ETV Bharat / entertainment

Exclusive: 'উনি যে সরস্বতীর মতো সেজে ব্যান কালচার উঠে যাওয়ার কথা বললেন...'- কাজ থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সোমনাথ কুণ্ডু

মানুষ তার যোগ্যতায় কাজ করবে, শিল্পগুণে কাজ পাবে এই কথা যে সেদিন মা সরস্বতীর মতো সেজে বসে বলেছিলেন তার কী হল? প্রশ্ন শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর।

make-up-artist-somnath-kundu-talks-about-ban-culture-in-tollywood-and-papiya-adhikari
কাজ থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সোমনাথ কুণ্ডু (সংগৃহীত)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : July 3, 2026 at 12:17 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 3 জুলাই: ভালো আছে টলিউড? গুঞ্জন, ফের সেখানে শুরু হয়েছে 'ব্যান' কালচার ! যে 'ব্যান' কালচার আর থাকবে না বলে সরকার বদলের পর সদর্পে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে বসে ঘোষণা করেন অভিনেত্রী তথা টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। দু'মাস যেতে না যেতেই সেখানে আবারও কাজ থেকে 'বাদ' দেওয়ার গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, এবার নাকি ব্যান করা হতে পারে জাতীয় পুরস্কারজয়ী রূপসজ্জাশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু, কেশসজ্জাশিল্পী হেমা মুন্সী-সহ একাধিক কলাকুশলীকে।

শোনা যাচ্ছে, তাঁদের 'ব্যান' করার নেপথ্যের কারিগর টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। বিষয়টা খুলে বলা যাক। কলকাতায় চলছে দ্বিভাষিক ছবি 'একা'র শুটিং। পরিচালক সুমন সেন। এই ছবিতে ইতিমধ্যেই পাঁচদিন কাজ করে ফেলেছেন সোমনাথ কুণ্ডু এবং হেমা মুন্সী। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ছবির কার্যনির্বাহী প্রযোজকদের ডেকে বৈঠক করা হয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, সোমনাথ-হেমা এবং আরও কিছু কলাকুশলী ছবির কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না।

কেন এই সিদ্ধান্ত? কানাঘুষোয় জানা যাচ্ছে, বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন টলিপাড়ার কলাকুশলীদের একাংশ। পাপিয়ার সিদ্ধান্তে ‘কনফেডারেশন’ তত্ত্ব এবং 'ফেডারেশন'-এর অস্তিত্ব সংকটই ছিল সেই লিখিত আবেদনের বিষয়। যার সঙ্গে যথাক্রমে যুক্ত ছিলেন সোমনাথ কুণ্ডু এবং হেমা মুন্সী-সহ বহু কলাকুশলী। সম্ভবত এই কারণেই তাঁদের কাজ থেকে বাদ দেওয়ার কথা চলছে।

ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি যোগাযোগ করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রূপসজ্জাশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর সঙ্গে। এই বিষয়ে ইটিভি ভারতের কাছে প্রথম মুখ খুললেন তিনি। সোমনাথ বলেন, "আমরা সিনেমাতেই আছি এখনও। আমাদের এই ছবির প্রযোজককে নতুন 'কনফেডারেশন' অর্থাৎ যারা বলে বেড়াচ্ছে ছাতার মতো সবাইকে রক্ষা করবে, আগলে রাখবে, আর ব্যান কালচার থাকবে না তাদের তরফ থেকেই আমাদের প্রযোজককে বলা হয়েছে আমি-সহ আরও কয়েকজনকে বাদ দিয়ে অন্য লোক দিয়ে কাজ করাতে হবে ৷ আমাদের পরিবর্তে দু'তিনটে নামও দিয়েছে তারা ৷ প্রযোজককে বলা হয়েছে আমার নাম সবার আগে বাদ দিতে৷"

