ETV Bharat / international

হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘোষণায় 'ক্রোধ' তারেক সরকারের, প্রবল ক্ষুব্ধ দিল্লির উপরও

ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ক্ষতিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক ৷

Bangladesh News
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বাঁদিকে), বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান (ডানদিকে) (ফাইল ছবি - IANS ও ANI)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 6, 2026 at 7:46 AM IST

|

Updated : August 6, 2026 at 1:22 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ঢাকা, 6 অগস্ট: ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া বার্তার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করল বাংলাদেশ ৷ দেশের বিরুদ্ধে এবং জনগণের উদ্দেশ্যে বিষোদগার করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে । তারেক রহমান সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতের উপরও ৷

বুধবার (স্থানীয় সময়) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক বলেছে, "নয়াদিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত এবং গণহত্যার জন্য দায়ী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ । সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন ।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আগেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখপ্রকাশ করছে ।" বিদেশমন্ত্রক উল্লেখ করে, যেদিন বাংলাদেশের জনগণ 'জুলাই বিপ্লব'-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি চরম অপমান হিসেবে গণ্য হচ্ছে ।

মন্ত্রক আরও জানায়, ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে 2024 সালের জুলাই-অগস্ট শিশু-সহ নিরপরাধ সাধারণ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রমাণিত ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করাটা পলাতক, দণ্ডপ্রাপ্ত ও গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তাঁর অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র । বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এমন জঘন্য প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছে ।

জুলাই বিপ্লবের আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রক জানায় যে, বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ—"আমাদের জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও অন্য কোনও রাষ্ট্রের অনুগত বা 'ক্লায়েন্ট স্টেট'-এ পরিণত হবে না । দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তাঁর মাফিয়া চক্রের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনও স্থান হবে না ।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বাংলাদেশ । দুঃখজনকভাবে, 2013 সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও... বরং, কোনও অজুহাতেই তাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়াটা আমাদের জনগণের আবেগের ওপর গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ।"

এর আগে আজ, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন । তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, গ্রেফতার, কারাবাস কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মতো যে কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত । বাংলাদেশ ছাড়ার পর নয়াদিল্লি থেকে আয়োজিত প্রথম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে জানান, তাঁর সমর্থক ও দেশবাসী যখন নানাবিধ কষ্টের শিকার হচ্ছেন, তখন তিনি বিদেশে বসে থাকতে পারেন না । তিনি বলেন, "আমার ভাগ্যে যা-ই থাকুক না কেন, আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাব । আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তখন আমি দূরে থাকতে পারি না... আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই ।"

Last Updated : August 6, 2026 at 1:22 PM IST