ETV Bharat / entertainment

'ওঁর জন্য আজ অসম স্তব্ধ, এরকম ঘটেছে কারোর ক্ষেত্রে?' কলকাতায় জুবিন স্মরণ

প্রয়াত জুবিন গর্গকে নিয়ে কলকাতায় আয়োজিত হয় এক স্মরণ সভার। তারকাদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সঙ্গীতশিল্পীর নানা কথা ৷

tollywood-celebs-remembers-late-singer-zubeen-garg
কলকাতায় জুবিন স্মরণ (আইএএনএস)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : October 17, 2025 at 9:19 AM IST

|

Updated : October 17, 2025 at 11:06 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 17 অক্টোবর: জুবিন গর্গ। বাংলা এবং হিন্দি সিনেমা যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন বেঁচে থাকবে এই নামটা। শিল্পীর মৃত্যু হয় না ৷ আর জুবিন গর্গের তো নয়ই, যিনি শুধু গান দিয়ে নয়, মানুষকে ভালোবেসে তাঁদের কাছে পৌঁছে যেতেন। তিনি ছিলেন অসমবাসীর আত্মা আত্মীয়। রক্তাক্ত মহিলাকে রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে একবারও বুক কাঁপেনি তাঁর। রক্তাক্ত দেহ কোলে তুলে নেওয়ার সময় আইন আদালত, নিয়ম কানুনের বেড়াজাল ত্রিসীমানায় ঘেষতে পারেনি তাঁর। এহেন জুবিনকে ভুলবে কার সাধ্যি? অসমবাসী যেমন ভুলবে না, তেমনি ভুলবে না এই শহরও।

তাই তাঁকে নিয়ে দু-চার কথা বলতে এবং শুনতে কলকাতায় আয়োজিত হয় এক স্মরণ সভার। আয়োজনে গায়িকা, অভিনেত্রী তথা বর্ষা এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজক বর্ষা সেনগুপ্ত। স্মরণ সভায় বর্ষা সেনগুপ্ত ছাড়াও হাজির ছিলেন পরিচালক শ্রী প্রীতম, অভিনেতা দেবদূত ঘোষ, জুবিনের 30 বছরের বন্ধু তথা সাউন্ড ডিজাইনার দিগন্ত শর্মা, বন্ধু লিটন-সহ আরও অনেকে।

কলকাতায় জুবিন স্মরণ (Special Arrangement)

দেবদূত ঘোষ বলেন, "জুবিনের শবযাত্রা প্রমাণ করে দিয়েছে যে উনি কত মানুষের প্রিয় ছিলেন। এই জায়গাটা শুধু গান গেয়ে তৈরি করেননি জুবিন। মানুষের জন্য চিন্তা, মানুষের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়া সব দিয়েই তৈরি করেন জুবিন। শুনছিলাম রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা দেখে শুধু পুলিশকে জানিয়ে দায় সারা নয়, তার রক্তাক্ত দেহ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন জুবিন। এটা ক'জন করে? আজকাল মাপা হাসি, চাপা কান্না, হিসেব করে চলা, টাকার হিসেব, যশের লোভ আমাদের সভ্যতাটাকে নষ্ট করছে। খোলা মনের মানুষ কমে যাচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে জুবিন বলতেন আমার 'কোনও দেশ নেই, কোনও জাতি নেই'। যেমন সেই 'তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত'-এ বাঘারু বলেছিল 'মোর কোনও দ্যাশ নাই। মোর কোনও জাতি নাই...।" সেরকমই বলতেন আর ভাবতেন জুবিন। বড়লোক গরিবের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে চাইতেন। ওঁর বামপন্থী মনোভাব আমাকে ওঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও একটু বাড়িয়েছে। দুর্ভাগ্য হলেও জুবিন আমার থেকে বয়সে একটু ছোট। সেটা আমাকে আরও পীড়া দেয়। আরও কিছুদিন থাকলে আরও ভালো কিছু পেতাম ওঁর কাছ থেকে। সঙ্গীত আর মানুষের প্রতি ওঁর ভালোবাসা প্রজন্ম শিখলে ভালো হয়।"

জুবিনের 30 বছরের বন্ধু তথা সাউন্ড ডিজাইনার দিগন্ত শর্মা বলেন, "জুবিন ভগবানের সন্তান। ওঁর গান, ত্যাগ মনে রাখার মতো। " বন্ধু লিটন বলেন, "জুবিন একেবারে অন্যভাবে আমি দেখেছি। সেটা অনেকেই দেখেনি। মানুষের সেবা করত সবসময়। একবার একটা শো করে ফিরছে। রাস্তায় একটা মেয়ের দুর্ঘটনা ঘটেছে দেখে গাড়ি থেকে নেমে সেই রক্তাক্ত দেহ তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাধারণত কেউ বডি ধরতে চায় না। কিন্তু জুবিনের মাথায় ওই সব কাজ করে না। ভাবে না ওসব নিয়ে। এখানেই শেষ নয়, কার মায়ের খারাপ অবস্থা, কে টাকার অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না সব দিকেই ছিল ওর খেয়াল। চিরকাল মানুষের সেবা করতে চেয়েছে। ওঁর জন্য আজ অসম স্তব্ধ। বন্ধ প্রায় সব কিছু। এরকম ঘটেছে কারওর ক্ষেত্রে?"

এমন কথাও উঠে আসছে যে জুবিনের কাছের মানুষরাই তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী। সেই প্রসঙ্গ তুললে লিটন বলেন, "এই দিকটা নিয়ে আমি কিছু বলব না। এটা সরকার দেখছে। এসআইটি দেখছে। আমি শুধু বিচার চাই বন্ধুর মৃত্যুর। তবে, আমার একটা বক্তব্য হল, ওঁকে আগুন আর জলের কাছে যেতে বারণ করেছিল ডাক্তার। তাও কেন নিয়ে যাওয়া হল ওকে?"

স্মরণ সভার আয়োজক গায়িকা তথা অভিনেত্রী, প্রযোজক বর্ষা সেনগুপ্ত বলেন, "জুবিন দা একবার কলকাতায় এসেছিল শো করতে। তিন চারটে শো'র জন্য। আমাকে আর শ্রী প্রীতমকে হোটেলে ইনভাইট করেছিলেন জুবিন দা। আমরা গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর কীভাবে আপ্যায়ন করবে বুঝে পাচ্ছিলেন না জুবিন দা। ওঁর সারা গায়ে অনেক ট্যাটু। আমারও খুব করার ইচ্ছা কিন্তু ভয় লাগে বলেছিলাম ওঁকে। জুবিন দা আমাকে অভয় দেন। বলেন কর কোনও ব্যথা হবে না। আমিও সেদিনই ছুটি ট্যাটু করতে। শো'তে পৌঁছে আমি সেটা অডিয়েন্স থেকে দেখালে বাচ্চাদের মতো হাসেন জুবিন দা। একেবারে শিশুর মতো ছিলেন মানুষটা। আমার ট্যাটুটা দেখিয়ে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছিলেন, আমি ভয় পেতাম। ওঁর দেখাদেখি আমি ট্যাটুটা করিয়েছি। গোটা ব্যাপারটা খুব শিশুসুলভ। কিন্তু আমার মনে থাকবে চিরকাল।"

মহাভারতের 'কর্ণ' রূপে পূজিত হন পঙ্কজ ধীর ! জানেন কোথায় রয়েছে অভিনেতার নামে মন্দির ?

Last Updated : October 17, 2025 at 11:06 AM IST