ETV Bharat / entertainment

'বিজয়নগরের হীরে'র খোঁজে 'কাকাবাবু, গানে গানে 'যাত্রা শুভ হোক'

23 জানুয়ারি মুক্তির পথে চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত 'কাকাবাবু' ফ্রাঞ্চাইজির চতুর্থ নিবেদন 'বিজয়নগরের হীরে'। এসে গেল ছবির প্রথম গান 'যাত্রা শুভ হোক'।

prosenjit-chatterjee-talks-about-journey-as-kakababu-in-vijaynagarer-hirey-bengali-movie
'বিজয়নগরের হীরে' সিনেমার গানের প্রকাশ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : January 6, 2026 at 2:12 PM IST

|

Updated : January 6, 2026 at 2:58 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 জানুয়ারি: এক শীতের দুপুরে দমদমের এক স্পোর্টস স্কুলে হাজির টিম 'কাকাবাবু' (Kakababu)। সেখানেই মুক্তি পেলো এই ফ্রাঞ্চাইজির চতুর্থ নিবেদন 'বিজয়নগরের হীরে'র (Vijaynagar'er Hirey) প্রথম গান 'যাত্রা শুভ হোক' (Jaatra Shubho hok)। এদিন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মিশে যান সকলের প্রিয় 'বুম্বা দা' অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। শুধু তাই নয়, ওদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি যত্ন সহকারে। অন্যান্যরাও যেমন আরিয়ান ভৌমিক, সত্যম ভট্টাচার্য, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, চন্দ্রাশিস রায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, প্রসেনও এদিন ছিলেন বেশ খোশমেজাজে ৷

এদিন 'যাত্রা শুভ হোক' লেখা বেলুন ওড়ানো থেকে কেক কাটিং পর্ব- বাদ ছিল না কিছুই। ছবির সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত বলেন, "আমি এই ফ্রাঞ্চাইজির শুরুর দিন থেকেই আছি। কাকাবাবুর জন্য গান করা মানে আমাদের একটু বয়সটা কমিয়ে নিতে হয়। কাকাবাবুর সুরের একটা স্টাইল প্যাটার্ন আছে। ছোটদের কথাও মাথায় রাখতে হয় এখানে। আর আগের ছবিগুলো সৃজিত বানিয়েছেন, এবার চন্দ্রাশিস। দু'জন আলাদা পরিচালকের ভাবনাও আলাদা। আর তাঁদের সঙ্গে আমাদেরও মিলে যাওয়া, এভাবেই চলতে থাকে।"

সিনেমার প্রোমোশনে 'কাকাবাবু' টিম (ইটিভি ভারত)

গানটি লিখেছেন প্রসেন। তিনি বলেন, "আই ডি'র সঙ্গে কাজ করতে গেলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। উনিই গানটা অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যান। আমার এই নিয়ে দুটো গান হল কাকাবাবুর। লিখতে গেলে কীরকম শব্দ ব্যবহার করব তা বেশ ভাবতে হয়।"

কাকাবাবু থুড়ি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, " বাংলা সাহিত্যের সুনীল দা'র অন্যতম সৃষ্টি কাকাবাবু। শিশু সাহিত্য নিয়ে খুব একটা কাজ হয় না। এই কাজটার মধ্যে যেমন একটা ব্যবসা আছে তেমনই একটা দায়িত্বও আছে। সৃজিত কাকাবাবুকে নিয়ে তিনটি ছবি বানিয়েছে। তিনটেই বিদেশে শুটিং। ইজিপ্ট, সুইজারল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা। সুনীল দা'র বেশ কিছু গল্প আছে যা ভারতবর্ষের ইতিহাস বলে। কর্ণাটকের বিজয়নগরের একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে সবাই জানে। আমাদের সবার মনে হয়েছিল বিজয়নগরের হীরে নিয়ে কাজ হওয়া উচিত। অসম্ভব ভালো গল্প এবং এর মধ্যে ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। বহুদিন পরে সন্তুর সঙ্গে জোজো ফিরে এসেছে। জোজো একটা প্রিয় চরিত্র কাকাবাবুর পাঠকদের কাছে।"

