অনেকের মৃদু সর্দি-কাশি আবার কারও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, সোয়াইন ফ্লু কীভাবে শরীরে আক্রমণ করে ?
সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে । এই ভাইরাস কারও কারও ক্ষেত্রে মৃদু প্রভাব ফেলে, আবার কেউ কেউ এতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন ।

Published : August 30, 2026 at 9:01 AM IST
দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলে সোয়াইন ফ্লু-র প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে ৷ তাই এই সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে । তবে এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে একটি কৌতূহলজাগানিয়া বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে ৷ কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাত্রা এতটাই মৃদু হয় যে কেবল ঘরোয়া পরিচর্যাতেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন ৷ আবার অনেকের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে ।
একই ভাইরাসের প্রভাবে কেন এমন ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ? কীভাবে একই ভাইরাস একজনের শরীরে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো সামান্য উপসর্গ সৃষ্টি করে, অথচ অন্যজনের ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে ? এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া প্রয়োজন ৷
শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা:
চিকিৎসকরা জানান, কোনও ব্যক্তির ওপর H1N1 ভাইরাসের প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ভর করে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর । বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে হিমশিম খায় ।
ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ
সাধারণ ফ্লু সাধারণত নাক ও গলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু H1N1 ভাইরাস ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে । ভাইরাসটি যখন ফুসফুসের এতটা গভীরে পৌঁছয়, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যধিক প্রতিক্রিয়া দেখায় ৷ এই অবস্থাকে বলা হয় 'সাইটোকাইন স্টর্ম' (cytokine storm)। এর ফলে ফুসফুসের বায়ুথলিগুলি তরল পদার্থে পূর্ণ হয়ে যায়, যা নিউমোনিয়া এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ।
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ
H1N1 ভাইরাসের আক্রমণে শরীর আগেই দুর্বল হয়ে পড়ে । এই অবস্থায় Streptococcus pneumoniae-র মতো ব্যাকটেরিয়াও শরীরে আক্রমণ করতে পারে, যা শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে ।
চিকিৎসায় বিলম্ব বিপজ্জনক হতে পারে
এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হল সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়া । উপসর্গ দেখা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যে সোয়াইন ফ্লুর ওষুধ খেলে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব । কিন্তু চিকিৎসায় দেরি হলে ফুসফুসের ক্ষতি সেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে । শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা মানসিক বিভ্রান্তি, দুর্বলতা, ঠোঁট ও মুখমণ্ডল নীলচে হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত বমি বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।
সুস্থ ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন
সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও H1N1 সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি । এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল টিকা নেওয়া । উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিলে সংক্রমণকে গুরুতর পর্যায়ে যাওয়া থেকে রোধ করা যায় ।
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC12184450/
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

