ETV Bharat / entertainment

একটা সংসার চেয়েছি, বাচ্চা চেয়েছি- মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে মুখ খুললেন দেবলীনা

আর কী বললেন দেবলীনা ?

singer-youtuber-debolinaa-nandy-first-time-reacts-on-her-life-struggle
দেবলীনা নন্দী (সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : January 10, 2026 at 1:13 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ, 10 জানুয়ারি: "আমি এখনও অপেক্ষায় রয়েছি প্রবাহের একটা মেসেজের ৷ একটা ফোনের ৷ আমি প্রবাহকে ভীষণ ভালোবাসি ৷ আমি সংসার ভাঙতে চাই না ৷" চরম সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েছিলেন ৷ ফিরে এসেছেন মৃত্যু মুখ থেকে ৷ প্রথমবার হাসপাতালের বিছানায় বসে মুখ খুললেন গায়িকা-ইউটিউবার দেবলীনা নন্দী (Debolinaa Nandy) ৷ বর্তমানে একটু সুস্থ আছেন তিনি ৷ একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন ৷ তারপর এই বিষয় নিয়ে নানা জলঘোলা হয়েছে ৷ সোশাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের নানা মতামত ধরা পড়েছে ৷ সেই প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে একে একে উত্তর দিলেন দেবলীনা ৷

সমস্যা শুরু যে রাত থেকে

দেবলীনা জানান, ঝামেলা শুরু হয় 31 ডিসেম্বরের রাত থেকে ৷ তিনি জানান, প্রথম বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে ক্লাস করাতেন ৷ কিন্তু সেই বাড়িতে জেঠি শাশুড়ি নাকি ছাত্র-ছাত্রীদের জুতোয় ঢেলে দিল বলে অভিযোগ আসত দেবলীনার কাছে ৷ এরপর বেশ কয়েকবার ক্লাস করানোর জায়গা পরিবর্তন হয় ৷

অন্যদিকে, 31 ডিসেম্বর অনুষ্ঠান করে সাড়ে 10টায় ঘরে ফেরার কথা ছিল দেবলীনার ৷ কিন্তু তিনি ফেরেন রাত সাড়ে 11টায় ৷ 12টার সময় তিনি প্রবাহকে সারপ্রাইজ দিতে ঘুম থেকে ডাকেন ৷ দেবলীনার কথায়, "ও আপসেট ছিল, সাড়ে 10টায় ঢোকার কথা আমার ৷ সাড়ে 11টায় ঢুকেছি অনুষ্ঠান করে ৷ আমার যে অনুষ্ঠানের সময় এদিক-ওদিক হয় সেটা প্রবাহ জানত ৷ সেটা জেনেই বিয়ে করেছে ৷ আমি ওই দিন রাতে ওকে একটা ব্যাগ উপহার দিই ৷ সেটা দেখে বলে, 'এমা ছোট হয়ে গেল' ৷ আমি ওকে জানাই, তাহলে সেটা চেঞ্জ করে আনব ৷ এরপর ও অনেকদিন ধরে কোচের বেল্ট চাইছিল ৷ যেটার দাম প্রায় সাড়ে 24 হাজার-25 হাজার টাকা ৷ আমি 31 ডিসেম্বর অনুষ্ঠান করে যে টাকা পাই, সেই সব টাকা দিয়ে আমি প্রবাহের জন্য উপহার কিনি ৷ বেল্টটা ওর পছন্দ হয় ৷ বলে এটা চলবে ৷"

এরপর দেবলীনা জানান, সেদিন রাতে তাঁদের বেরোনোর কথা ছিল ৷ কিন্তু টুকটাক সমস্যা বাড়তে থাকায় আর বেরোননি ৷ এমনকী, শ্বশুর-শাশুড়ি প্রবাহকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেও দেবলীনার সঙ্গে কথা বলেনি ৷

মায়ের সঙ্গে প্রবাহের সম্পর্ক

দেবলীনার কথায়, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর সঙ্গে বাজে ব্যবহার হয়েছে ৷ কিন্তু তাও প্রবাহের সঙ্গে সংসার করতে চেয়ে সবটা মুখ বুজে মেনে নিয়েছে ৷ অন্যদিকে, অষ্টমঙ্গলার পর প্রবাহ দেবলীনাদের বাড়ি যায়নি ৷ এমনকী, দেবলীনাকে ছাড়তে গেলে রাস্তা থেকেই চলে যেত ৷ নিজেদের ফ্ল্যাটে কোনওদিন মাকে আসতে বলেনি প্রবাহ ৷ ফ্ল্যাটের নীচে থেকেই চলে যেতেন দেবলীনার মা ৷ দেবলীনার কথায়, "আমি একটু টিপিক্যাল মাইন্ডের ৷ সংসার ভাঙতে চাই না ৷ আমি যাকে ভালোবাসি তাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই ৷"

