KIFF 2025: এখনও বাবাকে চেনেনি- আক্ষেপ ঋত্বিক পুত্রর ! কী বললেন মাধবী ?
ঋত্বিক পুত্র ঋতবানের কথায়, "এখনও বাবা তাঁর প্রাপ্য সম্মানের পুরোটা পেয়ে উঠতে পারেননি। "

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : November 8, 2025 at 9:21 AM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: চলতি বছর ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ পালন করছে 31 তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Kolkata International Film Festival 2025)। কিংবদন্তি পরিচালকের একগুচ্ছ ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি প্রদর্শনীও চলছে নন্দন ফয়েরে ৷ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সেই প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। পাশে ছিলেন ঋত্বিক ঘটকের পুত্র ঋতবান ঘটক। তা ছাড়াও ছিলেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, অভিনেত্রী বীণা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, "আজ অনেক কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে। সে সব বলতে গেলে রাত ফুরিয়ে যাবে। তাই থাক।" প্রদর্শনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বীণা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ঋত্বিক পুত্র ঋতবানের কণ্ঠে কিছুটা আক্ষেপের সুর। বলেন, "বাবার এখনও অনেক সম্মান প্রাপ্তি বাকি ৷ এখনও বাবা তাঁর প্রাপ্য সম্মানের পুরোটা পেয়ে উঠতে পারেননি। অনেক দেশ এখনও বাবার কথা জানে না। তাদেরও ঋত্বিক ঘটক সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হওয়া উচিত।"
ঋত্বিক ঘটক পর্দায় এনেছিলেন বিভাজনের কান্না, নির্বাসনের যন্ত্রণা, আর মানুষের অন্তহীন হাহাকার। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কমল গন্ধার’, ‘সুবর্ণরেখা’- এই ত্রয়ী যেন এক বিভক্ত দেশের মানচিত্র, যেখানে চরিত্ররা মানুষ নয়, সময়ের মুখ। তাঁর প্রতিটি ফ্রেমে নীরবতার শব্দ আছে, প্রতিটি সংলাপে আছে ইতিহাসের ব্যথা। আপাদমস্তক রাজনীতির মানুষ ছিলেন তিনি।
কিন্তু তাঁর রাজনীতি ছিল করুণার। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প সমাজের আয়না নয়, সমাজকে বদলানোর হাতিয়ার।
জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী (1970) আর মৃত্যুর কিছু আগে, ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ (1974)–র জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বিশেষ পুরস্কার)। কিন্তু তাঁর আসল পুরস্কার তো অন্য। আজও বাঙালি তাঁর নীতার কান্নায় কাঁদে। মন থেকে সরাতে পারে না সেই হাহাকার- “দাদা, আমি বাঁচতে চাই...”।