তিনি আরও বলেন, "শিশু সাহিত্য নিয়ে ছবি করা মানে একটা দায়িত্ব। আর কাকাবাবুর জন্য বাচ্চারা খুব এক্সাইটেড। বাচ্চাদের ছবি খুব কমই আসে। তাই বাচ্চারা যাতে পরিবারের সঙ্গে সিনেমা হলে এসে উপভোগ করতে পারে সেই কারণেই বাচ্চাদের ছবি বানানো। "

এবার এই ছবির পরিচালক বদল হয়েছে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় আগের তিনটি বানান। এটি বানালেন চন্দ্রাশিস রায়। কাকাবাবু অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় চন্দ্রাশিস প্রসঙ্গে বলেন, "সৃজিত দুর্দান্ত তিনটে ছবি উপহার দিয়েছেন। সৃজিত চন্দ্রাশিসকে ভীষণ স্নেহ করেন। চন্দ্রাশিস খুব প্রতিভাবান এবং দক্ষ পরিচালক। এবার কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ওঁর ছবি পুরস্কারও পেয়েছে। একজন একটা ব্র‍্যান্ড তৈরি করে। সেটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুনদের লাগে। চন্দ্রাশিস তেমনই একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান।"

প্রসঙ্গত, এই ছবির গল্প আবর্তিত হয় বিজয়নগর সাম্রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া হীরের খোঁজে কাকাবাবু রাজা রায়চৌধুরী ও সন্তুর দুঃসাহসিক অভিযানকে কেন্দ্র করে। সন্তু ছাড়াও এবার কাকাবাবুর দোসর হবে জোজো, রিঙ্কু এবং রঞ্জন। জোজোর ভূমিকায় পুষণ দাশগুপ্ত, রিঙ্কু হয়েছেন শ্রেয়া ভট্টাচার্য আর রঞ্জনের চরিত্রে সত্যম ভট্টাচার্য। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, রাজনন্দিনী পাল, অনুজয় চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। উল্লেখ্য, ইটিভি ভারতই প্রথম জানায় এই ছবিতে কাকাবাবুর মেন্টর হিসেবে পাওয়া যাবে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীকে। রয়েছে 'হামি' খ্যাত ভুটু ভাইজান ব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

প্রথম ঝলকেই মারকাটারি দৃশ্যে খেল দেখিয়েছে কাকাবাবু। মগজাস্ত্র ধারালো থাকলে ক্রাচ হাতেও যে শত্রুদমন করা যায় তা 'কাকাবাবু' মারফত শিখিয়ে গিয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কাকাবাবু এবার সদলবলে হাম্পি যাবে। উল্লেখ্য, কর্ণাটক রাজ্যের বিজয়নগর জেলার একটি শহর হল 'হাম্পি'। সেখানে কাকাবাবু কীভাবে 'বিজয়নগরের হীরে'র রহস্য ফাঁস করবে এবার সেটাই দেখার।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা 'বিজয়নগরের হীরে' গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির এই চতুর্থ সিনেমা। এসভিএফ ও এন আইডিয়াজ ক্রিয়েশন অ্যান্ড প্রোডাকশনের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এই ছবি।
প্রসঙ্গত, 2013 সালে সৃজিত মুখোপাধ্যায় প্রথম উপহার দিয়েছিলেন ‘মিশর রহস্য’। তারপর 2017 সালে মুক্তি পায় ‘ইয়েতি অভিযান’। শেষবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল’ কাহিনি অবলম্বনে ছবির চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আর এবার চন্দ্রাশিস বানালেন ‘বিজয়নগরের হীরে’, যার শুভমুক্তি 23 জানুয়ারি।

Last Updated : January 6, 2026 at 2:58 PM IST