বন্ধ কাটমানি কালচার-ভেঙে গেল ফেডারেশন ! টেকনিশিয়ান্সে বসে কী কী অঙ্গীকার পাপিয়া অধিকারীর ?
পাপিয়া অধিকারী বলেন, "টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি এখনও গড়ে ওঠেনি ৷ সেটা তৈরি করতে হবে ৷ এখন টালিগঞ্জ ফিল্ম ট্রেড রয়েছে ৷"

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : June 3, 2026 at 12:47 PM IST
কলকাতা, 3 জুন: "শর্ত নয় প্রত্যাশা, ভয় নয় ভরসা"- এই স্লোগান নিয়ে আজ টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে সকল কলাকুশলী, শিল্পী-সহ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জমায়েত হওয়ার জন্য ডাক দেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। সুশৃঙ্খল, সংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ টলিপাড়া গড়ে তুলতে এই জমায়েত। তবে, খুব কম সংখ্যক শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে বৈঠক করেন টালিগঞ্জের বিধায়ক৷ মূল বক্তা ছিলেন পাপিয়া অধিকারী ৷ এ ছাড়াও হাজির ছিলেন অশোক ধানুকা, কাঞ্চনা মৈত্র, মাফিন চক্রবর্তী, সুচন্দ্রা ভানিয়া, পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী, মুমতাজ সরকার, মৌবনি সরকার ৷
যে যে বিষয় আজ কথা হল
1) নতুন কনফেডারেশন তৈরি করা।
2)সমস্ত কলাকুশলী ভাই ও বোনেদের এই কনফেডারেশন-এর আওতায় আনা।
3) ব্যান কালচার তুলে দেওয়া।
4)এই কনফেডারেশন আগের ফেডারেশন-এর করা সমস্ত কাজ খতিয়ে দেখবে এবং কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সরাসরি সরকারকে জানাবে।
5) এই কনফেডারেশন এর আওতায় যারা থাকবেন তাদের প্রত্যেকের কাজ সুনিশ্চিত করা ও কাজের সময়সীমা ও সাম্মানিক ঠিক করা।
6) কলাকুশলীদের ও তাদের পরিবারের বিভিন্নভাবে চিকিৎসা জনিত সমস্যার সমাধান করা।
7) সর্বোপরি টালিউডকে তথা টালিগঞ্জকে অন্যতম ফিল্মসিটি হিসেবে গড়ে তোলা।
উল্লেখ্য, ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল কনফেডারেশন (EIMPCC) প্রেসিডেন্ট হলেন পাপিয়া অধিকারী ৷ এই সংস্থা দিল্লির সঙ্গে সংযুক্ত ৷ সব কলাকুশলীকে এক ছাতার তলায় এনে কাজ করানোই এর মূল লক্ষ্য ৷ পাপিয়া অধিকারী বলেন, "টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি এখনও গড়ে ওঠেনি ৷ সেটা তৈরি করতে হবে ৷ এখন টালিগঞ্জ ফিল্ম ট্রেড রয়েছে ৷ নতুন করে গড়ে তুলব টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।"
তিনি আরও বলেন, "কনফেডারেশন আগের ফেডারেশনের কাজ খতিয়ে দেখবে ৷ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। আর না করতে পারলে সরে যেতে হবে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে৷ প্রত্যেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান যাতে কাজ পায় সুনিশ্চিত করতে হবে ৷ অনেকেই পাঁচ দিনও কাজ পান না এখানে ৷ সেটা তো চলবে না। মুম্বইয়ের মতো কাজের শিফট তৈরি করার ইচ্ছা আছে ৷ কনফেডারেশন দিল্লির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে সহায়তা পাওয়া যাবে।"
পাপিয়া অধিকারীর কথায়, "ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল কনফেডারেশন (EIMPCC)- এর আওতায় তিন কি চারটে ছাতা থাকবে। কেন্দ্রের রেজিস্ট্রিকৃত এই EIMPCC ৷ ক্যামেরা, ডিরেক্টর, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট- এই তিনটি ডিপার্টমেন্ট থাকবে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় দাবি জানিয়েছেন যে আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম বিভাগেরও দরকার ৷ সেদিক নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।" এদিন তিনি ঘোষণা করেন, "যাদের নামে ভুরি ভুরি অভিযোগ সেই মহম্মদ হাসান, বাবাই, স্বপন মজুমদার, বাপি মালাকার, সুজিত হাজরাকে আর রাখা হবে না এই ইন্ডাস্ট্রিতে।"
পাশাপাশি বিধায়ক-অভিনেত্রী জানান, "প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে দু'জন করে গুরুত্বপূর্ণ কো-অর্ডিনেটর থাকবেন। পুরনোরা যাঁরা বসে আছেন তাঁদের আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যাঁরা আত্মহত্যায় প্ররোচনা পেয়েছেন, যারা নানাভাবে শোষিত হিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। যারা পয়সা দিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়েছেন তাঁদের এস আই আর করব। অনেক অযোগ্য মানুষ এখানে ঢুকে পড়েছেন।"
প্রযোজকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী ৷ ওয়ান উইন্ডো পারমিশন সিস্টেম থাকবে ৷ মুম্বইয়ের মতো কাজের শিফট করতে ইচ্ছুক পাপিয়া অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মেম্বারশিপ-এর জন্য সামান্য টাকা ধার্য করা হবে। মেম্বারশিপ ফর্ম 5 জুন থেকে পাওয়া যাবে।
অশোক ধানুকা বলেন, "গত 35 বছর থেকে এই পেশায় ৷ 1995 থেকে 2014-15 অবধি অবধি কোনও গণ্ডগোল হয়নি। নতুন ফেডারেশন এল, সমস্যা তখন থেকেই ৷ প্রযোজককেই গুরুত্ব দেওয়া হত না। ছবির সংখ্যা কমে গিয়েছে ৷" এদিন ব্যান কালচার, থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে রব ওঠে আলোচনা সভায়। বলা হয়, কাজ বন্ধ করা চলবে না। কার্ড ফেরত চাই দুর্নীতিকারীদের ৷
রব ওঠে সবার আগে কার্ড ফেরত দিক স্বরূপ বিশ্বাস। টলিপাড়াতেও চালু হল ডি কিউব। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট। অর্থাৎ যারা দুর্নীতি করেছে তাদের ডিটেক্ট (সনাক্ত) করা হবে, ডিলিট অর্থাৎ এখানে আর কাজ করার সুযোগ থাকবে না তাদের। আর ডিপোর্ট অর্থাৎ অন্য কোনও সেক্টরে গিয়ে কাজ করতে পারেন। পাপিয়া অধিকারীর কাছে জানতে চাওয়া হয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না৷ টালিগঞ্জের বিধায়ক বলেন, "আমি চাইছি না প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ৷ যারা অপরাধী তারা নিজেরাই বেরিয়ে যাক।"

