ETV Bharat / entertainment

15টির বেশি ছবিতে সহকারী পরিচালকের কাজ, 'বুং'-এর আগে কেমন ছিল লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর জার্নি ?

পরিচালক তথা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর শৈশবের এক অস্বস্তিকর অংশ থেকে উঠে এসেছে এই সিনেমায় ৷

lakshmipriya-devi-directorial-debut-manipuri-filmmaker-served-as-an-assistant-director-on-nearly-15-films
'বুং'-এর আগে কেমন ছিল লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর জার্নি ? (সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : February 28, 2026 at 2:35 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ, 2 ফেব্রুয়ারি: তিনি বরাবরই গল্প বলতে ভালোবাসেন ৷ তবে পরিচালকের আসনে বসতে সময় লেগে গেল অনেকটাই ৷ কারণ তিনি মনে করতেন কোনও গল্প বলাটা, ভিতর থেকে আসা উচিত ৷ ফলে, সিনে দুনিয়ায় কাজ করতে করতে নিজের স্বপ্ন পূরণে সময় লেগে গেল 22টা বছর ৷ কথা হচ্ছে, মণিপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে ৷ প্রথম পরিচালনা দিয়ে যিনি ঝুলিতে ভরেছেন আন্তর্জাতিক বাফটা সম্মান ৷ আজ বিশ্বজুড়ে যখন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর কথা হচ্ছে, তখন তাঁর শিকড় কেমন ছিল, তা তো জানতেই হয় ৷

চলতি বছর মণিপুরী সিনেম 'বুং' বেস্ট চিলড্রেন'স অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম বিভাগে বাফটা পুরস্কার জিতেছে ৷ ভারতবাসীর কাছে যা ছিল গর্বের বিষয় ৷ মূলত, এই গল্প পরিচালক তথা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর শৈশবের এক অস্বস্তিকর অংশ থেকে উঠে এসেছে ৷

লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর পড়াশোনা-কাজের শুরু

অর্থনীতিতে অনার্স (মিরান্ডা হাউস) এবং মাস কমিউনিকেশনে স্নাতকোত্তর (এমসিআরসি, জামিয়া) ডিগ্রিধারী লক্ষ্মীপ্রিয়া প্রথম সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন ফারহান আখতারের 'লক্ষ্য' (2004) এবং রাজকুমার হিরানির 'পিকে' (2014) সিনেমায় ৷ সেখান থেকেই পরিচালক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা তথা শিক্ষার হাতেখড়ি ৷ 'বুং'(2024) হল তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, যা টিআইএফএফ 2024-এর জন্য নির্বাচিত হয়।

বুং-এর গল্প

মণিপুরে বর্ণগত উত্তেজনা এবং সীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে স্কুলছাত্র ''বুং' ৷ তার বিভক্ত পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের দৃঢ়তা ও সংকল্প এই সিনেমার প্রাণ ৷ এই বিষয়ে পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী বলেন, "আমি মণিপুরে জন্মগ্রহণ করেছি ৷ আমি খুব একাকী এবং শান্ত স্বভাবের ছিলাম। আমি আমার নিজের জগতে থাকতাম। যখন আমি দশম শ্রেণীতে পড়তাম, দিল্লির বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হলাম ৷ তখন আমার চারপাশের সবকিছু খুব কোলাহলপূর্ণ ছিল। "

তিনি বলেন, "তুমি জানো দিল্লির মানুষ কেমন, তাই না? আমার অনেক বন্ধু 'বুং'য়ের মতো অত্যন্ত দুষ্টু ছিল। তারা কিছু চরম রসিকতা করত আমার সঙ্গে ৷ যে কারণে অনেক শাস্তি পেতে হত। আমরা একবার আমাদের হোস্টেলের ঘরে আতশবাজি ফাটিয়েছিলাম ৷ যে কারণে প্রোফেসর আমাদের শাস্তি দিয়েছিলেন ৷ সেই দিনগুলি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে মজার দিন। আমরা সম্পূর্ণরূপে চিন্তামুক্ত ছিলাম।"

লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন যে সব সিনেমায়

  • দহড় (2023)
  • দুসরা (2021)
  • আ সুইটেবল বয় (2020)
  • পিকে (2014)
  • তলাশ- দ্য অ্যানসার লাইস উইদিন (2012)
  • গেম (2011)
  • লাক বাই চান্স (2009)
  • পজিটিভ (2007)
  • লয়েন্স অফ পাঞ্জাব প্রেজেন্টস (2007)
  • হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড (2007)
  • আফটার দ্য ওয়েডিং (2006)
  • রং দে বসন্তী (2006)
  • শিখর (2005)
  • স্বদেশ (2004)
  • লক্ষ্য (2004)

এর আগে বাফটা পুরস্কার জিতেছেন যে সকল ভারতীয়

রোহিনী হট্টঙ্গদি – গান্ধি (1982) সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসাবে বাফটা পুরস্কার জেতেন ৷ তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে বাফটা পুরস্কার জিতেছেন।

এআর রহমান – স্লামডগ মিলিওনেয়ার (2009) ছবির জন্য বেস্ট অরজিনাল মিউজিক- এর জন্য পুরস্কার জেতেন ।

রেসুল পুকুট্টি – স্লামডগ মিলিওনেয়ার (2009) ছবির জন্য সেরা সাউন্ড-এর জন্য বাফটা জেতেন ।

শেখর কাপুরও বাফটা পুরস্কার জিতেছেন। 1999 সালে 'এলিজাবেথ' সিনেমার জন্য তিনি আউটস্ট্যান্ডিং ব্রিটিশ ফিল্ম (আলেকজান্ডার কোর্দা পুরস্কার) পুরস্কার জেতেন ৷