KIFF 2025 EXCLUSIVE: বাবার অমতে সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে ! রূপোলি পর্দার জনপ্রিয় বীণাকে ফের কবে দেখা যাবে বাংলায় ?
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা আর কি করবেন ? ইটিভি ভারতে স্পষ্ট জবাব অভিনেত্রী বীণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : November 8, 2025 at 4:22 PM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: চলতি বছরের 7 নভেম্বর ভারতের জাতীয় স্তোত্র 'বন্দেমাতরম' - রচনার 150 বছর পূর্ণ হল। এর অর্থ ‘মা তোমাকে বন্দনা করি’। কালজয়ী এই রচনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে প্রতিটি পদক্ষেপে। 31 তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব 'বন্দেমাতরম'-রচনার 150 বছর উদযাপন করছে। শুক্রবার নন্দনে 'বন্দেমাতরম' রচনার 150 বছর পূর্তি উপলক্ষে দেখানো হয় প্রদীপ কুমার অভিনীত হিন্দি ছবি 'আনন্দ মঠ'।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান 1875 সালের 7 নভেম্বর সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গদর্শনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর চিরকালীন উপন্যাস আনন্দমঠ– এ এই গানটি অন্তর্ভুক্ত করেন। আনন্দমঠ প্রকাশিত হয় 1882 সালে। সেই 'আনন্দমঠ' উপন্যাস অবলম্বনেই 1952 সালে হেমেন গুপ্ত তৈরি করেন হিন্দি ছবি 'আনন্দ মঠ', যেখানে অভিনয় করেন প্রদীপ কুমার, পৃথ্বীরাজ কাপুর, ভরত ভূষণ, গীতা বালি, অজিত।
ঘটনাচক্রে এ বছরটা প্রভাদপ্রতীম অভিনেতা প্রদীপ কুমারেরও জন্মশতবর্ষ। কিফ তাঁর জন্মশতবর্ষ পালনে প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছে। প্রদর্শনী দেখতে হাজির ছিলেন প্রদীপ কন্যা তথা খ্যাতনামা অভিনেত্রী বীণা বন্দ্যোপাধ্যায় (Beena Banerjee)। এদিন বাবার প্রদর্শনী ঘুরে আবেগে ভাসেন অভিনেত্রী। বাবার স্মৃতিতে ডুব দেন তিনি। বলেন, " চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী বাবা নিজেকে ভেঙে গড়ে নিতেন তা যাঁরা বাবার ছবি দেখেছেন বা দেখেন তাঁরা জানেন। বাবা উর্দু এবং হিন্দিতে নিজেকে চৌখস করে তুলেছিলেন। হঠাৎ করে কেউ বাবার সঙ্গে কথা বললে বুঝতেই পারতেন না যে উনি কলকাতার মানুষ।"
অভিনেত্রী এদিন আরও জানান, "বাবার শুটিং দেখার সুযোগ আমার কখনও হয়নি। বাবা তাই কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতেন আমার দেখা হয়নি কখনও। বাবার বক্তব্য ছিল যে ভাষাতে সিনেমা করবে সেই ভাষাটা নিজেকেও রপ্ত করতে হবে। না হলে চরিত্রটা সত্যি বলে মনে হবে না। তবে, বাবা বাড়িতে বাংলাতেই কথা বলতেন। 'বাবা' বলতে আমি জানি, বাবা লুচি না পেলে রেগে যেতেন। আর তার সঙ্গে যদি রসগোল্লাটা না পেতেন আরও রেগে যেতেন।"
বীণা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, "বাবা স্বাধীনতা সংগ্রাম নিজের চোখে দেখেছিলেন। অনেক ইতিহাস বাবার কাছ থেকে জেনেছি সেই সময়ের। বাবা বলতেন, তোমরা তো দেখোনি সেই সব দিন কী ছিল!" এরপর অভিনেত্রী এদিন নিজের অভিনয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, "আমার বাবা কখনও চাননি আমি অভিনয় করি। একদিন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং তরুণ মজুমদার এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে, আমাকে তরুণ মজুমদারের একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা বলতে। বাবা বলেছিলেন, খাওয়াদাওয়া হয়ে গিয়েছে তো, এবার বাড়ি যাও। আমি সিনেমাতে আসার পর বাবা 6 বছর আমার কোনও কাজ দেখেননি।"
প্রসঙ্গত, বীণা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সুদীর্ঘ সিনে কেরিয়ারে খুব একটা বাংলা ছবি করেননি। তবে, চেয়েছিলেন আরও বেশি সংখ্যক বাংলা সিনেমাতে কাজ করতে। আজও বাংলা সিনেমাতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। তাঁর হিন্দি ছবির তালিকায় আছে 'খুদা কসম', 'আন্দাজ', 'হামকো তুমসে পেয়ার হ্যায়', 'বরসাত', 'ইনসান', 'কোয়ি কিল গয়া', 'খুশি', 'আঞ্জাম', 'ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি', 'নাকাবন্দি', 'ফুল বনে অঙ্গারে', 'কয়ামত সে কয়ামত তক'। বাংলা ছবি বলতে সন্দীপ রায়ের 'উত্তরণ', শচীন অধিকারীর পরিচালনায় 'চোখের আলোয়' সহ আরও কয়েকটি। তবে, আগামীতে আরও বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে চান বলে তিনি জানিয়েছেন ইটিভি ভারতকে। পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর। তবে, আগামীতে আর পরিচালনায় ইচ্ছে নেই তাঁর। তাঁর জীবনের এক বড় আক্ষেপ সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করা হয়নি কখনও।

