বাংলাদেশে হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, ভারতীয়দের ওর্য়াক পারমিট বাতিলের দাবি
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন 12 ফেব্রুয়ারি ৷ এখনও অশান্ত বাংলাদেশ ৷ একের পর এক হিন্দু খুনের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে দেশের আইনশৃঙ্খলা ৷

By PTI
Published : January 6, 2026 at 8:40 PM IST
ঢাকা, 6 জানুয়ারি: মিছিল-পাল্টা মিছিলে উত্তাল ঢাকা ৷ গণআন্দোলনের নেতা প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকরা মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় মিছিল করেন ৷ তাঁদের দাবি, হাদি হত্যায় অভিযুক্তরা ভারতে আত্মগোপন করেছে ৷ কিন্তু দিল্লি তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না ৷ এমতাবস্থায় বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের ওর্য়াক পারমিট বাতিল করতে হবে ৷ পাশাপাশি হিন্দু ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী খুনের ঘটনার বিচার চেয়ে পথে নামলেন ব্যবসায়ীরা ৷
এদিন সকাল সাড়ে 11টা নাগাদ শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু করেন হাদির সমর্থকরা ৷ এরপর স্থানীয় সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মহম্মদপুর, মিরাপুর 10, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাদ্দা, রামপুর এবং জটরবাড়ি হয়ে আবার শাহবাগে বাড়ি আসে মিছিল ৷ ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদসংস্থা পিটিআই ৷ তাঁরা বলেন, "হাদির রক্ত আমরা ব্যর্থ হতে দেব না ৷" তাঁদের আরও দাবি, হাদির খুনিরা এখনও ভারতে আত্মগোপন করে আছে ৷ যদিও এ দাবি আগেই খারিজ করে দিয়েছে ভারত ৷
আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার দাবি
এই প্রথম নয়, এর আগে 28 ডিসেম্বর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) এসএন মহম্মদ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন ফৈজল করিম মাসুদ এবং আলমগীর শেখ মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছে ৷ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এই দাবি খারিজ করে দেয় বিএসএফ ৷ বাহিনীর আইজি তথা মেঘালয়ে বাহিনীর প্রধান ওপি উপাধ্যায় বলেন, "বাংলাদেশ পুলিশের এক শীর্ষকর্তা দাবি করেছেন স্থানীয়দের সাহায্য় নিয়ে হাদি খুনে অভিযুক্তরা ভারতে প্রবেশ করেছে ৷ কিন্তু আমি আপনাদের জানাতে চাই, এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি ৷ বাংলাদেশ থেকে কেউ হালুয়াঘাট সীমান্ত পার করে এ দেশে প্রবেশ করেছেন এমন কোনও খবর আমাদের কাছে নেই ৷"
প্রায় একই দাবি করেন মেঘালয় পুলিশের এক শীর্ষকর্তাও ৷ এরপর কয়েকটি সূত্র দাবি করে হাদি খুনে অভিযুক্ত সৌদি আরবে গিয়ে আত্মগোপন করেছে ৷ তার ছবিও ঘোরাফেরা করছিল সোশাল মিডিয়ায় ৷ তবে হাদি সমর্থকরা এই দাবি খারিজ করেছেন ৷ তাতে স্পষ্ট দাবি, অভিযুক্তরা ভারতেই আত্মগোপন করেছে ৷ ভারত তাদের আশ্রয় দিয়েছে ৷ আর দিল্লি যদি তাদের ঢাকার হাতে তুলে না-দেয় তাহলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত বলেও মনে করে ইনকিলাব মঞ্চ ৷
মণি খুনের নেপথ্যে পুরনো আক্রশ
এদিকে, হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় ঢাকার কাছে নরসিংদী শহরে প্রতিবাদে সরব হল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ৷ সোমবার রাতে যশোরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের গুলিতে মৃত্যু হয় মণি চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ীর ৷ এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন ব্যবসায়ীরা ৷ একশোরও বেশি ব্যবসায়ী জমায়েত করেন ৷ তাঁদের দাবি, মণি খুনের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে ৷ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে ৷
প্রয়াত ব্যবসায়ীর বন্ধু রাজেন্দ্র চহরি বলেন, "এখন আমরা দুর্বল ৷ প্রতিবাদ করার মতো যথেষ্ট শক্তি আমাদের নেই ৷ কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না মণির মতো মানুষ হয় না ৷ যারা তাকে খুন করল তাদের বিচার হওয়া অবশ্যই উচিত ৷" মণির আরেক বন্ধু-তথা খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রদীপ চন্দ্র বর্মন বলেন, "মণি দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন ৷ আচমকাই তাঁর উপর আক্রমণ হয় ৷ দেখে মনে হল পুরনো আক্রোশ থেকেই যেন তাঁর উপর হামলা করা হচ্ছে ৷ লুঠের জন্য খুন করা হয়নি ৷ কারণ আততায়ীরা মণির মোবাইল বা মোটরবাইক কোনওটাই নেয়নি ৷"
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিততে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিল জামাত ৷

