ETV Bharat / entertainment

বদলেছে সরকার, কোন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলা বিনোদন দুনিয়া ? পরিত্রাণ মিলবে কি আদৌ?

বাংলা সিনেমা যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই নতুন এক সৃজনশীল ঢেউ জন্ম দিয়েছে। এবারও হয়তো সেই পরিবর্তনের অপেক্ষা। সময় দেবে উত্তর।

take-a-look-what-is-the-situation-and-scenario-in-todays-bengali-film-industry
কোন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলা বিনোদন দুনিয়া ? (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : May 30, 2026 at 11:58 AM IST

10 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 মে: রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই উত্তপ্ত বাংলা বিনোদন দুনিয়া। এই মুহূর্তে রাজনীতি, খেলাধুলোকে ছাপিয়ে মানুষের আলোচনায় বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি (Bengali Film Industry)। প্রতিদিন এই মহলে যা সব কাণ্ড ঘটছে তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে জোর চর্চা। পাড়ার দোকান থেকে রাস্তার মোড়েও আজ আলোচনার মধ্যমণি কখনও বিশ্বাস ব্রাদার্স তো কখনও পিয়া সেনগুপ্ত। যে জগৎটা এক সময় ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে সেই জগৎটা আজ যেন হাতের মোয়া হয়ে গিয়েছে।

ইম্পার জটিলতার কথা আজ আর কারওরই অজানা নয়। সময়ের আগে পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে এক প্রকার বলপূর্বক কুর্সিতে বসেছেন অজন্তা, গ্লোব, এসএসআর-এর মালিক রতন সাহা। 'ধ্বনি' ভোটের মাধ্যমে সভাপতি পদে বসেছেন তিনি। পিয়ার দাবি, " 'ধ্বনি' ভোটে ভোট দেওয়ার কথা সদস্যদের। সেদিন সদস্য ছিলেন ক'জন?" আইন অনুযায়ী এখনও পিয়া সেনগুপ্তই ইম্পার সভাপতি, এমনটাই জানিয়েছেন ইম্পার আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়াল।

ওদিকে 4 মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে ফেডারেশনের ঘরে ঝুলছে তালা। এক সংবাদ মাধ্যমে ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন যে তিনি আর সভাপতি পদে নেই। 2025 সালেই তাঁর মেয়াদ শেষ। তা হলে এতদিন তিনি কোন অধিকারে টলিপাড়ার অভিভাবকত্ব করে গিয়েছেন তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্বরূপ বিশ্বাসের কথা সঠিক বলে ধরে নিলে টেকনিশিয়ানদের 26টি গিল্ড আজ অভিভাবকহীন।

take-a-look-what-is-the-situation-and-scenario-in-todays-bengali-film-industry
শুটিংয়ের সেট (ইটিভি ভারত)

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপর বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভালো মন্দ দেখার গুরু দায়িত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। পাপিয়া অধিকারী এবং রুদ্রনীল ঘোষ এই ইন্ডাস্ট্রিকে আজ ভয়মুক্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বার্তা, "ভয় আউট ভরসা ইন"। ওদিকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, " এখনও লিখিতভাবে কোনও দায়িত্ব পাইনি। তাই কোনও কথাই বলতে পারব না। " হিরণের বক্তব্য, "তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর মানে শুধুই সিনে পাড়া নয়।..."
প্রশ্ন হল, কেন আজ ফলাও করে ভয়ের কথা, ভরসার কথা বলতে হচ্ছে? টলিপাড়ার একাধিক মানুষের অভিযোগ, গত পনেরো বছরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হারাতে বসেছিল তার এতগুলো বছরের গরিমা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলছিল লাগাতার দুর্নীতি। তৎকালীন সরকারের অহেতুক হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা হারিয়েছিল বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

2011-র আগে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছিল অনেক স্বাধীন। এমন কথাও উঠেছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। দিনকয়েক আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বাম জমানার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ফেরত পাওয়ার কথা বলেছেন। অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য ইটিভি ভার‍তকে জানিয়েছিলেন, "বাম আমলে টলিপাড়ায় কী হচ্ছে না হচ্ছে তার খোঁজ নিতেন না কোনও নেতাই। যাঁদের হাতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁরাই সামলে নিতেন সবটা। সত্যি বলতে কি বাম নেতারা সেভাবে গুরুত্বও দিতেন না অভিনেতাদের। তৃণমূল সরকার গুরুত্ব দিতে শুরু করে। কিন্তু তারপর যা হয় তা বলাই বাহুল্য।" অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে ইটিভি ভারতকে জানান, "এই ইন্ডাস্ট্রির যা হাল, ছবির সংখ্যা কত কমে গিয়েছে, সিরিয়ালগুলো ধুকছে। কাজ করতে গেলে হরেক রকমের বিধিনিষেধ রয়েছে। ব্যান কালচার বা এই জাতীয় আরও অন্যান্য অনভিপ্রেত বিষয়গুলো কলুষিত করে ফেলেছিল আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটাকে। এর থেকে নিস্তার চাই।"

take-a-look-what-is-the-situation-and-scenario-in-todays-bengali-film-industry
শুটিংয়ের সেট (ইটিভি ভারত)

উল্লেখ্য, 2011 সাল। 34 বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ভেঙে গুড়িয়ে ক্ষমতায় এলো তৃণমূল কংগ্রেস। সিনে পাড়ার দায়িত্ব পড়ল মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপর। কিন্তু 'ব' কলমে ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেন তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। বলা বাহুল্য তাঁর ইশারা ছাড়া স্টুডিয়ো পাড়ার একটা পাতাও নড়েনি কখনও। 26টি গিল্ডের অভিভাবক ছিলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যেত তাঁর নানা দুর্নীতির কথা। কাটমানি খাওয়া থেকে শুরু করে অভিনেতা-টেকনিশিয়ানদের যখন তখন ব্যান করে দেওয়া, হুমকি দেওয়া এসব নাকি জল ভাত হয়ে গিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। গিল্ডের কার্ড পেতেও নাকি টাকা খরচ করতে হত টেকনিশিয়ানদের।

যাঁরা কার্ড পেতেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাকি আনকোরা। কোনও কাজই তাঁরা জানতেন না। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলেই নাকি বাতিল হয়ে যেত প্রতিবাদীদের গিল্ডের কার্ড। মিলত না কাজ। নারী ও পুরুষকে আলাদা আলাদা রকমের কম্প্রোমাইজ করতে হত। অপর্ণা সেন একবার প্রশ্ন তুলেছিলেন, "ফেডারেশনের মাথায় যিনি বসে আছেন তিনি ডিরেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কোন কাজ করেছেন একবার জানান।" এই একই প্রশ্ন সহ পরিচালক গিল্ডের একাংশেরও। জানিয়ে রাখা ভালো, স্বরূপ বিশ্বাস অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক।

এতকাল এই সব কথা 'অফ দ্য রেকর্ড' বলে এসেছেন অনেকেই। এখন রাজনৈতিক পালাবদলের পর মন প্রাণ খুলে সে সব কথা প্রচার মাধ্যমের সামনে আনছেন তাঁরা। অভিযোগ, বিশ্বাস ব্রাদার্সের ভয়ে মুখ খোলার ক্ষমতা ছিল না কারওর। তৎকালীন সরকারের সমর্থক।না হলেও নাকি কাজ মিলত না। সবই শোনা কথা। এর বিশ্বাস্যোগ্যতা খতিয়ে দেখেনি ইটিভি ভারত। এখন সেই দিন অতীত। টলিপাড়ায় তৃণমূল নেতাদের তালিবানি শাসন নেই। তাই এতদিনের চাপা কান্না আজ বন্ধ ঘরের দরজা খুলে ভাসছে টলিপাড়ার আকাশে বাতাসে।

সামজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য লিখেছেন, "রোজ সারাদিন আমাদের ইন্ডাস্ট্রির আকছা আকছি হাতাহাতি কলতলার ঝগড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে গত পনেরো বছরে কী অবস্থায় এখানকার ওয়ার্ক কালচার ছিল। যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের আসল চেহারা এখন স্পষ্ট। আর যারা সেই সুযোগ নিয়েও এখন পুরোটা অস্বীকার করে ভালো সাজছে তাদের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আমাদের পেশার মান সম্মানের সর্বনাশ করে ছেড়েছে এই গোষ্ঠী । কিছু ধান্দাবাজদের জন্য পুরো fraternity-র বদনাম হয়েছে।"

দেব এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, "এখন ইন্ডাস্ট্রির যা অবস্থা তাতে কিছু কাউকে লুকনোর উপায় নেই ৷ কাজ কমে যাচ্ছে, সিরিয়াল কমে যাচ্ছে, সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সিনেমা কমে গিয়েছে, বাইরে থেকে কাজ কম আসছে ৷ সেখাকে আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের ব্যান করতে শুরু করি তা হলে কাজ বাড়বে এমন আশা করা অমূলক বলে মনে হয় আমার। আমি চাই সুস্থ পরিবেশ। যেখানে সবাই মন খুলে কাজ করতে পারে ৷ আমি যদি কাউকে কাজ দিতে না পারি তা হলে কী করে আমি কাউকে ব্যান করে রাখতে পারি ?"

একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত বাজেটের কারণে বাইরে থেকে কাজ আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এখানে। কারণ প্রয়োজনের থেকেও বেশি লোক নিয়ে কাজ করতে হয় পরিচালকদের। ফলে, বাজেট যায় বেড়ে। বাজেটের ভয়ে কাজ কমে গিয়েছে খোদ টলিপাড়াতেও। দিনদিন কমছে সিনেমা, সিরিয়ালের সংখ্যা। আর তার ফলে কাজও কমে যাচ্ছে অভিনেতা, টেকনিশিয়ানদের। এহেন আরও কত অভিযোগ, অনুযোগে জর্জরিত টলিপাড়া, তার হিসেব রাখে কার সাধ্যি?...

সম্প্রতি প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের কমিটি মেম্বারদের তরফে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের কথায়, এই কমিটি 2022 সাল থেকে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুই ধরনের লড়াই করে আসছে। এক সাংগঠনিক ও দুই অর্থনৈতিক। স্বরূপের একক নির্দেশনায় চলত সবকিছু। টাকা তছরুপ চলত ফেডারেশনের অফিসে বসে। প্রোডাকশন ম্যানেজারদের বক্তব্য ছিল এক, একনায়কতন্ত্র চলবে না। দুই, সদস্যদের উপার্জনের 7.5 শতাংশ ফেডারেশনকে কেন দেওয়া হবে? এরকম বহু আর্থিক তছরুপ করেছেন স্বরূপবাবু। আমরা দফায় দফায় মেল পাঠিয়ে ওঁকে প্রশ্ন করেছি। ফেডারেশন সভাপতি উত্তর দিতে পারেননি।... স্বরূপ বিশ্বাস অবশ্য ইটিভি ভারতের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন সব অভিযোগ, প্রশ্নের উত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে দেবেন।

প্রসঙ্গত, একসময় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিল বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে বাংলা সিনেমা বিশ্ব দরবারে পেয়েছিল সম্মান। কিন্তু এই মুহূর্তে টলিউড এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, একইসঙ্গে অসহায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর কারণ হিসেবে আরও একটি দিকের কথাও ভুললে চলবে না। সৃজনশীলতার অভাব নয়, বরং অর্থনৈতিক চাপ, দর্শকের বদলে যাওয়া অভ্যাস, ওটিটির উত্থান এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব— সব মিলিয়ে সিনেমা শিল্প আজ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

take-a-look-what-is-the-situation-and-scenario-in-todays-bengali-film-industry
শুটিংয়ের সেট (ইটিভি ভারত)

বর্তমানে বাংলা ছবির সবচেয়ে বড় সংকট হল দর্শক টানার লড়াই। শহুরে দর্শকদের একটা বড় অংশ এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত। ফলে সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখার প্রবণতা কমেছে। শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতীয় টেলিভিশন ও বিনোদন শিল্পেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝোঁক বাড়ছে। বিজ্ঞাপনদাতারাও টিভি ও আঞ্চলিক কনটেন্ট থেকে সরে গিয়ে ডিজিটালে গা ভাসাচ্ছেন।

একসময় বাংলা ছবির বাজেটের একটা বড় অংশ স্যাটেলাইট বা ওটিটি রাইটস থেকে উঠে আসত। কিন্তু এখন সেই 'নিরাপদ' ব্যবসায়িক মডেল ভেঙে পড়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলি আগের মতো অন্ধভাবে কনটেন্ট কিনছে না; তারা এখন কনটেন্টের মান, দর্শক টানার ক্ষমতা এবং ভাষাগত সীমা— সব কিছুই বিচার করছে। ফলে প্রযোজকদের উপর চাপ বাড়ছে প্রতিদিন। পাশাপাশি রয়েছে প্রেক্ষাগৃহের সংকট। কলকাতার বাইরে এখনও পর্যাপ্ত আধুনিক সিনেমা হল নেই। বহু জেলায় সিঙ্গল-স্ক্রিন হল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাংলা ছবির বাজার সীমিত হয়ে পড়েছে। ক'জন মানুষ পারে কলকাতার মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমা দেখতে? ফলে, সিনেমা হলে দর্শকের সংখ্যা কমছে।

পাশাপাশি আরও এক সমস্যা এখানে প্রকট। একইদিনে একাধিক বাংলা ছবির রিলিজ। সকলেরই লক্ষ্য উৎসব-পার্বণে ছবির মুক্তি। আর তা করতে গিয়ে প্রযোজকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব রুখতে অরূপ বিশ্বাসের তৎপরতায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছিল স্ক্রিনিং কমিটি। কোন ছবি কবে আসবে তার জন্য তৈরি হতে শুরু করেছিল ক্যালেন্ডার। বাজেট অনুযায়ী উৎসবের দিনে এবং প্রাইম টাইমে ছবি মুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ইম্পার জটিলতায় আজ সেটাও অতীত। ভেঙে গিয়েছে স্ক্রিনিং কমিটি। এতে এক দল খুশি অন্য দল নয়। অনেকেরই মতে, সিনেমা তার নিজের সময়ে আসবে। ক্রিসমাসে আসার মতো ছবি গরমের ছুটিতে আসার কোনও মানেই হয় না। একদলের মতে, সিনেমা রিলিজ নিয়ে মারামারি করার থেকে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সিনেমা রিলিজই ভালো।

সুতরাং, সব মিলিয়ে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ যে নানা দিক থেকে ঘোর বিপাকে তা বলাই বাহুল্য। সহজ কথায় বলতে গেলে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সুযোগের অসম বণ্টন নতুন প্রতিভাদের এগোতে বাধা দিচ্ছে। ফলে, ইন্ডাস্ট্রিও তার ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে দিনদিন। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ তো আছেই। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় তা হলে কী? এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারওর কাছেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তারকার মতে, "এই জটিলতা কোনওদিন ঘুচবে না।" তবে, ইতিহাস বলছে, বাংলা সিনেমা যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই নতুন এক সৃজনশীল ঢেউ জন্ম দিয়েছে। এবারও হয়তো সেই পরিবর্তনের অপেক্ষা। সময় দেবে উত্তর।

আরও পড়ুন