ETV Bharat / entertainment

তৃণমূল জমানায় ইন্ডাস্ট্রিতে 'থ্রেট কালচার' ! মুখ খোলার সাহস পেলেন প্রযোজক পীযূষ

রতন সাহা হলের একটা লিস্ট বানিয়ে কীভাবে হলের উন্নতি করা যায় তার চেষ্টা করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা দিনও তাঁর কথা শোনার জন্য সময় দেননি।

director, producer Piyush Saha talks about threat culture in Tollywood film industry
থ্রেট কালচার নিয়ে সরব প্রযোজক পীযূষ সাহা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : May 6, 2026 at 4:51 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 মে: রাজ্যে এসেছে নতুন সরকার। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কুর্সি ছাড়তে হবে ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকেও। এমনই দাবি তুলে এবং ইম্পাকে রাজনীতিমুক্ত করার দাবি তুলে ইম্পা অফিসে হাজির হন টলিউডের একাংশ প্রযোজক-পরিবেশক। শুধু তাই নয়, গত দেড় দশক ধরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তৃণমূলের দাপাদাপি নিয়েও সরব হন তাঁরা। তবে, এদিনের মূল দাবি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ, ইম্পাতে রঙের উৎখাত। আর এর সবকিছুর আগে ইম্পার সকল সদস্যদের নিয়ে একটি মিটিং।

এদিন তৃণমূল জমানায় ইন্ডাস্ট্রির থ্রেট কালচার নিয়ে সরব হন প্রযোজক পীযূষ সাহা। তিনি বলেন, "মার্কেট ছোট, বাজেট বড় ৷ 10-20 বছর আগে ছবি করলে আমাদের ডাবল প্রফিট থাকত ৷ আর এখন ছবি বানালে 50 শতাংশ লস৷ প্রোডাক্ট তৈরি করছি কিন্তু বেচবো কোথায়? সিনেমা হল নেই৷ বাংলা ছবির মেইন মার্কেট গ্রাম বাংলা আর মফস্বল ৷ কিন্তু সেখানে সিনেমা হল কোথায়? রতন সাহা হলের একটা লিস্ট বানিয়ে কীভাবে হলের উন্নতি করা যায় তার চেষ্টা করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা দিনও তাঁর কথা শোনার জন্য সময় দেননি। উনি অরূপ বিশ্বাসের কাছে পাঠিয়ে দেন। আর অরূপ কোনও কথাই শোনেনি। উল্টে বলেছেন, 'আমরা এটা চ্যারিটি করি ৷ যা ভালো বুঝি যেন নিজেরাই করে নিই ৷ সিনেমা হল নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই ৷' একটা অসুস্থ ইন্ডাস্ট্রিকে তা হলে কীভাবে আমরা বাঁচাবো?"

তিনি আরও বলেন, "কোনও প্রযোজক ছবি করতে আসছে না ভয়ে ৷ কেউ বাংলা ছবি প্রযোজনা করতে চাইছে না ৷ বলছে অন্য ভাষার ছবি বানাও ইনভেস্ট করব ৷ কিন্তু বাংলা নয় ৷ কারণ সেখানেই তো গলদ ৷ বিশাল বড় বাজেট ছাড়া এখানে কাজ করা যাবে না ৷"

প্রযোজকের কথায়, "আমার একটা ছবি শুটিং শুরু করার দিন বন্ধ করে দেওয়া হয় ৷ কেননা যে সময় টলিপাড়ায় গণ্ডগোল চলছিল তখন তিনি প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন বলে ৷ আর আমার টাকা ফেঁসে যাবে বলে আমি নত হই। কিন্তু আমাকে বলা হয় এই নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করলে ছবির শুটিংটাই আর করতে দেওয়া হবে না। ওরা কিন্তু অনেকদিন আগে থেকেই জানে যে কবে শুটিংটা শুরু হবে ৷ কিন্তু ঠিক এমন সময়ে সেটা বন্ধ করতে বলে যখন সেট রেডি ৷ প্রচুর টাকা খরচা করে প্রযোজক ছবিটা করতে রেডি ৷ আর উপায় না থাকায় ওদের সব শর্ত তখন মেনে নিতে বাধ্য হয় প্রযোজকরা ৷"

পীযূষ সাহা আরও বলেন, "আমরা এতদিন কোনও কিছু নিয়ে মুখ খুলতে পারিনি ৷ কারণ তা হলে ছবিই বানাতে পারব না ৷ আজ পট পরিবর্তন হয়েছে ৷ আমরা আমাদের কথা বলতে পারব বলে আশা রাখছি। মুক্ত মনে হচ্ছে নিজেদের। এই সংগঠনে তৃণমূলিরাজ চলত ৷ ফেস্টিভ্যালে অবধি আমরা যারা ছবি বানাই তারা নিমন্ত্রণ কার্ড পেতাম না। তৃণমূলের দাদারা যারা জীবনে কেউ ছবি বানায়নি তাদের সবাইকে ডাকা হত। অথচ আমরা যারা টাকা খরচ করে সিনেমা বানাই তাদের ডাকা হয় না। আমরা এবার থেকে সুস্থ, স্বচ্ছভাবে কাজ করতে চাই সবাই মিলে। সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী যেন কাজ পায়। আমরা ইম্পাতে কোনও রাজনৈতিক রঙ চাইছি না।"

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, প্রযোজকরা ইম্পা অফিসে গেরুয়া আবির নিয়ে এসে মাখেন ৷ 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি তোলেন। ইম্পার সভাপতি বলেন, "ওনারা সবাই বিজেপির সমর্থক। গায়ের জোরে আমাকে ইস্তফা দিতে বলছেন। আমি ইসি মিটিংয়ের আগে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।" আজ 6 মে ফের ইম্পা অফিসে হাজির প্রযোজক-পরিবেশকরা। ওদিকে আজই ইসি কমিটির মিটিংয়ে বসেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। হাজির হয়েছেন তাঁর পুত্র বনি সেনগুপ্তও। এই ইসি মিটিংয়ের পরই প্রোডিউসার, এক্সিবিটর, ডিস্ট্রিবিউটর, অ্যাসোসিয়েট মেম্বার-দের সঙ্গে কবে ইম্পা মিটিং করবেন তা জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন