ETV Bharat / international

দেশদ্রোহীতার মামলা, হাসিনার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন 21 জানুয়ারি

অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলেন হাসিনা-সহ 285 জন ৷ শুরু হতে চলেছে এই মামলার চার্জ গঠন প্রক্রিয়া ৷

HASINA
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশের একটি আদালত (ফাইল চিত্র)
author img

By PTI

Published : January 5, 2026 at 8:54 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ঢাকা, 5 জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধে আগেই ফাঁসির সাজা হয়েছে ৷ এবার দেশদ্রোহীতার মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশের একটি আদালত ৷ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে হাসিনা-সহ 285 জনের বিরুদ্ধে ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে 21 জানুয়ারি চার্জ গঠন করবে ঢাকার স্পেশাল জাজেস কোর্ট ৷ এদিকে গণআন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করতে চলেছে পুলিশ ৷ আগামী সাত তারিখের মধ্যেই এই চার্জশিট জমা পড়তে চলেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ৷

2024 সালের অগস্ট মাসে হাসিনার সরকারের পতন হয় ৷ এর তিন দিন বাদে ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ৷ কয়েক মাস বাদে ডিসেম্বরে জয়বাংলা ব্রিগেড নামে একটি গোষ্ঠী আয়োজিত ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন হাসিনা-সহ বাকিরা ৷ আদালতে ইউনূস প্রশাসন দাবি করে, ওই বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ফেলে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল ৷ সেই সূত্রে হাসিনাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা দায়ের হয়েছে ৷ শুনানির পর আদালতের বিচারক আব্দুস সালেম জানান এই 285 জনের বিরুদ্ধে 21 জানুয়ারি চার্জ গঠন করা হবে ৷

গত বছর মার্চ মাসে হাসিনাদের বিরুদ্ধে এই আদালতে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশের সিআইডি ৷ তার আগে তারা তদন্তের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছিল ৷ এরপর শুরু হয় বিচারপর্ব ৷ 30 জুলাই মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা ৷ সেই চার্জশিট গ্রহণ করার পর 14 অগস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত ৷

Muhammad Yunus
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনাদের বিরুদ্ধে (ফাইল চিত্র)

11 সেপ্টেম্বর অভিযুক্তদের যাতায়াতের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত ৷ 14 অক্টোবর অভিযুক্তদের সন্ধান চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয় ৷ ততদিন অবশ্য মামলার শুনানি চলছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৷ এরপর নভেম্বর মাসে সেখান থেকে মামলা স্থানান্তরিত হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন সেশন জাজেস কোর্টে ৷ এই আদালতেই হবে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া ৷

এর আগে 17 নভেম্বর মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার ৷ তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফাঁসির সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল ৷ রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লা আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে এই ট্রাইবুনাল ৷ ঢাকার আশুলিয়ায় ছ'জনকে পুড়িয়ে হত্যা এবং চানখাঁরপুল এলাকায় ছ'জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় হাসিনাদের ফাঁসির সাজা দিয়েছিল আদালত ৷ সেবার এই দুটি গণহত্যা-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাইদকে গুলি করে হত্যার মতো অভিযোগও রয়েছে ৷

ঠিক একদিন আগে রবিবার শেখ হাসিনার আমলে নাগরিককে গুম ঘরে পাঠানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তৈরি কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ে ৷ বাংলাদেশের প্রায় 4 থেকে 6 হাজার নাগরিককে গুম করা হয়েছিল বলে দাবি কমিশনের ৷ রবিবার এই কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণেই এভাবে গুম করা হত বলে রিপোর্টে জানিয়েছে কমিশন ৷ যাঁদের গুম করা হয়েছিল তাঁদের অধিকাংশ জামাতের সদস্য় বলে উঠে এসেছে রিপোর্টে ৷