মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন, আজ অসমে 'জুবিন দিবস'
অসমজুড়ে পালিত হচ্ছে জুবিন গর্গের 53তম জন্মদিন ৷

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : November 18, 2025 at 12:29 PM IST
গুয়াহাটি (অসম), 18 নভেম্বর: মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন ৷ অসমে আজ 'জুবিন দিবস' (Zubeen Garg’s 53rd Birthday) ৷ দিকে দিকে, আজকের দিনটা যেখানে আনন্দের সঙ্গে পালিত হত, আজ সেই উৎসব উদযাপন করতে গিয়ে লাখো লাখো জুবিন অনুরাগীদের চোখে জল ৷ সোমবার রাত থেকেই অসমের বিভিন্ন জায়গায় জুবিনের 53তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ৷ খোয়াঙ্গের ধেমেসিতে জুবিন গর্গের জন্মদিন উদযাপন করেছে সাধারণ মানুষ।
এদিন, প্রায় 200-র বেশি জুবিন প্রেমী শিল্পীর 'মায়াবিনী' গান গেয়ে পরিবেশ প্রাণবন্ত করে তোলে। ধেমেসি মিলনজ্যোতি যুবক সংঘের উদ্যোগে এই জন্মদিন উদযাপনে এক হাজারের বেশি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয় ৷ প্রিয় শিল্পীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান মঙ্গলবার রাত 12টা পর্যন্ত চলবে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত সাধারণ মানুষ শিল্পী জুবিন গর্গকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে।
জুবিনের প্রতিচ্ছবি অঙ্কন
জুবিন গর্গের জন্মদিন উদযাপনে 1001টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয় ৷ অনুষ্ঠানের এক উদ্যোক্তার কথায়, "ধেমেসি মিলনজ্যোতির যুবক সংঘের উদ্যোগে এবং জনগণের সহযোগিতায় জুবিন গর্গের জন্মদিন পালন করা হচ্ছে ৷ শিব মন্দিরের প্রাঙ্গণে জুবিন গর্গের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে ৷"
Some presences fade from sight but shine brighter in memory.
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) November 18, 2025
Today, we honour the enduring legacy of an artist who was, will and forever be our heartthrob. That of our #BelovedZubeen.
Forever in our hearts... pic.twitter.com/zGeZJT6XVH
জুবিনের জন্মদিনে নানা অনুষ্ঠান
গর্গের জন্মদিনে ডিব্রুগড় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাপতি অসীম হাজরিকা বলেন, "আমরা জুবিন গর্গকে শুধু কাজের মধ্য দিয়ে নয়, মানুষের আবেগের মধ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারি ৷" নতুন প্রজন্মের মাঝে জুবিন যেন সর্বদা বেঁচে থাকে, সেই জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অসমিয়ার প্রাণের শিল্পীর জন্মদিনের আগেই সোমবার মুক্তি পায় 'জয় জুবিন দা' শিরোনামের একটি গান। সংগীত পরিচালনা জয় ফুকনের রচিত এই গানটির সঙ্গীত ব্যবস্থাপনা করেছেন পলাশ গগৈ। কণ্ঠ দিয়েছেন নীল আকাশ, রাকেশ রিয়ান, ভৃগু কাশ্যপ, মন্টুমণি শইকীয়া, কুসুম কৈলাশ, নেকিব, স্বরাজ দাস, পাপড়ি গগৈ, নীলাভ নিতা, রেবা কে দাস, গীতার্থ গিরীন-সহ আরও অনেকে ৷
1972 সালের 18 নভেম্বর মেঘালয়ের তুরাতে জন্ম জুবিনের। মোহিনী মোহন বড়ঠাকুরের পরিবারের সন্তান জুবিন গার্গের আসল নাম জীবন বড়ঠাকুর। পরবর্তীতে প্রসিদ্ধ গীতিকার জুবিন মেহতার নামে তাকে পরিচিত করা হয়। পরে উপাধি হিসেবে গোত্র ব্যবহার করে জুবিন গর্গ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

1992 সালে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত যুব উৎসবে একক পশ্চিমী সঙ্গীত পরিবেশন করে স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন জুবিন গর্গ ৷ এটাই ছিল যা তাঁর জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট । এখানেই জুবিন, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রথমবারের মতো সফলতা অর্জন করেন। এরপর 1992 সালে মুক্তি পায় জুবিন গর্গের প্রথম অ্যালবাম 'অনামিকা'। এটা ছিল জুবিনের পেশাদারী সঙ্গীত জগতে প্রথম পদক্ষেপ। এই অ্যালবামটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করে ৷ আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি শিল্পীকে ৷
অসমের সাংস্কৃতিক জগতে তার অবদান অনবদ্য। নিজস্ব প্রতিভায় অসমের সাংস্কৃতিক জগতকে আলোকিত করেছিলেন জুবিন গার্গ। তিনি যেমন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন তেমনই ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, পরিচালক এবং অভিনেতা। প্রায় 38 হাজার আধুনিক ও রোমান্টিক গান, বিহুগান, টোকারি গান, বর্গীত, লোকগীতি, বনগীতি এবং অন্যান্য লোকসঙ্গীত গেয়েছেন জুবিন ৷ রয়েছে বাংলা ও হিন্দি গানও ৷

