ETV Bharat / entertainment

কখনও ব্লাইন্ড স্কুলে পড়িনি, 'অন্ধকার' জীবনের সুরেলা সফরের গল্প শোনালেন সায়নী

চোখে না দেখতে পাওয়া কখনও বাধা হয়েছে সায়নীর জীবনে ? ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা কথা জানালেন সায়নী ৷

ETV BHARAT
'অন্ধকার' জীবনের সুরেলা সফরের গল্প শোনালেন সায়নী (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : January 11, 2026 at 3:08 PM IST

6 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 11 জানুয়ারি: মাত্র সাড়ে চার বছর বয়স থেকে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং চন্দনা চক্রবর্তীর কাছে গানের তালিম নেওয়া শুরু । একসময় ITC সঙ্গীত রিসার্চ অ‌্যাকাডেমির স্কলার ছিলেন সায়নী পালিত । সেখানে গিরিজাদেবীর কাছে গান শেখার সুযোগ পান তিনি । বিগ গোল্ডেন ভয়েস’-এর উইনার হন 2014 সালে ।

সঙ্গীত দুনিয়ায় সায়নী পালিত আজ পরিচিত নাম । হিন্দি এবং বাংলা ছবির গানে তাঁর আজ অবাধ বিচরণ । এহেন সায়নীর জন্মের পর থেকেই রেটিনা কাজ করে না । ইমেজ ফরমেশনে সমস‌্যা । রেটিনার ইনার সেল ঠিকমতো কাজ করে না তাঁর জন্ম থেকেই । চোখে না দেখতে পাওয়া কখনও চলার পথের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সায়নীর জীবনে ? ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সায়নী জানালেন অনেক কথা ।

ইটিভি ভারতের মুখোমুখি সায়নী (নিজস্ব ভিডিয়ো)

ইটিভি ভারত: কোন ধরনের গান গাইতে বেশি ভালো লাগে ?
সায়নী: একটা সময়ে ইন্ডিয়ান ক্লাসিকাল মিউজিকটাই শিখেছি মূলত । সেটা প্রায় 20-21 বছর । 2012 থেকে আমি প্লে ব্যাক করি । আমার দু'ধরনের কাজই ভালো লাগে । এক্সপেরিমেন্টাল গানের প্রতি আমার টান আছে । তা ছাড়া কথা প্রধান গান, ইমোশন প্রধান গান আমার খুব ভালো লাগে ।

ইটিভি ভারত: নতুন মিউজিক ভিডিয়ো এসে গেল 'সাওয়ারে'। কানেকশন কীভাবে হল ?
সায়নী: এই গানটা আমি কম্পোজ করি আমার কলেজ লাইফে । অনেকদিন পর সেলিম-সুলেমান স্যারের আমার এই কম্পোজিশনটা ভালো লাগে । ওঁরা মার্চেন্ট রেকর্ড থেকে গানটা রিলিজ করতে চান । সেটাই হয়েছে । গানটা অরিদিতা ভট্টাচার্যের লেখায়, আমার সুরে, নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গীতায়োজনে তৈরি । আর একটা গানে ভিডিয়ো খুব ইম্পর্ট্যান্ট । এখন একটা গল্প না হলে মানুষ কানেক্ট কর‍তে পারে না । সত্রাজিৎদা (সেন) না থাকলে ভিডিয়োটা হত না । আর সুপ্রতীমের অভিনয় এখানে দুর্দান্ত । আবিরদা সবসময় কোনও ভালো কাজকে সাপোর্ট করেন । আমার এই গানের ক্লাপস্টিক আবির দা'ই কাটলেন । আমি খুব খুশি ।

ETV BHARAT
বিগ গোল্ডেন ভয়েস’-এর উইনার সায়নী (নিজস্ব চিত্র)

ইটিভি ভারত: তোমার সঙ্গীত শিক্ষা শুরু কবে থেকে ?
সায়নী: চার বছর বয়স থেকে গান গাই । কেউ আমাকে বলেনি যে গানটা গাইতেই হবে । 20-21 বছর টানা গান শিখেছি । তারপর মনে হয়েছে সেটাকে পেশাও করা যায় । আমি তো উচ্চমাধ্যমিকের পর ভেবেছিলাম বিসিএ পড়ব । আমার কম্পিউটারের দিকে ঝোঁক ছিল খুব । কিন্তু আমার গুরুজি বললেন, আইটি সেক্টরে কাজ করলে শিল্পী হওয়া কঠিন । তাই গানেরই হাত ধরি ।

ইটিভি ভারত: চোখ কখনও কোনও কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ?
সায়নী: না । আমি কখনও ব্লাইন্ড স্কুলে পড়িনি । আমার বন্ধুরাও কখনও আমাকে ভাবায়নি যে আমি অন্ধ । আমার নিজেরও কখনও মনে হয়নি কেউ আমাকে আলাদাভাবে দেখছে স্পেশাল চাইল্ড হিসেবে । আমি নিয়মিত লাইভ শো করি । আমার মিউজিক জার্নি তো ভালোই চলছে । ফলে, বাধা পেয়েছি বলতে পারব না ।

ETV BHARAT
কখনও ব্লাইন্ড স্কুলে পড়েননি (নিজস্ব চিত্র)

