Special: অনেকদিন পর মঞ্চে কনীনিকা, শিব ও সতীর দিব্য উপাখ্যান নতুন রূপে আবিষ্কার
শিব ও সতীর দিব্য উপাখ্যানকে নতুন শিল্পভাবনা ও প্রামাণিক শাস্ত্রীয় সূত্রের আলোকে পুনর্নির্মাণ 'কল্যাণ সুন্দরিকা' শীর্ষক মৌলিক নৃত্যনাট্যে ৷ খোঁজ নিলেন প্রতিনিধি নবনীতা দত্তগুপ্ত।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : July 8, 2026 at 2:59 PM IST
কলকাতা, 8 জুলাই: আগামী 12 জুলাই উত্তম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে 'কল্যাণ সুন্দরিকা' শীর্ষক একটি মৌলিক নৃত্যনাট্য, যা হিন্দু পুরাণের অন্যতম গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যান-শিব ও সতীর দিব্য উপাখ্যানকে নতুন শিল্পভাবনা ও প্রামাণিক শাস্ত্রীয় সূত্রের আলোকে পুনর্নির্মাণ করেছে। আয়োজনে 'অঙ্গিকা'। প্রযোজনায় সৈকত সামন্ত। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সেখানে চলছিল রিহার্সাল। কী ঘটতে চলেছে 12 জুলাই উত্তম মঞ্চে, খোঁজ নিল ইটিভি ভারত ৷
কল্যাণ সুন্দরিকা' শীর্ষক মৌলিক নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে মানুষ পৌঁছে যাবেন পবিত্র নগরী কাশীতে। বিশ্বেশ্বর দর্শন শেষে কালভৈরবের কাছে দেবী অন্নপূর্ণা, যাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এই চিরন্তন কাহিনি বর্ণনা করবেন। জগজ্জননীর কণ্ঠে গল্পটি উন্মোচিত হতে থাকলে দর্শক প্রবেশ করবেন সতীর জগতে-তাঁর সারল্য, অটল ভক্তি, আত্মিক জাগরণ এবং সেই নিয়তির পথে, যা তাঁকে নিয়ে যায় দক্ষের যজ্ঞকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মহাজাগতিক পরিবর্তনের দিকে।
প্রযোজনাটিতে জীবন্ত হয়ে ওঠেন শিব, সতী, দক্ষ, প্রসূতি, নারায়ণ, ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং অসংখ্য দেবদেবী ও স্বর্গীয় সত্তা। শাস্ত্রীয় নৃত্য, মৌলিক সংগীত এবং দৃশ্যত সমৃদ্ধ নাট্যভাষার অনন্য সমন্বয়ে তাঁদের কাহিনি রূপ পায় এক আবেগঘন শিল্পানুভূতিতে। আখ্যানটি পরিণতি লাভ করে বীরভদ্র ও ভদ্রকালীর মহামহিম আবির্ভাবে, যা দর্শকদের সামনে উন্মোচন করে এক বিস্ময়কর ও শক্তিশালী নাট্যমুহূর্ত।
শাস্ত্রসম্মত উৎস থেকে অনুপ্রাণিত হলেও 'কল্যাণ সুন্দরিকা' সম্পূর্ণ নিজস্ব সৃজনশীল ব্যাখ্যায় নির্মিত। নতুনভাবে রচিত চিত্রনাট্য, মৌলিক সুরসৃষ্টি, সূক্ষ্ম ও নান্দনিক নৃত্যপরিকল্পনা এবং চলচ্চিত্রধর্মী মঞ্চভাষার মাধ্যমে এই প্রযোজনা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য সেতুবন্ধন রচনা করেছে। প্রতিটি দৃশ্য ভারতীয় নন্দনতত্ত্বের সৌন্দর্যকে উদ্যাপন করার পাশাপাশি দর্শকদের আমন্ত্রণ জানায় একটি সুপরিচিত কাহিনিকে নতুন দৃষ্টিতে আবিষ্কার করতে।

সৈকত সামন্ত বলেন, "প্রত্যেকবারই নতুন রকমের কিছু নিয়ে আসতে চাই। সেই ভাবনা থেকেই 'কল্যাণ সুন্দরিকা'। আমাদের হিন্দু মাইথোলজির অনেককিছুই রয়েছে, যা আমরা জানি না। ছোট থেকে অনেক প্রোগ্রামই দেখেছি। ভালো যেমন দেখেছি খারাপও দেখেছি। নিজেও যখন প্রযোজনা নিয়ে আসতে শুরু করলাম ভাবলাম ভালো কিছু যদি আগামী প্রজন্মকে দিতে পারি। সেই প্রচেষ্টাই করে গেছি বরাবর।"
এই বিষয়ের উপর কাজ করার কারণ হিসেবে সৈকত বলেন, "প্রত্যেকেই ভালোবাসা নিয়ে অনেককিছু দাবি করি।। মূল যে ভালোবাসা তা কিন্তু নিঃশ্বব্দে। সতীর খণ্ডে একান্নটা পিঠ হলেও অখণ্ড কিন্তু মহাদেব। সতীর প্রত্যেক পীঠে তাঁর খণ্ডিত দেহের সঙ্গে অখণ্ডিত মহাদেব বিরাজ করেন। এঁদের ভালোবাসা নিঃশব্দে। কাশীর দেবী কেন অন্নপূর্ণা, তাঁর সঙ্গে শিবের কী সম্পর্ক, কালভৈরব কেন কাশীর কোতয়াল রূপে বিরাজ করছেন এবং দাক্ষায়ণী সতী কী কারণে দেহত্যাগ করেছিলেন সব কিছু নিয়েই আমরা রিসার্চ করেছি। পুরো বিষয়টা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি অন্যরকমভাবে, সৃজনশীল নাচের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"

কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অনেকদিন পর আবার মঞ্চে নাচে ফিরলাম। এর জন্য আমি সৈকতের কাছে কৃতজ্ঞ। এখানে আমি মা অন্নপূর্ণার ভূমিকায়। যারা এটা নিয়ে আসছে তারা প্রচুর পরিশ্রম করছে। কোনও স্পনসর নেই এই প্রোডাকশনের। নিজের টাকায় ওরা সবটা করছে। ভীষণ পরিশ্রম করছে ওরা। ওরা অনেককিছু বেশি জানে আমাদের থেকে। অনুষ্ঠানটার যেন প্রচার হয়, সংবাদ মাধ্যম মারফত সেই উপদেশটুকুই আমি দিয়েছি।"
পুরাণকাহিনির সাধারণ পুনর্কথন নয়, 'কল্যাণ সুন্দরিকা' এক নিমগ্ন শিল্প-অভিজ্ঞতা-যেখানে ভক্তি, অনুভূতি, সংগীত, নৃত্য, নাট্য এবং দৃশ্যবৈভব একসূত্রে মিলিত হয়ে উদ্যাপন করে শিব ও শক্তির চিরন্তন ঐক্যকে। পর্দা নামার পরও যার অনুরণন দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।

