ডায়াবেটিস ডায়েটে বড় বদল, ব্যক্তিভেদে তৈরি হচ্ছে 'প্রিসিশন' খাদ্যতালিকা
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়েটে এসেছে নানান পরিবর্তন ৷ সবধরনের মানুষদের ক্ষেত্রে ডায়েটের রীতিও আলাদা ৷ বিশেষজ্ঞর সঙ্গে ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি সৌমিতা ভট্টাচার্য্য় ৷

Published : May 1, 2026 at 2:55 PM IST
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বদলাচ্ছে চিকিৎসা পদ্ধতি । এখন আর এক ছাঁচে তৈরি ডায়েট চার্টে ভরসা করছেন না বিশেষজ্ঞরা । এরবদলে রোগীর শরীর, জীবনযাপন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা 'প্রিসিশন বেসড' ডায়েট । এমনটাই জানালেন ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান অরিত্র খাঁ । তিনি বলেন, ''ডায়াবেটিস ডায়েট বলে আলাদা করে কিছু হয় না । আগে আমরা যেভাবে ডায়েট দিতাম, তার অনেকটাই বিশ্বাস বা অভ্যাসের উপর নির্ভর করত । সেই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই কুসংস্কার বা প্রচলিত ধারণা চিকিৎসার অংশ হয়ে উঠেছিল । পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ক্যালোরির ডায়েট চার্ট চালু হয় ৷ 1200, 1500 বা 1600 কিলোক্যালোরির মতো তালিকা ঘুরে ফিরে দেওয়া হতো রোগীদের ।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতিও বদলেছে । এখন চিকিৎসায় গুরুত্ব পাচ্ছে 'এভিডেন্স বেসড ডায়েটারি প্র্যাকটিস' । অরিত্র খাঁর কথায়, ''আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জার্নালের ভিত্তিতে এখন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হচ্ছে । আমরা আরও এগিয়ে গিয়ে প্রিসিশন বেসড থেরাপিউটিক ডায়েট প্র্যাকটিসে কাজ করছি । এই পদ্ধতিতে একই রোগে আক্রান্ত হলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা ডায়েট নির্ধারণ করা হয় । চারজন মানুষের একই ডায়াবেটিস থাকতে পারে, কিন্তু তাদের ডায়েট চাররকম হবে ৷"
তিনি আরও বলেন, "রোগীর অ্যানথ্রোপোমেট্রিক মাপ, বায়োকেমিক্যাল রিপোর্ট, খাদ্যাভ্যাস, ওষুধের সঙ্গে খাবারের প্রতিক্রিয়া, এমনকি জেনেটিক ও হরমোনাল বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে । ডায়েট নির্ধারণে রোগীর কাজের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে । আমরা সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করি- সিডেন্টারি, মডারেট এবং হেভি অ্যাক্টিভিটি । সিডেন্টারি বা বসে কাজ করা মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালোরির চাহিদা কম থাকে । কোভিড পরবর্তী সময়ে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর ফলে এই শ্রেণির সংখ্যা বেড়েছে, ফলে স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়ছে ।
অন্যদিকে, যাঁরা সারাদিন বাইরে ঘুরে কাজ করেন- যেমন সাংবাদিক, পুলিশ বা ফিল্ড ওয়ার্কার তাঁরা পড়েন মডারেট অ্যাক্টিভিটি গ্রুপে । তাঁদের ক্ষেত্রে ক্যালোরি একটু বেশি লাগে, পাশাপাশি জল ও ইলেকট্রোলাইট খুব গুরুত্বপূর্ণ । সবচেয়ে বেশি ক্যালোরির প্রয়োজন হয় হেভি ওয়ার্কারদের । "যারা কায়িক পরিশ্রম করে যেমন- রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক তাঁদের শক্তির চাহিদা অনেক বেশি । তাদেরক্ষেত্রে ডায়েট চার্ট সম্পূর্ণ আলাদা বলেই জানান ডায়েটিশিয়ান ৷

প্রি-ডায়াবেটিস নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি । এই অবস্থাকে আমরা রেমিশন স্টেজ বলি । সঠিক ডায়েট ও লাইফস্টাইল মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব । সাধারণত ফাস্টিং ব্লাড সুগার 70 থেকে 110 mg/dL স্বাভাবিক হলেও 110 থেকে 125 mg/dL থাকলে সেটিকে প্রি-ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা হয় । এই পর্যায়ে ওষুধের বদলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের উপর জোর দেন চিকিৎসকরা ।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে অরিত্র খাঁর স্পষ্ট বার্তা, "এটি একটি মেটাবলিক ডিসঅর্ডার, যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের প্রায় সব অঙ্গের উপর প্রভাব ফেলে । দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখ, কিডনি, স্নায়ু ও হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে ।


