সন্তানও কি সব সময় ফোনের সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকে ? অটিজমের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে
দিল্লির এইমস (AIIMS)-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুযায়ী জানা গিয়েছে শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে ৷

Published : May 6, 2026 at 10:28 AM IST
|Updated : May 6, 2026 at 10:51 AM IST
স্ক্রিন বা পর্দার ব্যবহার ক্রমশ মানুষের পারস্পরিক সংযোগ, স্নেহ এবং কথোপকথনের স্থান দখল করে নিচ্ছে ৷ আর এগুলিই হল শিশুদের বিকাশের জন্য সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান । তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক যেমন গল্প শোনা ও বলা, পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো, খেলাধুলা করা, স্পর্শের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু অন্বেষণ করা এবং এজাতীয় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে ।
চিকিৎসকরা জানান, স্ক্রিনের সামনে অতিবাহিত সময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ দেখা দেওয়ার একটি সহায়ক কারণ হতে পারে । তবে, এটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, অটিজমের পিছনে কোনও একটি একক বা একমাত্র কারণ দায়ী নয় ।
এটি একটি জটিল ঘটনা, যার সঙ্গে জিনগত, পরিবেশগত এবং জীবনযাত্রাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় জড়িত । তবে, অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা বিবেচনায় রেখে এই বিষয়ে ‘এইমস’ (AIIMS)-এ পরিচালিত গবেষণাগুলি একটি সতর্কবার্তা হিসাবে কাজ করছে । এই গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয়, যেসব শিশু শৈশবে অত্যধিক সময় স্ক্রিনের সামনে ব্যয় করে, পরবর্তী জীবনে তাদের মধ্যে অটিজম-সম্পর্কিত লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অধিক হতে পারে ।
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার কী ?
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার হল একটি স্নায়ুবিকাশজনিত অবস্থা, যা শিশুর সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং যোগাযোগের দক্ষতাকে প্রভাবিত করে । ফলস্বরূপ, জীবনের প্রথম বছরেই যদি কোনও শিশু মানুষের স্পর্শ ও পারস্পরিক কথোপকথনে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে, কোনও যন্ত্রের (যেমন—মোবাইল ফোন) সঙ্গে যান্ত্রিক মিথস্ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে বা সেটির প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠে, তবে তাদের আচরণের ধরনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে । 'এইমস' (AIIMS)-এ পরিচালিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই বিষয়টিই প্রমাণিত হয়েছে; গবেষণায় জোরালোভাবে বলা হয়েছে, শিশুদের বিকাশের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, 'স্ক্রিন টাইম' বা যন্ত্রের পিছনে ব্যয় করা সময়ের চেয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা তাদের জন্য অনেক বেশি জরুরি ।
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুরা খেলনা নিয়ে স্বাভাবিক বা প্রথাগত উপায়ে খেলাধুলা করে না বরং তারা খেলনার কোনও নির্দিষ্ট অংশের প্রতিই গভীরভাবে মনোনিবেশ করতে পারে । এখানে 'স্পেকট্রাম' (spectrum) শব্দটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই শব্দটির অন্তর্নিহিত অর্থ হল—প্রতিটি শিশুই স্বতন্ত্র বা অনন্য; তাদের মধ্যে হুবহু একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না এবং এই লক্ষণগুলির তীব্রতাও একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে ।
প্রথম এক হাজার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
AIIMS-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুযায়ী, ছোট শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঘটে । এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানোর বিষয়টি শিশুদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে । যদিও অটিজমের একমাত্র কারণ স্ক্রিন-টাইম নয়, তবুও এই ব্যাধিটি সৃষ্টিতে এটি নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সহায়ক উপাদান হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে ।
বর্তমানে শিশুদের প্রায় শুরু থেকেই তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় এবং এর পরিবর্তে তাদের নির্বিঘ্নে স্ক্রিন-নির্ভর এক জগতে একীভূত করে ফেলা হয় । এটি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশের পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । বস্তুত, একটি শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর বিশেষ করে প্রথম 1000 দিন এমন একটি সময়, যখন তাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত গ্রহণক্ষম থাকে এবং খুব সহজেই বিভিন্ন তথ্য আত্মস্থ করতে পারে । ঠিক এই বয়সেই অটিজমের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করতে পারে ।
এটি সেই সময়ও বটে, যখন অটিজমের লক্ষণগুলি শনাক্ত করা সম্ভব । যদি এই পর্যায়ে অটিজম নির্ণয় করা যায়, তবে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয় । উপরের গবেষণা অনুযায়ী, 18 মাস বয়সের কম বয়সি শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা বাঞ্ছনীয় ।
এই লক্ষণগুলির প্রতি মনোযোগ দিন:
তিন বছর বয়সের পর মস্তিষ্কের গঠনগত বিন্যাসগুলি আরও সুদৃঢ় হয়ে ওঠে ৷ যার ফলে পরবর্তীতে কোনও পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়ে । এমতাবস্থায়, অভিভাবকদের উচিত শিশুর মধ্যে প্রকাশ পাওয়া কিছু প্রাথমিক লক্ষণের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া ।
এসব লক্ষণের মধ্যে রয়েছে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলা, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া, কথা বলা শিখতে বিলম্ব হওয়া, কিংবা ইতিমধ্যে অর্জিত কোনও দক্ষতা ভুলে যাওয়া । অটিজম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে ।
https://link.springer.com/chapter/10.1007/978-3-032-18477-1_50
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC8592297/
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)
- গ্রীষ্মকালে ফল খাওয়ার সেরা সময় কোনটি জানেন ?
- শরীরের ক্রমবর্ধমান ব্যথা কি আপনার ‘অপ্রকাশিত আবেগের’ ফলাফল হতে পারে ? গবেষণার নয়া তথ্য
- শীতল ও সতেজকর জলজিরা গ্রীষ্মকালে অ্যাসিডিটি থেকে স্বস্তি দেয়, এইভাবে বাড়িতে খুব সহজেই বানান পানীয়
- এই সহজ পদ্ধতি আপনার আচারকে ছত্রাকমুক্ত রাখবে, বছরের পর বছর ধরেও তা নষ্ট হবে না

