আইনিভাবে পিয়া সেনগুপ্তই সভাপতি ! ধ্বনি ভোট অনৈতিক- দাবি ইম্পার আইনজীবীর, কী বললেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়?
2027-এর আগে পিয়াকে সরানো মানে আইন লঙ্ঘন করা- জানিয়ে দিলেন ইম্পার আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়াল।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : May 26, 2026 at 10:04 AM IST
কলকাতা, 26 মে: পিয়া সেনগুপ্তকে 'ধ্বনি' ভোটের মাধ্যমে সরিয়ে ইম্পার মসনদে বসলেন রতন সাহা। আইন অনুযায়ী 2027-এর সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা ইম্পাতে। কিন্তু তার অনেক আগেই একপ্রকার বলপূর্বক পিয়াকে সরিয়ে ইম্পার কুর্সিতে বসলেন অজন্তা সিনেমার মালিক রতন সাহা। যতদিন না ইম্পার নির্বাচন হয় ততদিন সভাপতি পদে রতন সাহাই আসীন থাকবেন বলে ঘোষণা করেছেন রতন পুত্র শতদীপ সাহা এবং প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশ। 25 মে সোমবার ইম্পা অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে রতন সাহার। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক বলে দাবি করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত এবং ইম্পার আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়াল।
এদিন বিকেলে কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, "আজ ইম্পা অফিসে প্রেস কনফারেন্স না করার কারণ আমরা সুস্থভাবে এই বৈঠকটা করতে পারব বলে ভরসা রাখতে পারছি না। যে ঘটনা গত 22 মে ঘটে গিয়েছে তার পর আর সুস্থভাবে ওখানে কথা বলা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। যেভাবে সেদিন আমার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে তাতে আমি আতঙ্কিত। 163 (2) ধারা জারি থাকলেও কেউ পুলিশ, আইন মানেনি 22 মে।"
ইম্পার আইনজীবী চাঙ্কি আগরওয়াল দাবি করেছেন, ধ্বনি ভোট অনৈতিক। এর কোনও ভিত্তি নেই। যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হয়েছেন তাঁকেও সভাপতি হিসেবে মানার কোনও প্রশ্নই আসে না। আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়ালের কথায়, "হাই কোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়, পিয়া সেনগুপ্তকে বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। পিয়ার এই কার্যকালের মেয়াদ 2027 পর্যন্ত। তিনি সিলেক্টেড নন, ইলেক্টেড প্রার্থী। ধ্বনিভোটের মাধ্যমে কোনও বৈধ নির্বাচিত প্রার্থীকে সময়ের আগে পদ থেকে সরানো যায় না। এর আগে একাধিক বার বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা। কিন্তু আইনিভাবে তাঁরা জিততে পারেননি। নির্বাচনেও তাঁরা জিততে পারেননি। ফলে, 2027-এর আগে পিয়াকে সরানো মানে আইন লঙ্ঘন করা। আইনজীবীর কথার সূত্রেই এ দিন রসিকতার সুর পিয়ার কথায়। তিনি মৃদু হেসে বলেন, "ওঁরা গঙ্গাজলে অফিস শুদ্ধ করেছেন। আমরা আইনিপথে ফের সংগঠনকে মুক্ত করব।"
পিয়া সেনগুপ্ত বিপক্ষে থাকা প্রযোজক-পরিবেশকদের প্রসঙ্গে বলেন, "2018-র পর থেকে এরা যতবার ভোটে লড়েছে ততবারই হেরেছে। আর শেষবার তো ওরা নমিনেশনই জমা দেননি। তারপরেও ওরা বলছে ওটা ইলেকশন ছিল না সিলেকশন ছিল। ধ্বনি ভোটে ওরা আমাকে সরিয়েছে। কাদের অংশগ্রহণ করার কথা 'ধ্বনি' ভোটে? মেম্বারদের তো? বাইরের থেকে লোক এনে রতন সাহাকে সমর্থন করানো হয়েছে হাত তুলে। জন সংযোগ আধিকারিক, খেলোয়াড়, কিছু অভিনেতা, পাড়ার লোক নিয়ে এসে ধ্বনি ভোট হয়েছে। এর কোনও গুরুত্ব আছে কি?" পিয়ার কাছে প্রশ্ন ছিল উনি কি ইম্পাতে যাবেন? ইম্পা সভাপতি বলেন, "নিশ্চয়ই যাবো। আমার শরীরটা আগে ঠিক হোক। একটা সংগঠন চালাতে আমি জীবনের ঝুঁকি নিতে পারব না।"
পিয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, কোনও প্রযোজক ছবি তৈরির কথা পিয়াকে জানালেই তিনি নাকি পাল্টা বলতেন পুত্র বনিকে সেই ছবিতে নেওয়ার কথা। এই প্রসঙ্গ তুললে তাঁর জবাব, "আমাদের সংগঠনের অন্যতম সদস্য প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম কর্ণধার। বনির আখের গোছাতে শ্রীকান্তদা'কে না ধরে বাকিদের বলতে যাব কেন?” আপাতত দিন কয়েক অফিসে বসবেন না পিয়া। তা হলে কীভাবে আগামী দিনে চলবে সংগঠনের কাজকর্ম? বর্তমান সভাপতি পিয়ার বক্তব্য, “অন্যদের কথা জানি না। আমি সভাপতি হিসেবে যে ভাবে কাজ সামলাচ্ছি, সে ভাবেই সামলাব।"
পিয়া বলেন, "আমার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। আমি যদি স্বজনপোষণ করে স্বামী অনুপ সেনগুপ্ত, ছেলে বনি সেনগুপ্তকে আনি, তা হলে শতদীপ সাহা কী করছেন? তিনি রতন সাহার পুত্র নন?" পিয়া এদিন সাফ জানান, রতনবাবুকে তিনি ‘অস্থায়ী সভাপতি’ মানেন না। বলেন, "আমার অসুস্থতাকেও যাঁরা ‘অভিনয়’ বলে দাগিয়ে দেন, তাঁদের নিয়ে আর একটি কথাও নয়।"
সভাপতি পদে মেয়াদ শেষের আগেই পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ দাবি এবং অবশেষে রতন সাহাকে সভাপতি পদে আসীন হওয়াকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা ইম্পায় তৈরি হয়েছে সেই ব্যাপারে মতামত জানতে ইটিভি ভারত যোগাযোগ করে সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁর হাতেও আছে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ভালো মন্দ দেখার ভার। তিনি বলেন, "আমি এখনও লিখিতভাবে কোনও দায়িত্ব পাইনি। তাই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না এক্ষুণি। তবে, এতদিনের অনেক দুর্নীতির কথা কানে এসেছে। দায়িত্ব লিখিতভাবে পেলে সবটা দেখব। আপাতত সোনারপুর দক্ষিণের সমস্যাগুলো নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। ওখানকার মানুষেরা হয়তো ভেবেছিল আমি ভোটে জিতে আর হয়তো দেখাই দেবো না। আর আজ প্রতিদিন আমাকে দেখে ওরা যে কী খুশি! ওই হাসিমুখগুলো আমাকে খুব আনন্দ দেয়। ওরা নানা রকমের সমস্যায় আছে। জল, নর্দমা ইত্যাদি নিয়ে। ওগুলো ঠিক করতে হবে। তাই রোজ ছুটে যাই ওদের কাছে।"

