ভালো বাংলা ছবি আর দর্শকের অভাবে বন্ধ সিনেমা হল, জট কাটবে কবে?
হল মালিকদের বক্তব্য, ছবি ভালো না হলে লোক আসবে কেন? তার উপরে বাংলা ছবি নেই।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : February 27, 2026 at 1:49 PM IST
কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: বাংলা সিনেমার পাশে থাকতে গিয়ে কি বিপাকে পড়েছেন হল মালিকরা ? দর্শক ও সিনেমার অভাবে, একে একে বন্ধ হচ্ছে সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি ৷ হঠাৎ বন্ধ প্রিয়া সিনেমা আর বিনোদিনী থিয়েটার। একই অবস্থা নবীনার। বুধবার থেকেই বন্ধ প্রিয়া। আর তার আগে মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ বিনোদিনী থিয়েটার।
সিনেমা হল মালিকদের বক্তব্য, নতুন বাংলা ছবির অভাব এবং সাম্প্রতিককালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলি দেখতে আশানুরূপ দর্শক না আসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও বাংলা ছবি মুক্তি পায়নি। প্রেক্ষাগৃহে চলছিল 'মন মানে না' এবং 'খাঁচা'। কিন্তু এই দুই ছবির একটিও দর্শক টানতে না পারায় বেশ সমস্যায় পড়েন হল মালিকরা। অজন্তা সিনেমা হলের তরফে শতদীপ সাহাও বলেন এই একই কথা। তিনি বলেন, "মন মানে না ভালো চলেনি। মানুষ আসেনি দেখতে।"
বেহালার অশোকা সিনেমা হলের তরফে প্রবীর দাস বলেন, "অশোকা খোলা আছে। তবে, যে ছবি দু'টি চলছে তাতে লোক নেই। তাই এক প্রকার বন্ধই বলা যায়। ছবি ভালো না হলে লোক আসবে কেন? তার উপরে বাংলা ছবি নেই। সবাই ছুটির মরশুমে ছবি আনার জন্য মারামারি করছে। ফলে বাকি সময়ে আর ভালো ছবি নেই। তার ফলে হল ফাঁকা যাচ্ছে। একই সপ্তাহে সব ছবি যদি আসে তা হলে না পায় ভালো শো, না পায় হল। তাতে বাকি সময়ে এরকম অবস্থা তো হবেই।"
বিনোদিনী থিয়েটারের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মন মানে না’ দেখতে দর্শক হলে ভিড় জমায়নি। তবে, সেইসময় ‘প্রজাপতি 2’ও চলছিল বটে, কিন্তু দর্শক কমে গিয়েছিল। সিনেমা হল কোনও দাতব্য চিকিৎসালয় নয়। গত সপ্তাহে যে দুটি হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল, সেগুলিও বিনোদিনী পায়নি, কারণ সীমিত স্ক্রিনিং ছিল। বাংলা ছবি চলুক। কিন্তু তার জন্য তো দর্শক থাকতে হবে।
ওদিকে প্রিয়া সিনেমা হলের মালিকের দাবি, এখন লাভের থেকে লোকসানই বেশি। সারাদিনে টিকিট বিক্রি করে 10 হাজার টাকাও উঠছে না, অথচ প্রতিদিন বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন এবং এসি চালানোর খরচ মিলিয়ে নয়নয় করে 5 হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ‘মন মানে না’ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। দর্শক আসেননি। হিন্দি ছবির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়, ‘রোমিও’ও দর্শক টানতে পারেনি। এই মুহূর্তে নতুন কোনও ছবিও মুক্তি পাচ্ছে না। এই আয়ের উপর নির্ভর করে হল চালিয়ে যাওয়া মানে আরও বড় লোকসানের মুখে পড়া।
প্রসঙ্গত, একে তো এখন পরীক্ষার মরশুম। একইসঙ্গে ভোটের হাওয়া। তাই এই সময় বড় বাজেটের ছবি মুক্তির ঝুঁকি নিতে চাইছেন না প্রযোজক ও পরিচালকরা। ফলে নতুন বাংলা ছবি মুক্তি না পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কমেছে। অন্যদিকে, বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম দেওয়ার নীতির কারণে হিন্দি ছবির প্রযোজক এবং পরিবেশকরাও এই সময়ে সব হলকে ছবি দেননি। এতে সমস্যায় পড়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলি। এমনই আশঙ্কা সিনেমা হলের মালিকদের। এমনকী নতুন ছবি না আসা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন হলমালিকরা। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল দর্শক ও নতুন ছবির অভাবে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলি এখন বেশ বিপাকে।