জীবন শেষের পরিকল্পনা

এই প্রসঙ্গে দেবলীনা জানান, অগস্টে যখন ওকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন থেকেই ও মনে আঘাত আরও বেশি পেয়েছিল ৷ কারণ, সেই ঘটনায় প্রবাহ কোনও প্রতিবাদ করেনি ৷ উল্টে, ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিল ৷ তখন থেকেই নাকি দেবলীনা নিজেকে শেষ করার পরিকল্পনা করছিল ৷ তাঁর কথায়, "আমি ট্রাকের সামনে এসে বা দশ তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুতে ভয় পাই ৷ আমার কাছে ঘুমের ওষুধের প্রেসক্রিপশন ছিল ৷ আমি চারপাতা খেয়েছি ৷ এক একটা পাতায় 17টা ওষুধ ছিল ৷ এরপর আমি সায়ককে মেসেজ করি ৷ আমি ভেবেছিলাম, মৃত্যুর আগে আমি সবটা বলে যাব ৷ যাতে তা প্রবাহের কান পর্যন্ত যায় ৷ অনেকেই প্রশ্ন করছেন 68টি ট্যাবলেট খেয়ে কী করে বেঁচে গিয়েছি ! আমি নিজেও তা জানি না ৷"

সায়ক ভালো বন্ধু

ইতিমধ্যেই দেবলীনার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সায়কের ৷ এই প্রসঙ্গে দেবলীনা জানান, সায়ক তাঁর কাছে ভাইয়ের মতো ৷ খুব ভালো বন্ধু ৷ তাই দয়া করে, দেবলীনা ও সায়কের চরিত্র নিয়ে যেন বাজে কথা কেউ না বলে ৷ দেবলীনার কথায়, সায়কের চেষ্টাতেই সে বেঁচে গিয়েছে ৷ মানুষ যদি এরপর এই নিয়ে নোংরা কথা বলে, তাহলে কেউ কোনওদিন কাউকে বাঁচাতে যাবে না এই ভয়ে যে কাদা ছোড়াছুড়ি হবে ৷

প্রবাহের জন্য অপেক্ষা

লাইভে প্রবাহের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন দেবলীনা ৷ তিনি বলেন, "আমি এখনও অপেক্ষা করছি ৷ প্রবাহ একবার আসুক, জিজ্ঞাসা করুক, কেমন আছি ৷ ও একবার বলুক, এই সব করার কী দরকার ছিল... আমি জানি ও করবে না ৷ চোখ খোলার পর থেকে ভেবেছি, প্রবাহ আসবে, আমি এডজাস্ট করে সংসার করতে চেয়েছি ৷ ও বলত তুমি ছেড়ে যাবে না তো ? আমি সেটাই চেষ্টা করেছি ৷ মানসিকভাবে যে ভেঙে পড়েছে তাকে আরও ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে ৷ আমি বাঁচতে চাইনি ৷ জানতাম বেঁচে গেলে আমিই গালি খাব ৷

দেবলীনার কথায়, "আমি একটার সংসার চেয়েছি, বাচ্চা চেয়েছি, দুই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে থাকতে চেয়েছি, প্রচন্ড ফিল্মি আমি ৷ আমি চেয়েছি, ও আমাকে বুঝুক ৷ কিন্তু সেটা হয়নি ৷ প্রবাহের কাছে ভালোবাসা ম্যাটার করে না ৷ নিজের দিকটা বাঁচিয়ে চলছে ৷ আমি প্রবাহকে প্রচন্ড ভালোবাসি ৷ আমি এখনও অপেক্ষা করছি, প্রবাহ ফোন করবে, মেসেজ করবে ৷ কিন্তু করেনি ৷ সকলে বলছে এটা নাটক ৷ আমি কিচ্ছু চাই না ৷ প্রবাহের মতো করে, ওর সঙ্গে থাকতে চেয়েছি ৷"