ফেডারেশনের ঘরে চলত টাকা তছরুপের কর্মসূচি ! কোন তথ্য সামনে আনল প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড?
অভিযোগ আর পালটা অভিযোগে উত্তপ্ত টলিপাড়া। টাকা তছরুপের অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : May 25, 2026 at 1:06 PM IST
কলকাতা, 25 মে: সরকার বদলের পর থেকেই উত্তপ্ত টলিপাড়া। এর আগে, এমন উত্তাপ বোধহয় আর কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়িয়ে পড়েনি। দফায় দফায় মিটিং, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে যেন আদালতের মঞ্চ হয়ে উঠেছে টলিপাড়া। মহিলা কমিশন ছেড়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং ফেডারেশনের কুর্সি ছেড়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তা হলে 26টি গিল্ড-এর সভাপতি, সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক পদেই বা কেন বদল ঘটবে না?
সকলের মনেই আছে হরেক অভিযোগ, অনুযোগ। আর ঠিক সেই কারণেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে শনিবার দু'টি আলাদা সময়ে হাজির হন সহ পরিচালক এবং একাধিক গিল্ডের সদস্যরা। সহ-পরিচালক গোষ্ঠীর নিশানায় অমিত সামন্ত, স্বরূপ বিশ্বাস-সহ আরও কয়েকজন। ওদিকে একাধিক প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড-এর নিশানায় মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে (বাবাই), মেকআপ গিল্ড-এর বাপি মালাকার, স্বপন মজুমদার-সহ আরও কয়েক জন।
প্রতিবাদীদের দাবি, এঁরা আদতে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসেরই সহযোগী। স্বরূপের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁরা নাকি দিনের পর দিন অসাধু কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। এঁদের ঘনিষ্ঠরাই কাজ পান। বাকিরা বসে থাকেন। অনেকে কার্ডও পাননি! একইসঙ্গে অর্থের বিনিময়ে কার্ড বিক্রির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সংগঠনের সম্পাদক মহ. হাসানকে ‘জঙ্গি’ তকমাও দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুর প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োয় পাল্টা সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেয় প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড।
তাঁদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে তা সংগঠনের পক্ষ থেকে সহ-সম্পাদক কৌশিক মণ্ডল, সহকারী প্রোডাকশন ম্যানেজার অভিজিৎ সাহা অস্বীকার করেন। বলেন, "সর্বৈব মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে।" উল্টে তাঁরা বলেন, “ওঁরা ‘তৎকাল বিজেপি’। 4 মে বেলা 12টার পর ওঁরা বিজেপি হয়েছেন। আগে তৃণমূলেই ছিলেন। গত কাল তাঁরা ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়ে স্টুডিয়ো চত্বরে পা রেখেছেন তাঁরাই আসলে স্বরূপ বিশ্বাসেরই লোক, সমাজবিরোধী। সুরুচি সংঘে গিয়ে নানা সময়ে মিটিং করেছে কীভাবে আমাদের সংগঠনটিকে ভেঙে ফেলা যায়। নানা কারণে একাধিকবার শ্রীঘরে যেতে হয়েছে এঁদের। ইন্ডাস্ট্রিতে নানা সময়ে অশান্তির চেষ্টা করছেন এঁরা। বিভেদ আনার চেষ্টা করছেন আমাদের মধ্যে।" তাঁরা আরও জানান, শনিবার রাতেই তাঁরা স্থানীয় রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গোটা বিষয়টি সবিস্তার জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকেও।

স্বজনপোষণ, টাকার বিনিময়ে কার্ড পাইয়ে দেওয়া, একাধিক প্রোডাকশন ম্যানেজারের এক জায়গায় কাজ করা এবং একজনের একাধিক সেটে কাজ করার মতো অভিযোগের প্রসঙ্গ তুললে কৌশিক এবং অভিজিৎ বলেন, “2018-য় আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে শিক্ষিত কলাকুশলীদের দায়িত্ব দিতে চেয়েছি। সেই সময় সংবিধান মেনে কিছু বদল আনি। বিগত দিনে যাকে তাকে সদস্য করা হয়েছে। আমরা আসার পর একজন ম্যানেজার হতে ন্যুনতম যে যোগ্যতার দরকার সেদিকে খেয়াল রাখতে শুরু করি। লেখাপড়া জানা, অন্তত গ্র্যাজুয়েট, ইংরেজি লিখতে জানা মানুষদের কার্ড দিতে শুরু করি। এই বদল আনার পর থেকে আমাদের কাছে চাপ আসতে থাকে এই প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করে যাকে খুশি কার্ড দিতে হবে। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। হাসান, বাবাইয়ের উপর মানসিক চাপ নেমে আসে ফেডারেশন সভাপতির তরফ থেকে।"
আরও বলেন, "আমাদের কমিটি 2022 সাল থেকে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুই ধরনের লড়াই করে আসছে। সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক। স্বরূপের একক নির্দেশনায় চলত সবকিছু। টাকা তছরুপ চলত ফেডারেশনের অফিসে। আমাদের বক্তব্য ছিল এক, একনায়কতন্ত্র চলবে না। দুই, সদস্যদের উপার্জনের 7.5 শতাংশ ফেডারেশনকে কেন দেওয়া হবে? এরকম বহু আর্থিক তছরুপ করেছেন স্বরূপবাবু। আমরা দফায় দফায় মেল পাঠিয়ে ওঁকে প্রশ্ন করেছি। ফেডারেশন সভাপতি উত্তর দিতে পারেননি।” শনিবার রাতে বাপি সান্যাল, সঞ্জয় গুহ, সুব্রত বিশ্বাস এক্স সঞ্জীব বণিক, তাপস খাঁ, পিঙ্কু গোস্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের সদস্যরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, "এখন সরকার বদলাতেই ওঁরা চাইছেন, ‘ইলেকশন নয় সিলেকশন ভোট’ হোক। কেননা সঠিক নির্বাচনে ওঁরা ভোট পাবেন না সেটা ভালোই জানেন।"
শনিবার সন্ধ্যায় ম্যানেজার গিল্ড-এর বিরুদ্ধে আরও এক অভিযোগ ওঠে। তাঁরা দেবকে কেন প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের কার্ড দিয়েছেন? প্রশ্ন, দেব কি কোনও দিন ওই পদের দায়িত্ব সামলাতে আসবেন? এর উত্তরে অভিজিৎ বলেন, “আগামী দিনে অন্য পেশার বিশিষ্টজনদের আমরা ওই বিশেষ সাম্মানিক পদে বসাব। তার মানে এই নয়, তাঁরা ওই পদের দায়িত্ব নেবেন। বরং, ওঁদের উপস্থিতি আমাদের সমৃদ্ধ করবে।” এই প্রসঙ্গে কৌশিক মণ্ডল বলেন, "ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ধোনিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর টেরিটোরিয়াল আর্মিতে সাম্মানিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (Honorary Lieutenant Colonel) পদে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই বলে কি উনি যুদ্ধে যাবেন? এটা সম্নান জানানো। দেব দা'কেও সম্মান জানানো হয়েছে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে। " কৌশিক আরও বলেন, “আমাদের সম্পাদক হাসানদাকে ‘জঙ্গি’ তকমা দেওয়া হয়েছে। যিনি এই তকমা দিয়েছেন, তাঁকে এক মাসের মধ্যে প্রমাণ দিতে হবে। তার আগে আমরা ওঁদের সঙ্গে কোনও কাজ করব না।"

