ঢাকিদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ! মানুষের থেকে কি যন্ত্রদানব বড় ?
মানুষ আর যন্ত্রের লড়াইকে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক রাহুল সাহা ৷

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : January 9, 2026 at 1:36 PM IST
হায়দরাবাদ, 9 জানুয়ারি: দুর্গাপুজো মানে যেমন শরতের আকাশ, হালকা শিশিরে ভেজা কাশফুল তেমনই দুর্গাপুজো বললে কানে ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ ৷ ঢাকের বোলে কাঠি না পড়লে যেন মায়ের পুজো সম্পন্ন হয় না ৷ কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে চাহিদাও ৷ এখন মানুষের জায়গা দখল করে নিচ্ছে এআই বা যন্ত্র ৷ কিন্তু ভালোবাসা বা আবেগকে ধরে রাখতে পারে যন্ত্র ? ঢাকের বোলে যে শব্দ মনের গভীরে গিয়ে ধাক্কা দেয় তা কি একটা যন্ত্র দিতে পারে ? মানুষ আর যন্ত্রের এইরকম এক লড়াইকে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক রাহুল সাহা ৷ একাধিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হওয়া শর্ট ফিল্ম ঢাকি এবার পাড়ি জমাতে চলেছে মুম্বই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ৷
দাদাসাহেব ফালকে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম কম্পিটিশন (2024), গোয়া শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (2024)-এর মতো উৎসবে নির্বাচিত ও প্রশংসিত হয়েছে রাহুল সাহার ঢাকি ৷ বিভিন্ন বিভাগে সান্তিয়াগো ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এসেছে ঝুলিতে ৷ পরিচালকের পরিকল্পনা এবার এই শর্টফিল্মকে ফিচার ফিল্মের আকারে নিয়ে আসবে বড়পর্দায় ৷

পরিচালক বলেন, "এই মুহূর্তে এই শর্টফিল্ম কোনও ইউটিউব বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে না ৷ স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই সিনেমা সকলের ভালোবাসা পেয়েছে ৷ একসময়ে চিত্রনাট্যের জন্য প্রযোজক খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছিল, এখন ঢাকির সাফল্য আমাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছি ৷ তাই, এই শর্টফিল্মের সঙ্গে আর কয়েকটা ছোট ছোট গল্প জুড়ে একটা ফিচার ফিল্ম-এর মতো তৈরি করে তা বড়পর্দায় আনার ইচ্ছা রয়েছে ৷"

একনজরে জেনে নেওয়া যাক, কেমন শর্ট ফিল্মের গল্পটা...
গল্পের শুরু 70 বছর বয়সের তিলক ঢাকিকে কেন্দ্র করে ৷ প্রতি বছরের মতো এই বছরও, তিনি তার নাতি-নাতনিদের নিয়ে, গ্রাম থেকে জমিদার অগ্নিশ্বরের বাড়ির দুর্গাপূজাতে ঢাক বাজাতে আসে। কিন্তু এসে দেখেন অন্য এক বিপত্তি ৷ এই বছরে দুর্গা পূজার বোধন এবং সন্ধি পুজোর আরতির জন্য অগ্নিশ্বরের ছেলেরা মাইকে রেকর্ড করা ঢাকের বাজনার ব্যবস্থা করে। অগ্নিশ্বর তাই তিলককে, তার অপ্রয়োজনিয়তার কথা বলে ৷ পাশাপাশি কিছু টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বলে।
এই ঘটনায় তিলক ঢাকি নিজের কাছে খুব অপমানিত বোধ করে। সে স্থির করে সন্ধি পুজোর সময়, ওই মাইকের ঢাকের বাজনার সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে, ঢাক বাজনোর প্রতিযোগিতা শুরু করবে। শুরু হয় যন্ত্র এবং মানুষের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই। তিলক কি পারবে ওই যন্ত্র দানবকে হারাতে? কিংবা প্রমান করতে পারবে যন্ত্রের থেকে মানুষ অনেক বড় ?

সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো সমস্যাকে পরিচালক রাহুল নিজের সিনেমার গল্প হিসাবে বেছে নিয়েছেন ৷ কারণ হিসাবে তিনি বলেন, "ছোটবেলায় দুর্গাপুজোয় ঢাকিদের আওয়াজ শুনে বড় হয়েছি ৷ মণ্ডপে মণ্ডপে একসঙ্গে কত ঢাকিরা উপস্থিত হত, ঢাক বাজাত, সেই তালে ঝুনুচি নাচ হত ৷ এখন ধীরে ধীরে যন্ত্র সেই আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে ৷" তাঁর কথায়, বর্তমান সময় যেদিকে এগোচ্ছে সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা ঢাকির মতো, আর যন্ত্রের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে এআই ৷ কিন্তু এআই দিয়ে যত কাজই এগোক না কেন, তা কি ভালোবাসা বা আবেগকে মেলতে পারবে ? প্রশ্নটা এখানেই ৷
স্বল্পদৈঘ্যের এই গল্প রাহুলের মস্তিষ্কপ্রসূত ৷ তিনি এই সিনেমার রিসার্চে যান পুরুলিয়াতেও ৷ সেখানে তিনি কথা বলেন বিভিন্ন ঢাকিদের সঙ্গে ৷ দেখেন তাঁদের জীবন যাপন ৷ বাস্তব সেই ছবিটাই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর শর্ট ফিল্মে ৷ স্ক্রিনপ্লে ও চিত্রনাট্য লিখেছেন অমল চক্রবর্তী ৷ প্রযোজনা করেছে এ অ্যান্ড এস ফিল্ম প্রোডাকশন, রেড ইনকারনেশন ও প্যারাডক্স এন্টারটেনমেন্ট ৷ মুখ্যচরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই থিয়েটার জগতের মানুষ ৷ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, প্রদীপ দাশগুপ্ত (তিলক ঢাকি), শুভাশিস ঘোষাল (জমিদার অগ্নিশ্বর), সোফিয়া রাউত (তিলক ঢাকির নাতনি), নবাঙ্কুর দাস (তিলক ঢাকির নাতি) ৷
এছাড়াও রয়েছেন, অঙ্কনা দাস, বঙ্কিম বর্মন, সৌমেন্দ্র ভট্টাচার্য, সোমা চট্টোপাধ্যায়, মৃন্ময় সরকার, ববিতা, অঞ্জনা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে ৷ সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব সামলেছেন প্রকাশ কুমার সাউ, ডিওপির দায়িত্ব সামলেছেন মৃণাল মাইতি ৷ আর্ট ডিরেক্টর বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য ৷