ইটিভি ভারত: শিল্পী হিসেবে পরিচিতি অনেকদিন আগেই পেয়েছেন ৷ যোগ্যতা অনুযায়ী ডাক বা সম্মান পেয়েছেন বলে মনে হয় ?
সায়নী:দেখুন, যতটা ভাগ্যে আছে ঠিক ততটাই পাব । যখন শুরু করেছিলাম তখন জানতাম ভালো গাইলেই গান আসে । কিন্তু সেটা তো এখন হয় না । ভালো গান গাওয়া একটা প্যারামিটার মাত্র । এ ছাড়াও আমার গ্রহণযোগ্যতা কতখানি, যাঁরা কাজ দিচ্ছেন তাঁদের কেমন লাগছে, তার উপরেও নির্ভর করে । এটা একটা ছোট ইন্ডাস্ট্রি । উত্থান পতন থাকবেই ৷ কখনও কারওর কাজ কম আসবে কখনও কারও বেশি আসবে । দ্য শো মাস্ট গো অন । আমি ইন্ডিপেনডেন্ট মিউজিক করতে চাই । ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকের বেঁচে থাকাটা খুব জরুরি ।

ইটিভি ভারত: সিনেমায় প্রথম প্লেব‌্যাক তো 2012-13 সালে ?
সায়নী: হ্যাঁ, রাজ চক্রবর্তীর ‘প্রলয়’ ছবিতে ‘রোশনি এল’ গানটা গেয়েছিলাম । যে গানে অরিজিৎ সিং, অন্বেষাও ছিলেন । সেই সময়ই ‘হনুমান ডট কম’ ছবিতে ‘তোরে নয়না যাদু ভরে’র সঙ্গে ‘মম চিত্তে’র ফিউশন গেয়েছিলাম । ‘প্রলয়’ আগে রিলিজ করেছিল আর ‘হনুমান ডট কম’-এর গানটা প্রথমে রেকর্ড করেছিলাম । তাই এটাই আমার প্রথম প্লে ব্যাক । পরবর্তীকালে পাভেলের ছবি ‘অসুর’-এও মহম্মদ ইরফানের সঙ্গে ‘তোর হয়ে যেতে চাই’ গানটা গেয়েছিলাম । এছাড়া ‘মুখোমুখি’ ‘ পেণ্ডুলাম’ ছবিতেও গেয়েছি । হিন্দিতে আমার শুরু শঙ্কর. এহসান লয়-এর ‘ওভে জানিয়া’ গান দিয়ে ‘কাট্টি বাট্টি’ ছবিতে। এছাড়া শঙ্করজির সঙ্গে অ‌্যাড ফিল্মে ডুয়েটের কাজও করেছি । Zee5-এ এসেছিল ‘সিজনস গ্রিটিংস’ বলে একটা ছবি, রামকমল মুখোপাধ‌্যায়ের পরিচালনায়, অভিনয়ে সেলিনা জেটলি । সেখানেও আমার গান ছিল । তারপর ‘গ‌্যাংস্টার’-এ নিজের সুর করা গানও গেয়েছি, এটা OTT-তে ।

ETV BHARAT
সঙ্গীত দুনিয়ায় সায়নী পালিত আজ পরিচিত নাম (নিজস্ব চিত্র)

ইটিভি ভারত: আজকালকার ছেলেমেয়েদের একটু তাড়াতাড়িই সাফল্য পাওয়ার ইচ্ছা বলে মনে হয় না তোমার ?
সায়নী: আজকাল এক, দুই বছর শিখেই রিয়ালিটি শো'তে চলে আসছে গান গাইতে । রিয়ালিটি শো'তে আসা নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই । আমিও একটা সময়ে এর পার্ট ছিলাম । একটু শিখে এলে ভালো হয় বলে মনে হয় আমার । আগে পাঁচ মিনিটের গান হত । এখন ত্রিশ সেকেন্ডের রিল হয় । দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে চাইলে রেওয়াজটার দরকার পড়ে ।

ইটিভি ভারত: আপনার রিসার্চের বিষয় কী ছিল ?
সায়নী: 'ইনফ্লুয়েন্স অফ ঠুমরি ইন ফিল্ম মিউজিক'। অর্থাৎ কোন কোন হিন্দি ও বাংলা সিনেমাতে ঠুমরি ব্যবহৃত হয়েছে সেই বিষয়ে ।

ইটিভি ভারত: বাংলায় আর কার সুরে কথায় কাজ করার ইচ্ছা ?
সায়নী: আলাদা করে কারওর নাম বলা কঠিন । অনেকের সঙ্গে কাজ হয়েছে । অনেকের সঙ্গে বাকি ।

ইটিভি ভারত:এআই কি সঙ্গীতের দুনিয়ায় থ্রেট ?
সায়নী: আমার মনে হয় না । এটা একটা টেকনোলজি । এটাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে । কতটা নেব আর কতটা বর্জন করব তার উপরে নির্ভর করছে ।

ইটিভি ভারত:সায়নীর অভিনয়ে ইচ্ছা আছে ?
সায়নী: অনেকেই বলেছে । কিন্তু আমার মনে হয় আমি খুব খারাপ অভিনয় করব । দর্শককে এত কষ্ট দিয়ে লাভ নেই ।

ইটিভি ভারত: গান ছাড়াও আর কী করতে ভালো লাগে?
সায়নী: সিনেমা দেখতে, আড্ডা দিতে ভালোবাসি।