আরও এক হিন্দু যুবক খুন বাংলাদশে, ব্রজেন্দ্রর প্রাণ কাড়ল সহকর্মীর গুলি
ঘটনায় বজেন্দ্র বিশ্বাসের সহকর্মী নোমান মিঞাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কর্তা ৷ খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয় ৷

By ANI
Published : December 30, 2025 at 7:23 PM IST
ময়মনসিংহ ও ঢাকা, 30 ডিসেম্বর: বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু যুবককে খুনের অভিযোগ ৷ সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকায় বজেন্দ্র বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুন করা হয় ৷ তিনি বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন ৷ ঘটনায় তাঁর সহকর্মী নোমান মিঞাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ কী কারণে বজেন্দ্রকে খুন করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয় ৷ বাংলাদেশে ভিলেজ পুলিশের ভূমিকা পালন করে এই আনসার বাহিনী ৷
বাংলাদেশে সম্প্রতি অশান্তি শুরু হওয়ার পর এই ময়মনসিংহের ভালুকাতেই খুন হন 25 বছর বয়সি দীপুচন্দ্র দাস ৷ একটি পোশাক কারখানার কর্মী দীপুকে তাঁর অফিস থেকে টেনে বের করে এনে পিটিয়ে মারে ভিড় ৷ পরে তাকে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টাও হয় ৷ অভিযোগ ছিল তিনি নাকি এমন একটি মন্তব্য করেছেন যা কিছু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে ৷ তবে বজেন্দ্র বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছে কি না তা এখনও জানা যায়নি ৷
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লা আল মামুন ৷ তিনি জানান এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৷ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী মহাসচিব মহিন্দ্র নাথ ৷ তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে 6টা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে ৷ বজেন্দ্রর বাবার নাম পবিত্র বিশ্বাস ৷ বাড়ি সিলেটের কাদিপুর জেলায় ৷ নোমানের বাবা লুতফার রহমান সুনামগঞ্জের তাহেরপুরের বাসিন্দা ৷
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আনসার বাহিনীর 20 জনের একটি দল ভালুকা এলাকার একটি পোশাক কারখানার সামনে ডিউটি করছিলেন ৷ বাহিনীর এক সদস্য পুলিশকে জানান, তিনি বজেন্দ্র আর নোমানকে তিনি পাশাপাশি বসে থাকতে দেখেছিলেন ৷ খানিকক্ষণ পর নোমান যেখানে বসেছিলেন সেখান থেকে গুলি ধেয়ে আসে ব্রজেন্দর দিকে ৷ তিনি গুরুতর আহত হন ৷ সহকর্মীরাই তাঁকে কাছের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান ৷ সেখানেইত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷
2024 সালের গণআন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ ৷ সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ আগের থেকে অনেকটা বেড়েছে ৷ এ নিয়ে গত দু'সুপ্তাহের মধ্যে তিনজন হিন্দু যুবকের প্রাণ গেল ৷ দীপুর পরে গণপিটুনিতে প্রাণ যায় সম্রাটের ৷ তবে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক সংগ্রামের মৃত্যুকে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ ৷ তাদের দাবি, অন্য় একজনকে সঙ্গে নিয়ে তোলাবাজি করছিলেন সম্রাট ৷ সে সময় ভিড় তাঁকে মেরে ফেলে ৷ এবার প্রাণ গেল আরও এক হিন্দু যুবকের ৷ তবে এ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি ৷

