30 বা 40 বছরে হঠাৎ ব্রণর সমস্যা হচ্ছে ? হালকাভাবে নিলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে
আপনিও কি হঠাৎ করেই 30 বা 40 বছর বয়সে ব্রণ সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছেন ? এর কারণ হতে পারে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ।

Published : April 15, 2026 at 12:01 PM IST
|Updated : April 15, 2026 at 12:07 PM IST
আমরা প্রায়শই ধরে নিই, ব্রণ কেবল কৈশোরকালীন একটি সমস্যা ৷ তবে ইদানীং 30 বা 40-এর কোঠায় হঠাৎ করে ব্রণের সমস্যা দেখা দেওয়াটা বেশ সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । অনেকের কাছেই এটি এক ধাঁধার মতো মনে হয় ৷ আগে ত্বক সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে । বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সঙ্গে আমাদের জীবনযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে । বিশেষজ্ঞরা জানান, মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের মতো অভ্যাসগুলি আমাদের ত্বকের ওপর ভেতর থেকে প্রভাব ফেলে ৷ আর এর ফলেই হঠাৎ করে ব্রণের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে ।
হঠাৎ ব্রণ ওঠার কারণসমূহ: মানসিক চাপ হতে পারে এর প্রধানতম উদ্দীপক
বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যধিক মানসিক চাপ শরীরের অভ্যন্তরে হরমোনজনিত পরিবর্তনের সূত্রপাত ঘটায় । সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, এরফলে 'কর্টিসল' নামক হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ৷ যা পরবর্তীতে ত্বকের তেল নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে । এরফলে ত্বকের লোমকূপগুলি রুদ্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণের উপদ্রব দেখা দেয় । অন্য কথায় মানসিক চাপ যত বেশি হবে, ত্বকের সমস্যাগুলিও ততটাই তীব্র আকার ধারণ করবে ।
ঘুমের অভাব আপনার ত্বকের ক্ষতি করে: আপনি যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমান, তবে এর প্রভাব সরাসরি আপনার ত্বকে ফুটে ওঠে । বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের স্বাভাবিক মেরামতের প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয় । এর ফলে ব্রণ, ত্বকের ঔজ্জ্বল্যহীনতা এবং প্রদাহের সমস্যা বৃদ্ধি পায় ।
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ব্রণের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে:
মিষ্টিপ্রিয় মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য । অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা ইনসুলিনের মাত্রায় আকস্মিক উল্লম্ফন ঘটায় । এর ফলে ত্বকে তেলের উৎপাদন ও প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত ব্রণের প্রকোপ বাড়িয়ে তুলতে পারে ।
হরমোনের পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী: 30 থেকে 40 বছর বয়সের মধ্যবর্তী সময়ে শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে ৷ বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। এই পরিবর্তনগুল ত্বকের তেলের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে ৷ যারফলে হঠাৎ করেই ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে ।
ত্বকের যত্নের ভুল পদ্ধতিও ক্ষতিকর হতে পারে: অনেকেই বয়সের সঙ্গে মানানসই ত্বকের যত্নের সঠিক পদ্ধতিটি বেছে নিতে ব্যর্থ হন । অত্যধিক পরিমাণে প্রসাধনী ব্যবহার করা কিংবা ভুল ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে ৷ যারফলে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যায় ।
প্রতিরোধের জন্য কী করা যেতে পারে ?
চিকিৎসকরা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিদিন 7 থেকে 8 ঘণ্টা ঘুমানো এবং চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন । এছাড়া, ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে একটি মৃদু ও উপযুক্ত পদ্ধতি বা রুটিন মেনে চলা উচিত । যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