সোমনাথ কুণ্ডু আরও বলেন, "আমরা কনফেডারেশনের মেম্বার নই। আমরা ফেডারেশনের মেম্বার ৷ কনফেডারেশেন নিজের মতো করে লোক নিতে চাইছে ৷ বলছে আমরাই শেষ কথা ৷ তবে, প্রযোজক আমাকে বলেছেন, 'আপনিই ছবিটা করবেন ৷ আপনাকে ছাড়া ছবিটা হবে না ৷ আপনি যদি না করেন আমার বাইরে থেকে লোক এনে করানোর ক্ষমতা নেই।' শুনেছি আমাদের কয়েকজনকে 4 তারিখের পর বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কনফেডারেশনের তরফে ৷ আমরা চেয়েছিলাম টলিডের অচলাবস্থা কেটে যাক৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। আমরা কারওর বিরুদ্ধে কথা বলতে যাইনি। আমরা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের কথাগুলো সকলকে জানাবো বলে এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো চরম অরাজকতার মাধ্যমে ভেস্তে দেওয়া হল ডিম ছুড়ে। আমাদের অন্য পার্টির লোক বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ৷ এরপর আমরা নন্দনে যাই আমাদের বক্তব্য নিয়ে। নন্দন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও যাই আমরা। সারা ভারতবর্ষের কাছে যে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মুখ পুড়ছে তার সুরাহা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। এরপর কয়েকজনের কমিটি গঠন করে।দেওয়া হয় সরকারের তরফে, যাতে ফেডারেশকে রাখা যায়। এখনও কেউ মাথায় বসেনি ফেডারেশনের ৷ তাই এই অচলাবস্থা। সেই সময়ের যে সিস্টেমটাকে নিয়ে এত কথা চলছে ক'দিন ধরে, সেটাই আবার কেউ কেউ বহাল তবিয়তে রেখে দিতে চাইছে দেখছি।"

তিনি আরও বলেন, "কয়েকদিন আগে টালিগঞ্জের বিধায়ক ঘোষণা করেছিলেন মাত্র চারটে গিল্ড থাকবে। আমরা সেই কারণেই গিয়েছিলাম নন্দনে। আমাদের এই ব্যাপারে বক্তব্য লিখিতভাবে জানাতে চেয়েছিলাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। জানিয়েছি ওনাকে। আমি আমার সরকারের উপর আশাবাদী ৷ প্রত্যেকে বলেছেন, 'কেউ বিরক্ত করবে না ৷ আপনারা আপনাদের মতো কাজ করুন'৷ আপাতত আমাদের এই ছবির প্রোডিউসার সেকশনও সেটাই বলেছে ৷ তাই যা ভাবব 4/5 তারিখের পর ভাবব ৷ আমার খারাপ লাগা এটাই যে বম্বে, দিল্লির টেকনিশিয়ান আছেন এখানে ৷ অস্ট্রেলিয়ার ডিওপি আছেন। তাঁরা যদি এই ধারণা নিয়ে যান এখান থেকে, তা হলে কী ভাববেন এই ইন্ডাস্ট্রিকে? স্বরূপ বিশ্বাসের পর মাথার উপরে কেউ বসেনি বলে এই অচলাবস্থা আজ। দরকারে আবার আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। উনি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বেশ কিছু কারণে নিজের দায়িত্বে রেখেছেন। এই দফতরটা খুব ঐতিহ্যবাহী আমাদের এই রাজ্যের। গোটা দেশের কাছে এই দফতরটার গুরুত্ব আছে। তাই এর বিষয়ে আগামী যা কিছু খোদ মুখ্যমন্ত্রীই জানাবেন।"

বেশ রাগ বুকে চেপেই এদিন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রূপসজ্জা শিপী সোমনাথ কুণ্ডু বলেন, "মানুষ তার যোগ্যতায় কাজ করবে, শিল্পগুণে কাজ পাবে এই জাতীয় কথা যে সেদিন তিনি মা সরস্বতীর মতো সেজে বসে বলেছিলেন তার কী হল? এই তার নমুনা? ফের কাজ থেকে বাদ দেওয়ার খেলা? রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরা, মোনা সিং-এর মতো মানুষ আছেন এই ছবিতে ৷ তাঁদের প্রস্থেটিক মেক আপ হুট করে এসে কেউ করে দিয়ে চলে যাবে? এটা সম্ভব?" সোমনাথ আরও বলেন, "সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আমার বক্তব্য জানাতেই পারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তার জন্য কাজ থেকে বাদ পড়তে হবে? এই তা হলে আমাদের সংস্কৃতি?"

এই ব্যাপারে পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ফোনে অধরা তিনি। সূত্রের খবর, বিষয়টি ইতিমধ্যেই ‘টলিউড দেখভালের’ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাকি তিন বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে এসেছে। এখন অপেক্ষা ৪ জুলাই অবধি। শেষ অবধি কী হয় সেটাই দেখার। তবে, টলিপাড়ার অন্দরে এখন ঘুরছে একটাই প্রশ্ন, তাহলে কি বহালই থেকে গেল বিতর্কিত 'ব্যান কালচার'? নাকি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সব জট কেটে গিয়ে গড়ে উঠবে সোনার বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ? এবার সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন