুল কবির ৷ প্রাথমিকভাবে তাতে কোনও অস্বচ্ছতার বিষয় উল্লেখ করা হয়নি জানিয়ে কবির দাবি করেন, যদি আগামিদনে জানা যায় ওই চুক্তি সংক্রান্ত কোনও ব্যাাপারে গড়মিল করা হয়েছিল তাহলে তাঁদের সরকার সেই চুক্তি বাতিল করতে দিতে দ্বিধা করবে না ৷ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্যতম উপদেষ্টার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনও আদানিদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি ৷
এই তদন্ত কমিটির মাথায় আছেন বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ৷ সম্প্রতি তিনি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ৷ হাসিনা আমলে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে হওয়া সরকারের চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠেছে ৷ তারপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ৷ মনে করা হচ্ছে, জানুয়ারি মাসে নিজেদের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে কমিটি ৷ মইনুল জানান, বিদ্যুতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে জানতে পেরেছে তাঁদের ছ'সদস্যের তদন্ত কমিটি ৷ সরকারি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক ফাঁকফোকর চোখে পড়েছে তাঁদের ৷ তারপরই বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে ৷
2017 সালে আদানিদের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয় ৷ ঠিক হয়, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানিদের যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে সেখানে উৎপাদিত তাপবিদ্যুতের একশো শতাংশ 25 বছর ধরে বাংলাদেশে পাঠানো হবে ৷ সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা নিয়ে খানিকটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে ৷ জুন মাসে বিদ্যুতের খরচ বাবদ আদানিদের 437 মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বাংলাদেশ ৷ একটা সময় বকেয়া মেটাতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে ৷ বকেয়ার চেয়ে কম পরিমাণে টাকা মেটানো হচ্ছিল ৷ তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও রাশ টেনেছিল আদানিরা ৷ পরে অবশ্য পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ৷
এমনই আবহে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ৷ এখনও পর্যন্ত আদানিদের বিরুদ্ধে কোনও গড়মিলে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি ৷ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তাঁদের হাতে এমন কয়েকটি তথ্য এসে পৌঁছেছে যা থেকে বোঝা যাচ্ছে আগামিদিনে (আদানিদের) দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মিলতে পারে ৷
সে সম্ভবনা মাথায় রেখেই আদানিদের সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করা নিয়ে ইউনূস প্রশাসনের শীর্ষস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে ৷ যদিও প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি ৷ অন্যদিকে, আদানির মতো বড় সংস্থার সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করার আগে সরকারের আরও বেশি করে সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী স্বাধীন মালিক৷ তাঁর মতে, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে ভুল হলে বাংলাদেশকে মোটা জরিমানা দিতে হতে পারে ৷

