ফোন করে বলল অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছি, আমি বাঁচব?- সায়ক চক্রবর্তী
দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে ডিপ্রেশন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ না থাকা নিয়ে বিস্তর আলোচনায় সায়ক চক্রবর্তী। কী বক্তব্য তাঁর?

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : January 6, 2026 at 9:58 AM IST
কলকাতা, 6 জানুয়ারি: বন্ধু দেবলীনা নন্দীর (Debolina Nandy) আত্মহত্যার চেষ্টায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বন্ধু সায়কও (Sayak Chakraborty)। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আজ দেবলীনা বেঁচে আছে সায়কেরই জন্য। কী হয়েছিল সেই রাতে?
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটা অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফেরার পথে একগুচ্ছ স্লিপিং পিল খেয়ে ফেলেছিলেন গায়িকা। শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন নিজেকে। দেবলীনাকে ভিডিয়োতে বলতে শোনা যায় যে, সেদিন রাতে তিনি বারে বারে ভেবেছেন যে, সবটা ঠিক হয়ে যাবে। হয়তো তাঁর চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তাঁর বারে বারেই মনে হয়েছে, স্বামী প্রবাহকে মেসেজ করার কথা। কিন্তু দেবলীনার কথায়, 'আমি জানতাম, কোনও উত্তর আসবে না।' চূড়ান্ত হতাশায়, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খান দেবলীনা। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বুঝতে পেরেও, তিনি স্বামীকে মেসেজ করেননি। গোটা ঘটনাটির কথা তিনি জানান, বন্ধু সায়ককে।
সায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইটিভি ভারত। অভিনেতা দেবলীনার বলা কথায় সম্মতি জানিয়ে বলেন, "দেবলীনা আমাকে ফোন করে বলেছিল সায়ক আমি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছি। জানি না বাঁচব কি না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওর মা আর ওর সঙ্গে যারা ছিল তাদের ফোন করে বলি, এক্ষুণি ওয়াশ করতে হবে ওর স্টমাক। ওরাও সেটাই করে। বাকিটা তো আজ সবাই জানে।" সায়ক আরও বলেন, "পরে জেনেছি ও স্ট্রিপ থেকে সব ওষুধ খুলে হাতে নিয়ে খাচ্ছিল। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলছিল মৌরি খাচ্ছি। আর তারপরই।..."
সায়কের কথায়, পল্লবীর (দে) মতো একজন বন্ধুকে হারিয়েছি। আর পারব না এভাবে কারওকে হারাতে। দেবলীনা এখন অনেকটাই সুস্থ। ও ভালো হয়ে যাবে। আবার গান গাইবে। কত কাজ বাকি ওর।..." সায়কের কথায়, "অনেকদিন থেকেই ও ঠিক নেই। বলেছিলাম সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসতে। বেরিয়ে আসতে বলতে পারি, জোর তো করতে পারি না। কয়েকদিন ধরেই অল্পতে রেগে যেত দেবলীনা। বুঝতে পারতাম ও ঠিক নেই। মানুষ মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকলেই এরকম করে। আমার মনে হয় মন ঠিক না থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত সবার। এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত না। তবে, সেই সময়ে ওই মানুষটার মনের মধ্যে কী চলছে কেউ জানে না। এরকম টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত যে কোনও মানুষের।"
শরীর খারাপ হলে চিকিৎসকের কাছে ছোটেন সকলে ৷ কিন্তু মনের রোগ হলে তা থেকে যায় মনে মনেই ৷ সমাজ পরিবর্তন হলেও মনের ডাক্তার দেখানোর কথা ভাবতে পারেন না অনেকেই ৷ সায়কের কাছে মানসিক বিধ্বস্ততা প্রসঙ্গে ফেডারেশনের উদ্যোগে আনা 'মানবিক বন্ধু'র প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, "আমরা সকলেই কখনও না কখনও ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাই। ফেডারেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে, একইভাবে সবাই যাতে কাজ পায় সেটাও যেন দেখা হয়। দশজন দশটা কাজ করছে আর বাকি পঞ্চাশজন দিনের পর দিন বসে আছে, এটা ঠিক না। কারওর কাছে আর্টিস্ট ফোরামের কার্ড আছে মানে সে কাজটা করতে পারে। অনেকে কাজের অভাবে বসে আছে। আর কাজ এলেও এমন পেমেন্টের কথা বলা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বাড়িতে বসেই কিছু একটা করে খেয়ে নিই ।"

